জেএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত রাসেল পার্ক


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
জেএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত রাসেল পার্ক

ধনী জেলা নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে বিনোদনের জায়গা বলতে নগরবাসী পেয়েছে শেখ রাসেল নগর পার্ক। যদিও বেশিদিন হয়নি এটি নারায়ণগঞ্জবাসী পেয়েছে। কিন্তু একমাত্র জায়গাটি পেতেও নারায়নগঞ্জবাসীকে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। জনসাধারণের জন্য এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত না হলেও উন্মুক্ত হওয়া পার্কের একাংশই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সকলের মাঝে। তারই প্রমাণ পাওয়া গেলো এবার জেএসসি পরীক্ষার সময় পার্কে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে।

গত ১ নভেম্বর থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া জেএসসি পরীক্ষার ১২ নভেম্বর ছিল বিজ্ঞান পরীক্ষা। নির্ধারিত সময় সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জের অন্যতম পরীক্ষা কেন্দ্র মর্গ্যান গার্লস স্কুলে জেএসসি পরীক্ষা দিতে আসে পরীক্ষার্থীরা। এসব পরীক্ষার্থীদের সাথে আসেন তাঁদের অভিভাবকেরা। কিন্তু স্কুলের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের বসার জায়গার ব্যবস্থা না থাকায় অভিভাবকদের জন্য বসার একমাত্র জায়গায় পরিণত হয় স্কুলের পাশে অবস্থিত শেখ রাসেল নগর পার্ক। সকাল থেকে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে পার্কটি। গাছের ছায়ার বসে নিরিবিলি পরিবেশে গল্পগুজবে কেটে জায় অভিভাবকদের সময়। আর সেই গল্পে অধিকাংশ জুড়ে থাকে শেখ রাসেল পার্কের সৌন্দর্য আর এর প্রশংসা নিয়ে।

এ প্রসঙ্গে অভিভাবকদের একজন আসমা খাতুন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘জিমখানা পার্কের (শেখ রাসেল পার্ক) প্রশংসা অনেক শুনেছি। কিন্তু এবার মেয়েকে পরীক্ষা কেন্দ্রে এনে প্রথম দেখলাম। নারায়ণগঞ্জে এত একটা জায়গা আছে আমি ভাবতেই পারিনি। প্রথম দিন পরীক্ষার হলে আনার আগে ভেবেছিলাম পরীক্ষার হলে দিয়ে বাসায় চলে যাব। আবার পরীক্ষা শেষ হলে নিতে আসব। কিন্তু এত সুন্দর জায়গা দেখে আর বাসায় যাইনি। প্রতিদিন মেয়েকে পরীক্ষার হলে দিয়ে এখানে বসে অন্যান্য অভিভাবকের সাথে গল্প করি। কিভাবে যে সময় চলে যায় বুঝা যায় না।’’

আসমা খাতুনের পাশেই বসে থাকা রাবেয়া বেগম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘আগে এই এলাকায় থাকতাম। তখন এখানে বস্তি ছিল আর ময়লা ফেলার ডাস্টবিন ছিল। কিন্তু এখন জায়গাটা কত সুন্দর। দেখে মন জুড়িয়ে জায়। পাশেই আমার ভাইয়ের বাসায় মেয়েকে নিয়ে মাঝে মাঝে ঘুড়তে আসি। খুব ভালো লাগে। জায়গাটা অনেক উপভোগ করি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘কয়েকদিন আগে খবরে দেখলাম পার্ক নাকি ভেঙ্গে দিবে। কারণ এটা রেলের জায়গা। কিন্তু আমিতো রেলের কোনো কাজ এখানে দেখতে পাচ্ছি না। রেলের কাছে থাকা অবস্থায় এলাকার যে অবস্থা ছিল এখন পুরো চেহারাই বদলে গেছে। এত সুন্দর একটা পার্ক নারায়ণগঞ্জের আর কোথাও আছে বলে আমার মনে হয় না। শহরে যে দুইএকটা পার্ক তৈরী করা হয়েছে সেখানে প্রবেশ করতে টাকা লাগে। ফলে ইচ্ছা করলেই যেতে পারি না। নারায়ণগঞ্জের মানুষের শ্বাস ফেলার একমাত্র জায়গায় পরিণত হয়েছে এই পার্কটি। তাই সকল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করব আপনারা যেহেতু জনগনের কল্যাণে কাজ করেন। আমাদের কল্যাণ এই পার্কের মধ্যেই আছে। তাই এটা ভেঙ্গে ফেলার পরিকল্পনা বদি দিয়ে এটাকে আরো সুন্দর কিভাবে করা যায় সেই ব্যবস্থা করলে নারায়ণগঞ্জবাসীর মঙ্গল হবে।’’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর