rabbhaban

ফেসবুকে সক্রিয় ইউএনও’র নজর কম জনদুর্ভোগে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ১২ জুন ২০১৯, বুধবার
ফেসবুকে সক্রিয় ইউএনও’র নজর কম জনদুর্ভোগে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফলে ফতুল্লাকে জেলার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এ অঞ্চলে রয়েছে পোশাক কারখানা, বিভিন্ন কারখানা, স্টিল মিল সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর এ কর্মস্থলকে ঘিরে কয়েক লাখ মানুষের বসবাস এ অঞ্চলে। আর তাই অন্য অঞ্চলের চেয়ে এখানকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগও বেশি। তবে বাসিন্দাদের সেবায় নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তারা যেন থেকেও নেই। কোন সমস্যার বিষয়ে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। বরং নানা কর্মকান্ডের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক নিয়েই ব্যস্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর বিরুদ্ধে।

পবিত্র ঈদ উল ফিতরের ছুটি শেষে হয়েছে গত ৯ জুন। কিন্তু ছুটি শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত ময়লা নিতে কার্যক্রম শুরু করেনি পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। ফলে বাসাবাড়িতে ময়লা জমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। আর অনেকেই বাসা বাড়ির ময়লা পরিচ্ছন্ন কর্মী না নেওয়ায় রাস্তায় ও ড্রেনে ফেলছেন। এতে করে ড্রেন ভরাট হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এসব বিষয়ে ইউএনওকে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।

জানা গেছে, সদর উপজেলার রাস্তাঘাট, ড্রেন, খাল সহ যানজট কোন বিষয়ে কোন প্রকার কর্মকান্ড দেখা যায় ইউএনওকে। এমনকি সরকারী জায়গা দখল, ফুটপাত দখল কিংবা স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রেও তেমন কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিনিয়িত ভোগান্তিতে পড়তে হয় সেখানকার বাসিন্দাদের।

এর আগে ঘূর্ণিঝড় ফনির প্রভাবে টানা বর্ষণে ফতুল্লার অধিকাং এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে খালগুলো ভরাট হওয়ায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে তখন স্থানীয়রা অভিযোগ দেয়। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চেয়েও পায়নি বাসিন্দারা। পরে বাধ্য হয়ে স্থানীয় লোকজন এক হয়ে ভরাট হওয়া খালগুলো মাটি কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, যে কোন সমস্যা হলেই ইউএনওর অফিসে জানানো হয়। কিন্তু তিনি আমাদের কথা কর্ণপাতও করেন না। তিনি আছেন ভালো রাস্তায় হেঁটে গিয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড করার কাজে। মানুষ যে কত কষ্টে আছে সেই বিষয়ে কোন খেয়াল নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, গাউছুল আজম সদর উপজেলার ইউএনও থাকাকালীন সময় জলাবদ্ধতা দুর্ভোগের বিষয়টি সরাসরি এলাকায় ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আনসার ও এলাকাবাসীদের নিয়ে তাৎক্ষনিক সমাধানের চেষ্টা করতেন এবং করেছেন। কিন্তু বর্তমান ইউএনও সহ যারাই এসেছেন তারা কেউ পানিবন্ধি মানুষকে এক নজর দেখতেও আসেন না। অফিসে গেলে পাওয়া যায় না আর ফোন দিলে তো রিসিভই করেন না। শুধু ফেসবুকে দেখতে পারবেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছবি আপলোড করছে।

শিবু মার্কেট এলাকার ফাইজুল ইসলাম বলেন, ঈদের পর থেকে ময়লা নিতে আসে না। বাসার মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে ময়লার দুর্গন্ধে। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় ফেলতে হচ্ছে। এ ইউএনওকে যে শুধু ময়লার সমস্যার জন্য না যেকোন সমস্যায় পাশে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ইউএনও তো ময়লা পরিষ্কার করবে না। তার অধীনের ইউনিয়ন পরিষদগুলো। তিনি চেয়ারম্যানদের বললেই এগুলো দ্রুত সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু তিনি তা করবে না। আমরা সরকারকে ভ্যাট টেক্স দিবো আর সরকারি কর্মকর্তারা আমাদের সমস্যা সমাধানে থাকবে না এমন কর্মকর্তা চাই না। আমরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিবো।

এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, তিনি বিষয়গুলো দেখছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর