ক্ষতি জেনেও অনলাইন পাঠদানে উপকার


হাফসা আক্তার | প্রকাশিত: ১০:০৫ পিএম, ০৮ জুলাই ২০২০, বুধবার
ক্ষতি জেনেও অনলাইন পাঠদানে উপকার

করোনা ভাইরাসের কারণে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় প্রভাব পরছে। ফলে এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ইতোমধ্যে অনলাইন ক্লাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে অনলাইনে ক্লাস করতে গিয়ে যে শিক্ষার্থীরা খুব বেশি সুফল ভোগ করছে তাও নয়; জানিয়েছে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা। যদিও শিক্ষকেরা বলছেন করোনার সময়ে এ অনলাইনে অনেক শিক্ষার্থী অন্তত পড়ালেখার রেস থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন না। অনেক উপকৃত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকলেও তারা মনোযোগী থাকে না। অন্যদিকে যে ক্লাসগুলো ফেসবুক লাইভে হয় সেখানে বেশিরভাগ সময়ই শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকেনা। আর কে কে উপস্থিত আছে বা পরবর্তীতে কে কে ক্লাসের ভিডিও দেখেছে অথবা আদৌও তারা দেখছে কিনা তা নিবন্ধন করারও কোনো উপায়ও নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা কতো মনোযোগী বা পড়াশোনাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা বোঝারও কোনো উপায় নেই। বরং উল্টো ঘরের লোকজনদের উপর বাড়তি চাপ বাড়ছে।

অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পাঠ্যসূচি কতটা শেষ করা সম্ভব তা নিয়েও সন্দিহান তারা। নিয়মিত ক্লাসে যে পরিমানে বা যেভাবে ক্লাস করানো হতো তা অনলাইনে সম্ভব নয় বলেও জানান তারা।

এদিকে অনলাইন ক্লাস করতে গিয়ে অনেক সময় ধরে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকে শিক্ষার্থীদের চোখে সমস্যা হওয়ার আশংকাও করছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, ‘অন্যান্য সময়ে এসব যন্ত্র ব্যবহারের সময় কিছুক্ষন পর পর বিরতি নেয়া যায়, কিন্তু অনলাইন ক্লাসে একটানা শিক্ষার্থীদের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এতে তাদের চোখের সমস্যা হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।’

মেহেদি হাসান নামের একজন অভিভাবক জানান, ‘আমার ছেলেকে এ টানা ২০ মিনিটের বেশি কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেই না। সেখানে ওকে এখন ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টাও কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। এমনকি সাধারণ ক্লাসের মতো মনোযোগও দিতে পারছে না। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষকের সাথে ততটা সংযুক্তিও অনুভব করেনা ওরা।’

মামুন হোসেন নামের আরেকজন অভিভাবক জানান, ‘অনলাইন ক্লাসে যে ও খুব বেশি কিছু শিখতে পারছে তাও নয়। ভিডিও কনফারেন্সের ক্লাসগুলোতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালোভাবে সংযোগ স্থাপন করতে পারে না। অন্যদিকে নেটওয়ার্কের সমস্যা তো রয়েছেই। এছাড়া যেই ক্লাসগুলো ফেসবুক লাইভে হয়, সে ক্লাসগুলো চলাকালে আমরা অনেক সময়ই দেখি ৮ থেকে ১০ টি ভিউ হচ্ছে। যা মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যার ৪ ভাগের ১ ভাগও নয়।’

নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ রুমন রেজা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘করোনার এ সংকটময় সময়ে যেহেতু প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ক্লাস করা সম্ভব নয়, সেহেতু আমরা এই বিকল্প উপায় বেছে নিয়েছি যাতে নিয়মিত পড়াশোনা থেকে শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। তবে এখনকার শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক এগিয়ে। আগে থেকেই তারা ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইলের সঙ্গে অনেক সময় কাটায়। যা আসলেই তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে এই সময় ক্লাস নেয়ার আর বিকল্প কোনা উপায় না থাকায় আমাদের অনলাইনে ক্লাস নিতে হচ্ছে।’

বিদ্যানিকেতন হাই স্কুল এবং নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘এই দুর্যোগটা কেটে গেলেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হবে। ফলে আমরা নির্দিষ্ট একটি সিলেবাস তৈরি করে দিয়েছি এবং সে অনুযায়ী ক্লাস করাচ্ছি অনলাইনে। যাতে পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার ঝামেলা পোহাতে না হয়। তাছাড়া এ ধরনের প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার যে শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতিকর তা আমরা জানি। ফলে আমরা অভিভাবকদের অনুরোধ করতে চাই যাতে অপ্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার না করে।’

ক্যামব্রিয়ান স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাইউম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে ক্লাসে মনযোগী থাকে এবং এই সময়ে পড়ালেখাকে গুরুত্ব দেয়, সে কারণে আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়মিত পর্যবেক্ষন করছি। আর তারা যাতে সময়ে সিলেবাস শেষ করতে পারে সে বিষয়েও খেয়াল রাখা হচ্ছে।’

এর আগে করোনার কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে টিভিতে ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে। এরপর গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে ৩১ মে সীমিত পরিসরে অফিস ও গণপরিবহন খুলে দেওয়া হয়েছে।

তবে গত ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস শুধুমাত্র প্রশাসনিক রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে সীমিত আকারে খোলা রাখা যাবে। তবে অসুস্থ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, সন্তান সম্ভবা নারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমও শুরু করা যায়নি। সব মিলে শিক্ষা ব্যবস্থাতেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষ আগামী ১ আগস্ট পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, পবিত্র ঈদ-উল-আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২০ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি। ফলে ঈদের ছুটি পর্যন্ত আপাতত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর