rabbhaban

যাদের হাত ধরে বাংলাদেশের ধনী জেলা নারায়ণগঞ্জ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৮, রবিবার
যাদের হাত ধরে বাংলাদেশের ধনী জেলা নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ জেলা এখন বাংলাদেশের সব চাইতে ধনী জেলা। এই জেলার মানুষদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি বেড়েছে শিক্ষার হার সেই সাথে কমেছে দারিদ্রতার হার। নদীবন্দর কেন্দ্রীক এই জেলার উন্নয়নের পিছনে রয়েছে শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম।

বাংলাদেশের প্রাচীনতম নদী বন্দরগুলোর একটি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর। বন্দর কেন্দ্রীক শহর হওয়ায় এর বিকাশ ঘটেছে অন্যান্য জেলাগুলো থেকে দ্রুত। এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পেয়েছে বাংলাদেশের ধনী জেলার তকমা। গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। যার প্রধান কারণ হচ্ছে নদী বন্দরের মাধ্যমে পণ্য দ্রুত আনা নেওয়া করা। যার প্রথম ধাপ শুরু হয় ঘাটে আসা জাহাজ থেকে পণ্য নামিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো। যে কাজটা করে থাকেন ঘাট শ্রমিকেরা।

তবে সব সময়ের মতই যারা মানুষের চোখের আড়ালে পড়ে যায় তারা হচ্ছে শ্রমিক। মানুষ তাদের খুব কম মনে রাখে। নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রেও তার ভিন্ন নয়। অথচ কোনো একটি দেশ বা যে কোনো জায়গা যতটা উন্নত হয় তার সিংহভাগ সম্ভব হয় শ্রমিকের পরিশ্রম দ্বারাই।

নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে এখনো শ্রমিকেরা কাজ করে। তবে সময়ের সাথে সাথে পাল্টেছে কাজের ধরন। কমেছে আগের তুলনায় কাজের পরিমাণ। কারণ নদী পথের থেকে এখন সড়ক পথেই পণ্য আনা নেওয়া বেশি হয়। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সমৃদ্ধ করতে তাদের ভূমিকা যে সব থেকে বেশি তার কোনো অবকাশ নাই।

নারায়ণগঞ্জ জেলাকে যারা বাংলাদেশের ধনী জেলায় পরিণত করেছেন কথা হয় তাদের কয়েকজনের সাথে। তাদের একজন হচ্ছেন আবু সালেহ। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে পুলিশ লাইনের বাসবাস করেন তিনি। নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, ‘‘দ্ইু বছর হইছে গ্রাম থেইকা শহরে আইছি। শহরে আসার পরে এখানে (ঘাটে) ঘুরতে আইছিলাম। দেখলাম এইখানে সবাই কাজ করতাছে। তখন কোনো কাজ করতাম না। পরে উনাদের সাথে যোগাযোগ করলাম। তারা কাজে রাইখা দিছে। এখন ভালোই আছি।’’

চাঁদপুর থেকে এই ঘাটে কাজ করতে এসেছেন মো সাইফুল। বাবা মা সহ তার পরিবার চাঁদপুরেই থাকে। তিনি ঘাটেই তিরপল দিয়ে তাবু টাঙ্গিয়ে অন্যান্য ঘাট শ্রমিকদের সাথে থাকেন। নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, ‘ট্রলারে কইরা যাই আসে এখানে আমরা সেইগুলা নাময়ে ট্রাকে উঠাই। নির্দিষ্ট কোনো বেতননাই আমাদের। বস্তা প্রতি ৬ টাকা কইরা পাই আমারা। মোটামোটি ভলোই চলে যায়। যদি কাজ থাকে প্রতি দিন ১০০-১২০ বস্তা আমি উঠাইতে পারি। দিনে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার ভালোই চলে।’

এখানে শুধু পুরুষরাই নয়। পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করেন নারীরাও। তবে নারীদের কাজটা একটু সহজ। তাদের কাজ ট্রলারে করে সার, গম কিংবা অন্য যে পণ্য আসে তা বস্তাবন্দি করা। যদিও এই কাজ পুরুষেরাও করে।

প্রায় ১০ বছর ধরে এই কাজের সাথে যুক্ত স্বর্ণা বেগম প্রতিবেদককে জানান, প্রতি বস্তা ভরার জন্য ১ টাকা ৪০ পয়সা দেয়। কাজ করার সময় একটু চাপ থাকেই। কারণ যত বেশি বস্তা ভরতে পারবো তত বেশি টাকা পাবো। কিন্তু কাজে কোনো সমস্যা হয় না। বেশি চাপও দেয় না। বেতনে কাজ করি না তাই ইচ্ছা হইলে আসি না হইলে আসি না। কোনো সমস্যা হয় না।

শ্রমিকদের সরদার আরিফ হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, এখানে শ্রমিকদের কোনো সমস্যা হয় না। শ্রমিকরা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করে। কাজ শেষে প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিন প্রদান করা হয়। আবার কেউ চাইলে মাসে বা সপ্তাহেও প্রদান করা হয়। টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে আমরা কোনো ধরণের সমস্যা করি না। তবে এখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হতো।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর