করোনা দাম বৃদ্ধি বন্যায় ঈদেও স্বর্ণের দোকান ক্রেতা শূন্য


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ২৮ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার
করোনা দাম বৃদ্ধি বন্যায় ঈদেও স্বর্ণের দোকান ক্রেতা শূন্য

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যেও বেচাকেনা নেই অলস সময় কাটাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। করোনা ভাইরাসের প্রভাব, কয়েক দফা দাম বৃদ্ধি ও সর্বশেষ দেশজুড়ে বন্যায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে দাবি ব্যবসায়ীদের। কবে এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কিছুই বলতে পারছেন না তারা।

২৭ জুলাই সোমবার বিকেলে সরেজমিনে মিনাবাজারের মৃধা অলংকার প্লাজা স্বর্ণের মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, ৩০ থেকে ৩৫টি দোকান থাকলেও একটিতেও ক্রেতা নেই। এ ঈদের সময় যখন বেচাকেনায় ভীড় থাকে সেখানে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও টিভি দেখে কিংবা পত্রিকা পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী দোকানের বাইরে হাটাহাটি করছেন।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার গত ২৫ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্বর্ণের দোকান প্রায় দুই মাস বন্ধ ছিল। এছাড়া বাইরের দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

তাছাড়া শিল্পকারখানা, গার্মেন্ট সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত সব কিছু বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পরে অনেক মানুষ। ফলে স্বর্ণে চাহিদা কমে আসে। কিন্তু চাহিদা কমলেও উল্টো স্বর্ণের দাম কয়েক দফা বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ‘গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ৫৯ হাজার, ২১ ক্যারেট ৫৬ হাজার ও ১৮ ক্যারেট ৫১ হাজার। কিন্তু কয়েক দফায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি দাম বাড়িয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সাড়ে ৭২ হাজার, ২১ ক্যারেট সাড়ে ৬৯ হাজার ও ১৮ ক্যারেট ৬০ হাজার ৫০০ এবং সনাতন ৫০ হাজার ৫০০।’

এদিকে দেশজুড়ে বন্যা দেখা দেয়। যা বর্তমানে স্থিতিশীল পরিস্থিতি রয়েছে। কখনো কমলেও আবার বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে গ্রাম অঞ্চলেও অনেক মানুষ বেকার হয়ে পরেন। ফলে মানুষের মধ্যে অভাব দেখা দেয়।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘ঈদের সময়ে প্রতিদিন দোকানে ক্রেতাদের ভীড় লেগেই থাকতো। প্রতি দোকানেই বেঁচাকেনার একটি ধুম থাকতো। কিন্তু এবার সব দোকান খালি। সারাদিনে একটিও ক্রেতা আসে না। অনেক দোকান আছে গত কয়েকদিন ধরে এক টাকাও বিক্রি করেনি। এভাবে চলতে থাকলে দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।’

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘স্বর্ণে দাম বৃদ্ধি পেলে অনেকেইভাবে আমাদের জন্য ভালো। কিন্তু কথাটা মোটেও সত্য না। কারণ দাম বাড়লে বেচাকেনা কমে যায়। তাই সকল ব্যবসায়ী দাম কমানোর অপেক্ষায় আছে।’

খন্দকার জুয়েলার্স এর পরিচালক লিটন খন্দকার বলেন, ‘স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, করোনা ও বন্যার জন্য বেচাকেনা নেই। যেখানে মাসে ৩০ ভরি স্বর্ণ বিক্রি হতো সেখানে বর্তমানে শূন্যের কোঠায়। এ পরিস্থিতিতে দোকান খোলা রাখলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। মূলত এখন কেউ স্বর্ণ কিনতে আসে না। বরং বিক্রি করছে বেশি। আজকেও স্বর্ণ কিনেছি। কারণ অনেকেরই কাজ নেই তারা তাদের স্বর্ণ বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘দাম বেশি হলেও বিয়ে বা অনুষ্ঠানাদির জন্য স্বর্ণ কিনতে আসতো কিন্তু সেগুলোও বন্ধ। তাছাড়া যারা শখের বর্শবর্তী হয়ে কিনতেন, তাদেরও এখন দেখা যায় না। আর যে দুইজন ক্রেতা জরুরী প্রয়োজনে আসেন তারাও চাহিদার তুলনায় অনেক কম কিনেন।’

লিটন খন্দকার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গেই স্বর্ণের দাম উঠানামা করে। তাই কবে স্বর্ণের দাম স্বাভাবিক হবে সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা চাই স্বর্ণের দাম কমে আসুক। তবেই আমাদের বেচাকেনা হবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর