আড়াইহাজার উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু


আড়াইহাজার করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৪৪ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
আড়াইহাজার উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার শিক্ষা অফিসার রাফেজা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্কুলের অর্থ আত্মসাত করা সহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও স্কুলের শিক্ষকদের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ ৫টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক উক্ত শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলার সাড়ে ৮’শ প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। বেশির ভাগ স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের জিম্মি করে স্কুলের বরাদ্ধের অর্থ সহ বিভিন্ন প্রধান শিক্ষকদের অর্থ আত্মসাত করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার রাফেজা খাতুন। এদের মধ্যে ৫টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপজেলার শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে গত ২৯ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিব আলমকে নির্দেশ দেন। তাকে ২২ ডিসেম্বর সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তের চিঠি পাওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসার রাফেজা খাতুন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের তার অফিসে ডেকে এনে তার পক্ষে সাফাই স্বাক্ষী দেয়ার জন্য বলা হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রধান বিষয়বস্তু হলো উপজেলার ছনপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্ধকৃত ও ব্যায়িত অর্থ পরিশোধ না করা। এছাড়াও অন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকগনের টিএ/ডিএ বাবদ উত্তোলিত অর্থ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ না করে ৪০% নগদে এবং প্রাপ্য নন-এমন শিক্ষকগনের নামে উত্তোলন করে আত্মসাত করা। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১২০ জন শিক্ষকের প্রাপ্তি ও বিনোদন ভাতার ৫০% শিক্ষকের ভাতা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এবং অবশিষ্টগণের ভাতা নগদ উত্তোলন করে ৪০% পরিশোধ করে বাকী অর্থ আত্মসাত করা। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বিদ্যালয় সমূহের আনুসাঙ্গিক বাবদ বরাদ্ধকৃত অর্থ উত্তোলনে ব্যর্থতার ফলে শিক্ষকগণকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা। ২০১৯-১৯ অর্থ বছরে ১২৪ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিজয়ফুল কার্যক্রমের বরাদ্ধকৃত অর্থ উপজেলা নির্বাহী অফিসার থেকে গ্রহন করে বিতরণকালে ৪৪,৬৪০/ আত্মসাত করা। চলতি দায়িত্বে কর্মরত প্রধান শিক্ষকগণের দায়িত্বভাতা উত্তোলনে ব্যর্থতা এবং পূনরায় বরাদ্ধ মঞ্জুরির জন্য শিক্ষক প্রতি ৫০০ টাকা হারে ২২০০০ টাকা সংগ্রহ। আর চিকিৎসা ছুটি, পিআরএল ও পেনশন মঞ্জুরি বাবদ হয়রানী করাসহ অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার রাফেলা খাতুন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার বলেন, গত তিন বছর ধরে আড়াইহাজার উপজেলায় দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই সময়ের মধ্যে উপজেলা সাড়ে ৮’শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বলতে পারবে না কারো কাছ থেকে একটি টাকা নিয়েছি। আমাকে আড়াইহাজার হতে সরানোর জন্য একটি বিশেষ মহল ষড়যন্ত্র করে শিক্ষকদের দিয়ে অভিযোগ দায়ের করানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিব আলম জানান, আড়াইহাজার উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্তের চিঠি পেয়েছি। ২২ ডিসেম্বর সরেজমিনে গিয়ে সকলের উপস্থিতিতে তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর