rabbhaban

গুজব এড়াতে প্রচারণায় পুলিশ প্রশাসন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২৮ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার
গুজব এড়াতে প্রচারণায় পুলিশ প্রশাসন

সারাদেশের মত নারায়ণগঞ্জেও ছেলে ধরা গুজবে গণপিটুনির নানা চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে গণপিটুনির শিকার হওয়া ব্যক্তিরা নির্দোষ বলে জানিয়েছেন পুলিশ সূত্র। তাছাড়া এ জেলায় ছেলে ধরা সন্দেহে ৮ জনকে গণপিটুনি দেয়া হয় যার মধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর ফলে গুজব এড়াতে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুজবের এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপগুলো প্রশংসনীয় বলে সকলের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা পাচ্ছে। কারণ এর আগে পুলিশ প্রশাসনকে এতোটা তৎপর হতে কখনো দেখা যায়নি।

জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন-স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, ধর্মীয় উপাসনালয় যেমন-মসজিদ, মন্দির, গির্জা সহ বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় ছেলে ধরা গুজব এড়াতে পুলিশ প্রশাসন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাইকিং করে পুরো জেলার সমস্ত অলি গলিতে প্রচারণা চালানো হয়।

জানাগেছে, গত কয়েকদিনের ব্যবাধানে সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জ জেলায় ছেলে ধরা গুজবের ফলে গণপিটুনির শিকার হয়েছে ৮ জন। পদ্মা সেতুর জন্য শিশুর মাথা লাগবে এমন গুজবে ছেলে ধরা সন্দেহে এক বাক প্রতিবন্ধী প্রাণ হারিয়েছে। গত কয়েকদিনে ছেলেধরা সন্দেহে সাত ব্যক্তির মধ্যে ৫ জন বাক প্রতিবন্ধী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ২০ জুলাই শনিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজ পাগলাবাড়ির সামনে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মো. সিরাজ (২৮) নামের এক বাক-প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিহত হন।

একই দিনে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী শাপলা চত্বর এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে শারমিন (২০) নামে এক নারীকে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ তাকে আটক দেখিয়ে চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে মাইকিংয়ের পাশাপাশি লিফলেট বিলি করেও গণসচেতনা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। লিফলেটে বলা আছে ‘ছেলেধরা নিছকই একটি গুজব। এই গুজবে কান দিয়ে আইন হাতে তুলে নেয়া দ-নীয় অপরাধ। তাই কেউ আইন হাতে তুলে নিবেন না। সন্দেহ হলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ রইলো।’

২৩ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের সামনে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ছেলেধরাকে কেন্দ্র করে গুজবের বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, “আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং করেছি যে, ছেলেধরাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। ছেলেধরাকে কেন্দ্র করে কেউ গুজব ছড়ালে সেই গুজবে কান দেবেন না। যারাই এ ঘটনায় শিকার হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধী।”

২৫ জুলাই ফতুল্লার বক্তবলীর কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ওসি আসলাম হোসেন মতবিনিময় করে বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে একটি চক্র সারা দেশে ছেলেধরা গুজব ছড়াচ্ছে। ছেলেধরা বলতে আসলে কোন ঘটনা না। তাই গুজবে কান না দিয়ে কাউকে সন্দেহ হলে আগে লোকটির বিষয়ে খোজখবর নিতে হবে। আর তাৎক্ষনিক ভাবে পুলিশকে অবগত করতে হবে।

২৪ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের স্কুলে স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে সচেতনা মূলক প্রচারণার সময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, কাউকে ছেলে ধরা হিসেবে সন্দেহ হলে ৯৯৯ এ কল করে জানাবেন। অথবা থানা পুলিশের হাতে তুলে দিন।

২৩ জুলাই মঙ্গলবার চাষাঢ়াস্থ বাগে জান্নাত মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষে চাষাঢ়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মিজানুর রহমান মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গুজবে কান দিবেন না। গুজবের কারণে ভালো মানুষেরও প্রাণনাশের ঘটনা ঘটছে। গুজবের কারণে অনেকে বিপদে পড়ছে। তাই গুজবে কেউ কান দিবেন না এর্ব গুজব কেউ ছড়াবেন না।’

সূত্র বলছে, জুমার নামাজের খুতবা সহ ওয়াক্তের নামাজের সময় পুলিশ কর্মকর্তারা বিভিন্ন মসজিদে দিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া প্রত্যেক এলাকায় এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি লিফলেট সহ নানা মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিনো হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর