rabbhaban

চাষাঢ়ায় বেড়েছে প্রকাশ্য ছিনতাই


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ১১ মে ২০১৯, শনিবার
চাষাঢ়ায় বেড়েছে প্রকাশ্য ছিনতাই

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় অহরহ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। সন্ধ্যার পরেই শুরু হয় এই ছিনতাই চক্রের তৎপরতা যা চলতে থাকে ভোর পর্যন্ত। পুলিশের নাকের ডগায় এমন ঘটনা ঘটে চলছে দিনের পর দিন। অসহায় হয়ে পড়েছে যাতায়াতকারীরা। রেহাই পাচ্ছে না পুলিশ সদস্যরাও।

চাষাঢ়ার তিনটি স্পটে সবচেয়ে বেশি এই ঘটনা ঘটে। জিয়া হলের সামনে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড, মহিলা কলেজের সামনে। ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই চক্র সক্রিয় রয়েছে। চলতে থাকা এই অপরাধের লাগাম টেনে ধরতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। থানা-পুলিশের মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই। আবার আক্রান্ত অনেকেই ভয়, ফলাফল না থাকা, অতিরিক্ত ঝামেলা এবং সময়ের অভাবে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করার ক্ষেত্রে অনিহা রয়েছে। তবে যে কয়েকটা অভিযোগ আসে সে বিষয়েও কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি পুলিশকে। বিধায় একের পর এক শিকার হচ্ছে হেঁটে, রিকশায়, সিএনজিতে থাকা যাত্রীরা।

গুলি করে বা ছুরি মেরে, কখনো অস্ত্রের ভয় দেখিয়েই সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেল বা গাড়িতে করে এসে রিকশাযাত্রীদের ব্যাগ ছোঁ মেরে নিয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁচকা টানে পড়ে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা ধরা পড়ছে খুব সামান্য। অভিযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ হলে আমলে নেয় পুলিশ। না হয় তা খাতার মধ্যেই সিমাবদ্ধ থাকে।

চাষাঢ়া দিয়ে চলাচল করেন দীর্ঘদিন থেকে অথচ ছিনতাইয়ের শিকার হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। মানবাধিকারকর্মী আমির হামজা বলেন, ছিনতাই এর হার মামলার সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যাবে না। অপরাধের সংখ্যা কম দেখানোর প্রবণতা থানার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে রয়েছে। তবে পুলিশের তৎপরতার উপর অনেক অপরাধ দমন হয়।

ছিনতাইয়ের শিকার শরিফ জানান, পুলিশ খোয়া যাওয়া জিনিসপত্র তাঁদের হাতে তুলে দেবে এমনটা ভাবতেই পারি না। উপরন্তু থানায় মামলা করলে ‘হেনস্তার’ শিকার হওয়ার ভয় রয়েছে তাঁদের। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলতে কেউ কেউ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তবে সেই ডায়রিতে ছিনতাই উল্লেখ করা যাবে না। করলে সেই জিডি গ্রহণ করে না পুলিশ।

ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গুরুতর যেসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হয়, কেবল সেগুলোর ক্ষেত্রেই পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। আর যেগুলো গণমাধ্যমে আসে না এমন ‘ছোটখাটো’ ছিনতাইয়ের ঘটনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও আঘাতপ্রাপ্ত হন। আতঙ্ক স্থায়ী হয়। অফিস বা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে মানুষ অহরহই এ রকম ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন, কিন্তু থানায় যান না তাঁদের অধিকাংশই। এমন কারণ হিসেবে হারুনের উত্তর, থানা-পুলিশ করে লাভ কী? কিছুই তো হবে না। জিনিসপত্র তো আর ফিরে পাব না।’

ছিনতাইয়ের শিকার হন প্রকাশ মিয়া নামের এক ছাত্র। ছিনতাইকারীরা তাঁর গলায় ছুরি ধরে ব্যাগে থাকা ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও কাগজপত্র নিয়ে যায়। সম্প্রতি রাত ৯টায় মহিলা কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এমন ঘটনা থেকে রেহাই মিলে না পুলিশ সদস্যর। এক নারী কনস্টেবলের কাছে থেকে মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাই হয়েছে চাষাঢ়া খাজা সুপার মার্কেটের সামনে থেকে। ঘটনাটি ঘটে গত ১৪ এপ্রিল রোববার রাত ৮ টায়।

এঘটনায় পুলিশ খবর পেয়ে তুহিন হোসেন (২৭), মো. শহিদুল (৩০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) ও শাহিন (২৮) নামের কয়েক যুবককে গ্রেফতার করে। কিন্তু সেই পুলিশ সদস্যর কোন কিছুই তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই শাসছুজ্জামান জানান, রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ লাইনের এক নারী কনস্টেবল ব্যক্তিগত কাজে শহরের চাষাঢ়ায় আসে। রাত ৮টায় কয়েকজন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে তার সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ২ টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় যদি পুলিশের টনক নড়ে তাহলে শহরবাসী ছিনতাই মুক্ত দিন যাপন করতে পারবে। না হয় ধীরে ধীরে ছিনতাইয়ের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হবে চাষাঢ়াসহ গোটা নগরী।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর