বার একাডেমিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে লুকোচুরি


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
বার একাডেমিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে লুকোচুরি

নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমী স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

১৪ ডিসেম্বর শনিবার সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দিনে আবেদনকারীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বার একাডেমী স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হলেও স্কুলেরই অনেকেই জানেন না। স্কুলে প্রবেশ করে অফিসের এক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন কবে পরীক্ষা হয়েছে? পরবর্তীতে তাকে পরীক্ষার কথা বলা হলে, তিনি বলেন, আমাদের স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হচ্ছে, আর আমরা জানি না।

অভিযোগকারীদের সূত্রে জানা যায়, পত্রিকায় দেয়া বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের প্রায় ৯ জন আবেদন করেছিলেন। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মের অনুসরণ করা হয়নি। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও পরবর্র্তীতে স্কুল কর্তৃপক্ষ দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। আবেদনকারীদের নিয়োগ পরীক্ষার ১০ থেকে ১৫ দিন আগে চিঠি দেয়ার কথা থাকলেও এখানে কাউকে চিঠি দেয়া হয়নি। শুধুমাত্র পরীক্ষার আগের দিন রাত্রে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেন কাল পরীক্ষা। কারও কারও বেলায় সেই নিয়মও রক্ষা করা হয়নি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষকের জন্য ৯ শিক্ষক আবেদন করেছিলেন। এদের মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ৬ জন। এরা হলেন বার একাডেমী স্কুলের শিক্ষক ইকবাল হোসেন, কমর আলী স্কুলের শিক্ষক পারভীন, হরিহরপাড়া স্কুলের শিক্ষক নুরুল ইসলাম, কানাইনগর স্কুলের শিক্ষক নিতাই রায়, বার একাডেমী স্কুলের শিক্ষক আব্দুল মতিন ও সৈয়দপুর স্কুলের শিক্ষক মোশারফ হোসেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবেদনকারীদের মধ্যে একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, তাদেরকে কোন চিঠি দেয়া হয়নি। শুধুমাত্র পরীক্ষার আগের দিন রাত্রে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছেন শনিবার তাদের পরীক্ষা। এইজন্য অনেকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।

পরবর্তীতে তাদের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, তিনিই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। তাকে রাত্রে ফোন করে জানানো হয়েছে। তাই তিনি অংশগ্রহণ করেননি। এরকম প্রহসনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তার কোনো ইচ্ছা নেই। ঠিক একইভাবে আরও অনেকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।

নান প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের এক শিক্ষক জানান, এই স্কুলের অনেক অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে সাহস করেন না। যদি কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করেন তাহলে তাকে সাসপেন্ড  হতে হয়। অতীতে অনেকেই প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাসপেন্ড হয়েছেন। আর তাই চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে চান না।

এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির জানান, আসলে কেউ কারও ভাল চাড না। আর এজন্যই হয়তো কেউ কেউ টাকা বিনিময়ের অভিযোগ করেছেন। তবে তাদের এই অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। এটার কোনো ভিত্তি নেই।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি স্কুল হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমী। শত বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জ শহরে শিক্ষার সুনাম ছড়িয়ে আসছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালেখা করে বর্তমানে অনেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় এই প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জ সহ সরাদেশব্যাপীই সুনাম ছিল। কিন্তু বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমী গুটি কয়েকজন লোকের লুটপাটের কারখানা হিসেবে পরিণত হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা সহ অনেকেই এই স্কুলের মাধ্যমে সুবিধাভোগী হচ্ছেন। তাদের এসকল অনিয়ম সম্পর্কে অনেকের জানা সত্ত্বেও কেউ ভয়ে মুখ খুলছেন না। তারই ধারাবাহিকতায় এবার সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে দুর্নাীতির আশ্রয় নিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর