নারায়ণগঞ্জ কলেজে চোখের জলে প্রয়াত রোকসানা করিমকে স্মরণ


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, ০৭ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার
নারায়ণগঞ্জ কলেজে চোখের জলে প্রয়াত রোকসানা করিমকে স্মরণ

চোখের নোনা জল ফেলে নারায়ণগঞ্জ কলেজের ইংরেজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রোকসানা করিমকে স্মরণ করেছে কলেজের ছাত্র ছাত্রী শিক্ষক ও গভর্নিংবডির সদস্যরা।

৭ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টায় কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গভর্নিংবডির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য রোকসানা করিমের স্মরণে নারায়ণগঞ্জ কলেজের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় রোকসানা করিমের ১৭ বছরে কলেজে শিক্ষক পরিচালনা স্মরণে উপস্থিত সকলে কেঁদে কেঁদে আবেগে চোখের জল ফেলে।

স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ কলেজের গভর্নিংবডি সদস্য এ এম মোস্তফা কামাল, আব্দুর রহমান, মো. কামরুল হাসান মুন্না, ইউসুফ বিন ইউসুফ পাপ্পু, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক রুমন রেজা, শিক্ষক আরিফ মিহির, ইংরেজী বিভাগের প্রধান মো. ফারুক মিয়া, ইসলামী বিভাগের প্রধান ডা. মো: ইব্রাহিম আজাদ, রোকসানা করিমের স্বামী হাসিব মোর্শেদ বাবু, বড় বোন খোদেজা করিম, ছোট বোন ফাজিয়া করিম ও ক্রীড়া সংগঠক আলেয়া সারোয়ার প্রমুখ।

কলেজের শিক্ষক আরিফ মিহির বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জ কলেজে ২০০০ সালের ১৭আগস্ট রোকসানা করিমকে নিয়ে যোগ দিয়েছি। তখন থেকে তার সাথে মৃত্যু আগ পর্যন্ত কখনো কড়া কথা শুনি নাই। প্রতিনিয়ত তিনি হাসি খুশী রয়েছে কখনো কষ্টকে চেহারায় আনতে দেয় নাই। রোকসানা করিম মৃত্যুর আগে অসুস্থতা কারণে কেঁদে বলেছিল, আমার মৃত্যুর পর আমার জামাগুলো আমার কলেজে বান্ধবীদের মাঝে বিলিয়ে দিবে। জমি জায়গা সম্পদ আমার পরিবারের সদস্যকে বুঝিয়ে দিবে। আমার স্বামী তো বিদেশ থাকে, ছেলে পরীক্ষা অক্টোবর মাসে, মনে হয় আমি হয় মরে যাবো।’

রোকসানা করিমের বড় বোন খোদেজা করিম বলেছেন, ‘রোকসানা নারায়ণগঞ্জ কলেজে শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছে পরিবারের জন্য নয়, তার খুশী জন্য কাজ করেছে। তিনি কখনো কলেজের বিষয়ে আমাকে খারাপ মন্তব্য করেনি। বরং ঘণ্টা কথা বললে আধা ঘণ্টার বেশি কলেজের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছে। রোকসানা করিম যদি কোন কারণে কোন অপরাধ হয়ে থাকে, মাফ করে দিবেন। আপনারা যে তারা কত ভালবাসতেন তা আজ স্ব চোখে দেখলাম। নারায়ণগঞ্জ কলেজ ছিল রোকসানা দ্বিতীয় সংসার, যেখানে ও কখনো দুঃখ কষ্ট বুঝতেন না।

গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ কামরুল হাসান মুন্না বলেছেন, রোকসানা আপা কখনো কাউকে ছোট করে দেখতেন না। সবাইকে হাসি খুশি ভাবে বলতেন। আমার বোনের বান্ধবী ছিলেন তিনি। জানার পর থেকে তাকে আমি বড় বোনের মত আপা বলে ডাকতাম। এমপি সেলিম ওসমান তার সফলতা কামনা করে সব সময় বলতো, রোকসানা আসলেই প্রাণচাঞ্চল্য শিক্ষক। তাঁকে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভাবমূর্তি হবে, কিন্তু তিনি চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। রোকনাসা করিমের বড় বোনের ক্ষমা চাওয়া বিষয়ে বলতে চাই। রোকসানা আপা কলেজের অপরাধ করেছে, সে সকলের মনে মাঝে বসে গেছে।

গত রোববার (১ অক্টোবর) রাত ৮টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান পোস্ট গ্র্যাজুয়েট হাসপাতালে (পিজি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
শিক্ষাঙ্গন এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর