rabbhaban

কাদামাখা খোলা মাঠে পাঠদান


রূপগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৩১ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
কাদামাখা খোলা মাঠে পাঠদান

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিদ্যালয়ের জমি নিজেদের দাবি করে সেখানে ঘর তুলতে দিচ্ছেন না স্থাণীয় একটি মহল। এ কারনে চলতি ঘূর্নিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়াতে খোলা মাঠেই পাঠদান কার্যক্রম চলছে সেখানে। গুড়ি বৃষ্টি আর কাদামাখা খোলামাঠে ক্লাশ নেয়ার কারনে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলেও পাঠাচ্ছেন না। উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার হাটাব টেকপাড়া এলাকার হাটাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে এই ঘটনা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান মোল্লা জানান, ৯৭ বছর পূর্বে ৫২ নং হাটাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। হাটাব টেকপাড়া এলাকার সমাজসেবক আইনুদ্দিন ওরফে আনু প্রধান বিদ্যালয়ের জন্য কাঞ্চন মৌজার আরএস ৬৩৬৪ দাগে ৩০ শতাংশ জমি ওয়াক্ফামূলে দান করেন।

পরে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী আরো সাড়ে ৭ শতাংশ ও বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি কামালউদ্দিন আহমেদ ১৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়কে দান করেন।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪‘শ জন। দুটি আলাদা ভবনে ৬টি শ্রেনী কক্ষ থাকলেও পুরাতন ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরায় দু‘বছর পূর্বে সেটি ভেঙ্গে অস্থায়ীভাবে পাশে বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শ্রেনীকক্ষ নির্মান করা হয়। চলতি বছর বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানের জন্য সরকারীভাবে ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ আসে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মুন্না এন্টারপ্রাইজ কাজ শুরু করতে চাইলে স্কুল কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী শেডটি ভেঙ্গে দেয়।

সেখানে পাকা ভবন নির্মানের কাজ শুরু করতে চাইলে একই এলাকার সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুকুল হোসেন, কবির হোসেন, মিলন, দুলালসহ সংঘবদ্ধ একটি দল স্কুলের ৩০ শতাংশ জমি নিজেদের দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দেন।

এ কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ আপত্তি করা সম্পত্তির বাইরে পাকা ভবন তৈরী করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্ত আপাতত ক্লাশ করার জন্য ভেঙ্গে ফেলা ভবনের জায়গায় একটি শেড করতে চাইলে সেটাতেও বাধা দেন চক্রটি। এ কারনে চলতি ঘূর্নিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়াতেও খোলা মাঠেই শিশু, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চানালো হচ্ছে সে স্কুলে। গুড়ি বৃষ্টি আর কাদামাখা খোলামাঠে ক্লাশ করানোর কারনে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলেও পাঠাচ্ছেন না।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য আতিকুর রহমান দোলন বলেন, আরএস রেকর্ডমূলে স্কুলের নামে সাড়ে পঞ্চাশ শতাংশ জমি রয়েছে। এছাড়া সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম প্রায় ২৫ বছর স্কুলের সভাপতি ছিলেন। আর এক‘শ বছর যাবত জমিতে স্কুল রয়েছে কখনোই তারা জমি দাবি করেননি। এখন তারা ভবন নির্মানের কাজ বন্ধ করে জমি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টায় আছেন।

জমির মালিকানা দাবীদার মুকুল হোসেন বলেন, আরএস রেকর্ডে স্কুলের নাম থাকলেও সিএস ও এসএ পর্চায় আমাদের পূর্বপুরুষের নাম রয়েছে। জমি আনু প্রধানের না, আমাদের। ন্যায় বিচারের আশায় আমরা আদালতে মামলা করেছি। মামলায় যে রায় আসবে সেটা আমরা মেনে নিবো।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদা আক্তার বলেন, স্থানীয় কিছু ব্যাক্তি স্কুলের জমি তারা তাদের নিজের বলে দাবী করছেন। সেজন্য জমির দাবীদাররা সেখানে নতুন ভবন করতে দিচ্ছে না। খোলা আকাশের নিচে ক্লাশ করানোর বিষয়টা খুবই দুঃখ জনক। আমি বিষয়টি দেখছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্র্তা মমতাজ বেগম বলেন, শিশুরা খোলা মাঠে পাঠদান করছে সে ব্যাপারে আমাকে কেউ বলেনি। আর শিশুরা খোলা মাঠে ক্লাশ করবে সেটা কোন ভাবে মানতে পারছিনা। আমি এ ব্যাপারে খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর