rabbhaban

ইঞ্জিনিয়ারের মা হওয়া হল না রওনক রেহেনার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:৪৪ পিএম, ১৪ মে ২০১৯, মঙ্গলবার
ইঞ্জিনিয়ারের মা হওয়া হল না রওনক রেহেনার

‘মা’ শব্দটি পৃথিবীর মধ্যে সব থেকে সুন্দর ও মধুর একটি বাক্য। সন্তান যেমন মা ডেকে মমতা খুঁজে পায় তেমনি মাও সন্তানের কাছ থেকে ‘মা’ ডাক শুনতে অধির আগ্রহে থাকেন। শত দুঃখ কষ্ট ও অভিমান ভুলে যান সন্তানের মা ডাকের সঙ্গে সঙ্গে। তবে নারায়ণগঞ্জে এমনও মা আছেন যারা এখনও কাঁদেন সন্তানের মা ডাক শোনার জন্য। কেউ এখনও সন্তানের জন্য পথে চেয়ে আছেন আবার কেউ সন্তানের হত্যার বিচার দাবি করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।

১২ মে রোববার ছিল আন্তর্জাতিক ‘মা’ দিবস। এমন দিনটি কেটেছে সন্তান হারানোর বেদনার মধ্যে দিয়ে। আর সেইসব মায়েদের মধ্যে আলোচিত নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর মা রওনক রেহেনা।

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর মা

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি জেলা শাখার আহবায়ক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। সে শহরের চাষাঢ়ায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র ছিল। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তাখান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। নিখোঁজের একদিন পর (৭ মার্চ) এ লেভেল পরীক্ষার রেজাল্টে পদার্থ বিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৭ পেয়েছিল যা সারাদেশে সর্বোচ্চ। এছাড় সে ও লেভেল পরীক্ষাতেও সে পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষাতে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল। পরে ৮ মার্চ সকালে চারারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ত্বকী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ৮জনই পলাতক। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু এ হত্যাকান্ডের ৬ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত এ মামলার অভিযোগ পত্র দেয়া হয়নি।

সেই ত্বকীর মা রওনক রেহানা প্রায় সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে ত্বকীর পুরানো দিনের ছবি আপলোড করেন। এতে অনুভব করা যায় ত্বকী প্রতি মায়ের ভালোবাসা আর তাকে হারিয়ে স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা।

রওনক রেহানা বলেন, ‘একজন সচেতন মা সন্তানের মঙ্গল ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারেন না, সচেতনতার সাথে সাথে একজন মায়ের সক্ষমতা ও পারঙ্গঁমতা জরুরী। অপারগতা ও অক্ষমতা যে ‘মা’ এর জন্য কত কষ্ট আজকে তা আমি প্রতি মুহূর্তে উপলব্ধি করছি। আমার পক্ষে তো আমার সন্তানকে কোন নিরাপদ রাষ্ট্র, নিরাপদ জনপদ দেয়া সম্ভব হল না, এটা আমার, আমাদের মায়েদের অনিবার্য অক্ষমতা।’

তিনি বলেন, ‘আমার পক্ষে তো আমার সন্তানকে সন্ত্রাসমুক্ত শহর, জন্মস্থান দেয়া সম্ভব হলই না। যে জন্মভূমিকে আমি ভালোবাসতে শিখিয়েছি ও ভালোবেসেছে, ভালোবেসে এ দেশের উন্নয়নের আশায় ও বেঁচে থাকতে চেয়েছে, বিদেশ যেতে চায়নি, দেশে থেকে দেশের জন্য ভাবতে, করতে, বাড়তে, চেয়েছে; বলেছে, “মা দেখো আমি এদেশেই একজন বড় স্থপতি-প্রকৌশলী হয়ে তোমাকে দেখাবো, আমি বাংলাদেশের সম্মান রাখবো। কিন্তু দেশের কিছু মানুষরূপ পশু ওর বড় হওয়া বন্ধ করে দিল। আমার আর বড় ইঞ্জিনিয়ারের মা হওয়া হল না।

ত্বকীর মা রওনক রেহানা বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপদ পথচলা কামনা করি মনে প্রাণে। এখন ত্বকী’র জীবনের এক পর্যায় ঘর থেকে বেরিয়ে বৃহৎ জগতে ঘুরে বেড়াবার সময় এসেছিল, আমি ওকে আমার মাতৃছায়ার বন্ধন থেকে আস্তে আস্তে মুক্ত হয়ে পৃথিবীর উন্নয়নের বড় রাস্তায় হাঁটার জন্য এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করতে চাইছিলাম। আমার ত্বকী জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে এই আশায়। এ সময় হতভাগ্য দেশের কিছু শত্রু আমাদের বুক খালি করে ত্বকী`কে নির্মমভাবে হত্যা করল। ত্বকী অর্থ আলো। আমার আলো একদিন ছড়িয়ে যেত সবখানে সবখানে। নির্দয় খুনীর দল তা হতে দিল না। আমাদের সব সস্তানই আমাদের জন্য আলো আজকে ওরা একটি আলো নিভিয়ে দিয়ে যদি পার পেয়ে যায়, আমাদের অন্য আলো সর্বত্র ছড়িয়ে যেতে আমরা কিভাবে আশংকামুক্ত থাকবো!’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর