paradise

শিক্ষকরাই জানেন না জিপিএ ৫ কি : এডিসি রেজাউল বারী


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শনিবার
শিক্ষকরাই জানেন না জিপিএ ৫ কি : এডিসি রেজাউল বারী

‘প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা এখনো জানেন না তাদের বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পরীক্ষার নাম কী। শিক্ষকরাই জানেন না এ প্লাস কি, জিপিএ-৫ কি। হাই স্কুলের শিক্ষকেরা অভিযোগ করেন প্রাইমারি স্কুলের ছাত্ররা হাই স্কুলে ভর্তি হলে তারা  অ, ই, ঈ, উ পারে না। তারা বলে ‘অ, ই, ঈ, উ না পারলে কি শিখাব।’ এমনটা হলে আমরা এগোতে পারব না।’

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০১৮ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজাউল বারী।

শনিবার ৮ সেপ্টেম্বর সকাল সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে ডিসির কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালি বের করে জেলা প্রশাসক ও জেলা উনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। র‌্যালি শেষে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় তিনি আরো বলেন, আমরা যদি শুদ্ধভাবে আমাদের মাতৃভাষায় কথা না বলতে পারি তবে কিসের শিক্ষিত। আমাদের মাতৃভাষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমার কথা শুনে যদি বুঝতে পারে আমি কোন জেলার মানুষ, তবে বুঝতে হবে আমি শিক্ষিত না। মাতৃভাষা আমাকে এমন ভাবেই আয়ত্ব করতে হবে যাতে আমার কথা শুনে কেউ বুঝতে না পারে আমি কোন জেলার মানুষ।

এসময় তিনি আরো বলেন, বর্তমানে শিক্ষা একটা ব্যবসা হয়ে গেছে। শিক্ষকরা এটাকে ব্যবসা বানিয়ে ফেলেছে। তাদেরকে নাকি কেউ সম্মান করে না। সম্মান করবে কি করে? সম্মান কেউ দেয় না। শিক্ষকদেরকে নিজেদের সম্মান অর্জন করে নিতে হবে। আপনি যদি আপনার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করেন তবে সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সবাই আপনাদের সম্মান করবে। এক সময় শিক্ষকরা একটা ধমক দিলে কারো কিছু বলার সাহস ছিল না। কিন্তু এখন আর তা নেই। এর কারণ কী। কারণ তারা তাদের কাজ ঠিকমত করে না। শিক্ষকরা যখন ক্লাসে থাকে তখন তারা ঝিমায়, আবার যখন কোচিংয়ে যায় তখন তারা অনেক একটিভ। আপনারা যদি মনে করেন আপনার বেতন হালাল করে নেওয়া উচিৎ তবে অবশ্যই মনযোগ দিয়ে পড়াবেন। আমরাওতো পড়াশোনা করেছি। আমাদের শিক্ষকরা আমাদের অনেক পিটাতো। এটা হয়তোবা ঠিক না। তারা হয়তো খুব উচ্চ শিক্ষিত ছিল না। কিন্তু তাদের পড়ানোতে আন্তরিকতায় কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু এখন সার্টিফিকেট অনেক আছে কিন্তু শিক্ষা নেই।

তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যালয়, কলেজ, অনেক প্রতিষ্ঠানে আমি গেছি। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকেই আমি দেখি না আন্তরিকতার সাথে পড়াতে। হয়তো ১ শতাংশ হবে যারা আন্তরিকতার সাথে পড়ায় এর বেশি না। কোচিংয়ের বিরুদ্ধে আইন হচ্ছে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আইনটি পাশ হলে আশা করি তখন আর এমনটা হবে না। এখনো যদি কোনো শিক্ষক ক্লাসে না পড়িয়ে কোচিংয়ে পড়িয়ে ধরা পরে তবে তার চাকরি থাকবে না।

উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেলিম রেজা, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা বিনা সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর