rabbhaban

গিরিধারার সেই স্কুলটি রক্ষায় এসপির কাছে আবেদন


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:২৯ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
গিরিধারার সেই স্কুলটি রক্ষায় এসপির কাছে আবেদন

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ভূইগড় গিরিধারায় আবাসিক এলাকায় রমজান আলী চিশতি উচ্চ বিদ্যালয়টি রক্ষায় বাংলার সিংহাম খ্যাত পুলিশ সুপার মো: হারুন অর রশিদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন গিরিধারা পঞ্চায়েত কমিটির সেক্রেটারী ও স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি হাজী শাহাদাৎ চৌধুরী। এসপির কাছে দেয়া অভিযোগে মো: আনিসুর রহমান মৃধা, দাদন আকন্দ, আব্দুল হালিম, আতাউর রহমান, নূর হোসেনসহ আরো কয়েকজনের নেতৃত্বে স্কুলটি দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে পুলিশের একজন পরিদর্শককে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ভূইগড় গিরিধারায় আবাসিক এলাকায় রমজান আলী চিশতি উচ্চ বিদ্যালয়টি ফের বেদখল হয়ে পড়েছে। কিছুদিন পূর্বে আনিছুর রহমান মৃধা গং স্কুলটির অবকাঠামো ভেঙ্গে সেখানে আবারো কারখানা ভাড়া দেয়ার পায়তারা করে। পরে গিরিধারা পঞ্চায়েত কমিটির সেক্রেটারী ও স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি হাজী শাহাদাৎ চৌধুরী নারায়ণগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

অভিযোগে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ২৯ আগষ্ট ফতুল্লার ভূইগড় গিরিধারা আবাসিক এলাকায় রমজান আলী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে সাড়ে ৭ শতাংশ জমি দান করে দলিল (নং ৪২৪০) সম্পাদন করেন ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম চৌধুরী। এরপর জনগণের আর্থিক সহযোগিতায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সালে পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম চৌধুরী ১৪ জন শিক্ষককে এমপিও ভুক্ত করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে সবর্মোট ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও তিনি স্কুলটির জমিটি একই এলাকার আনিছুর রহমান মৃধা, দাদন আকন, আব্দুল আলিম ও আতাউর রহমানের কাছে বিক্রি করে দিলে তাদের নেতৃত্বে ভূমিদস্যুদের একটি চক্র স্কুলটি দখল করে নেয়। ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর তারা স্কুলটির অবকাঠামো দখল করে নিয়ে টেবিল বেঞ্চসহ সকল আসবাবপত্র লুটে নেয় এবং স্কুলটির সাইনবোর্ড মুছে ফেলে সেখানে ক্রয়সূত্রে মালিক উল্লেখ করে তাদের নামের সাইনবোর্ড সাটিয়ে দেয়। স্কুলটির ভবন বেদখল হয়ে পড়ায় শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ১২০ জন শিক্ষার্থীর। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা পরিষদের ইউএনও, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ দেয়া হলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং চলতে থাকা ভূমিদস্যুদের চোখ রাঙ্গানী ও হুমকী ধমকী। এছাড়া অভিযোগকারী স্কুল পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি হাজী শাহাদাত চৌধুরীকেই ভূমিদস্যু বানানোর চেষ্টা করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্কুলটির পক্ষে বাদি হয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা (সিআর ১২৩/২০১৭) দায়ের করেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি হাজী শাহাদাত চৌধুরী। মামলার আসামীরা হলেন, স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সেলিম চৌধুরী, স্কুলের জমি দখলে নেয়া আনিছুর রহমান মৃধা, দাদন আকন, মোঃ আলীম, আতাউর রহমান, কামাল হোসেন, নাজমুল আলম ও ইউসুফ মিয়া।

ওই মামলা দায়েরের পরদিন ৬ নভেম্বর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে স্কুল ভবনটি দখল করে গড়ে তোলা কারখানা উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয় ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে স্কুল ভবনটিতে ভাড়া দেয়া ৮টি হোসিয়ারী কারখানা উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া স্কুলটির ভবনে ভূমিদস্যুদের সাইনবোর্ডও মুছে ফেলা হয়। পরে স্কুল ভবনটির শ্রেনিকক্ষ গুলো দখলমুক্ত করে তালা লাগিয়ে চাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

পরে স্কুলটি পরিদর্শনে যান তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। এরপর ২৫ নভেম্বর দুপুরে ফিতা কেটে স্কুলটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, গিরিধারা পঞ্চায়েত কমিটির সেক্রেটারী ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি হাজী শাহাদাৎ চৌধুরী, আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন চৌধুরী, মাতুয়াইল ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শামীম, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সেক্রেটারী নূরে আলম, শহিদুল ইসলাম ফারুক, হাজী মোঃ জলিল প্রমুখ।

গিরিধারা পঞ্চায়েত কমিটির সেক্রেটারী ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি হাজী শাহাদাৎ চৌধুরী তৎকালে জানিয়েছিলেন, নতুন বছরে স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য লিফলেট ছাপানো ছাড়াও মাইকিং চলছে। তবে ভূমিদস্যুরা স্কুলটির ৪টি স্টিলের আলমারি, আলমারির ভেতরে ও বাহিরে স্কুলের প্রয়োজনীয় দালিলিক কাগজপত্র, ৮০ জোড়া বেঞ্চ, ২০টি চেয়ার, ১৫টি টেবিল, ২টি স্কুলের নাম লেখা স্টিলের সাইনবোর্ড সহ অসংখ্য মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিয়েছিল। স্কুলটির লুটে নেয়া আসবাবপত্র এখনো ফেরত না পাওয়ায় আমরা নতুন বছরে স্কুলটি চালু করা নিয়ে সংশয়ে রয়েছি।

এদিকে হাজী শাহাদাৎ চৌধুরীর সেই আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত সত্যিই হয়। স্কুলটির লুটে নেয়া আসবাবপত্র ফেরত না দেয়ায় এবং স্থানীয় গণমান্যরা কেউই এগিয়ে না আসায় স্কুলটি আর চালু করা যায়নি। ফলে অবকাঠামো থাকলেও ছিলনা কোন শিক্ষার্থী। আর এ সুযোগে সম্প্রতি স্কুলটির অবকাঠামো ভেঙ্গে সেখানে আবারো কারখানা ভাড়া দেয়ার পায়তারা শুরু করে আনিছুর রহমান মৃধা গং।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে বাদি হয়ে আনিছুর রহমান মৃধা গংদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী গং। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতের বিচারক শফিকুল ইসলাম স্কুলের অবকাঠামো ভাংচুর করে নিশ্চিহ্ন করতে না পারে বা বেদখল এবং অন্যত্র হস্তান্তর এবং আকার ও আকৃতি পরিবর্তন করতে না পারে তৎমর্মে অস্থায়ী অর্ন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
শিক্ষাঙ্গন এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর