পূর্ব শেহাচরের বাসিন্দাদের খোঁজ নেন না মেম্বার চেয়ারম্যানরা


ফতুল্লা করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
পূর্ব শেহাচরের বাসিন্দাদের খোঁজ নেন না মেম্বার চেয়ারম্যানরা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের পূর্ব শেহাচরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। একের পর এক মেম্বারকে এলাকাবাসী বিভিন্ন আশ্বাস পেয়ে বিজয়ী করলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে যেন ভুলে যান এসকল জনপ্রতিনিধিরা। আর তাদের এমন আচরণে ধীরে ধীরে ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে এলাকাবাসীর মাঝে। তাদের দাবী অচিরেই তাদের সমস্যা সমাধান না করলে ভবিষ্যতে কোন জনপ্রতিনিধিকে ভোট চাইতে এলাকায় ঢুকতে দিবেন না তারা।

একাধিক অভিযোগে ভিত্তিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্ব শেহাচরের ইরান টেক্সটাইলের দক্ষিণ পাশের গলিতে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। প্রতিদিন প্রায় অর্ধলক্ষাধিক গার্মেন্টস শ্রমিক এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। বিপুল পরিমাণ মানুষের চাপ থাকা স্বত্বেও এই রাস্তাটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এই রাস্তাটিতে সামান্য বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে কাদাপানিতে পূর্ন হয়ে থাকে সামান্য বৃষ্টিতেই। মাটিতে শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা থাকেনা।

অপরদিকে প্রায় একই অবস্থা রাস্তাটির পূর্ব প্রান্তের ড্রাইভার বাড়ির গলিতে। ১২ ফুট রাস্তা থাকার কথা থাকলেও সড়কটির শেষ মাথায় মাত্র দুই আড়াইফুটের রাস্তা দেখা যায়। বাকিটা এখনও নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে পার্শ্ববর্তী ডোবার পানিতে। টানা এক বা দেড় ঘন্টার বৃষ্টিতে আশেপাশের বাসাবাড়িতেও পানি উঠে যায় বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। তাদের দাবী ডিএনডি প্রকল্পের ভেতর থাকলেও মেম্বারের অবহেলায় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ আলী বলেন, ইরান টেক্সটাইলের পেছনের সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের আসা যাওয়া থাকলেও রাস্তাটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। গত ১৫ বছর পূর্বে নবু মেম্বার থাকা কালীন রাস্তাটিতে ইটের সলিং করা হলেও এর পরবর্তী ২ মেম্বারের কেউই কোন সহযোগীতা করেননি। কিছুদিন পূর্বে আরসিসি সংস্কারের জন্য রাস্তার মাপ নিলেও আদৌ কবে সেই কাজ হবে তা জানি না। 

প্রায় একই অভিযোগ জানিয়ে ইব্রাহিম আহমেদ বলেন, রাস্তাটির পূর্ব পাশের ড্রাইভারের গলির সড়ক দেড় বছর পূর্বেও ক্ষমতাসীন রঞ্জু মেম্বার এসে রাস্তাটি মেরামত করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পর্যন্তই শেষ। এরপরে সে আমাদের সাথে দেখাও করেনি আর খোঁজও নেন নি। তার এমন অবহেলায় আমরা সত্যিই হতাশ।

তবে এসকল অভিযোগের আংশিক সত্যতা স্বীকার করে কুতুবপুর ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার হান্নানুর রফিক রঞ্জু বলেন, আমি ইরান টেক্সটাইলের সড়কে ড্রেন করে রেখেছি। কিন্তু সেটা পলিথিন দিয়ে পূর্ন করে রাখে স্থানীয়রা। আর সেই রাস্তাটি ইতোমধ্যে আরসিসি হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এলজিইডি। আর রাস্তাটির পেছনের ড্রাইভার বাড়ীর সড়কটি ১ মাসের ভেতর কাজ ধরা হবে। ইতোমধ্যে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আমাদের। ১ মাসের ভেতরেই সেখানকার মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর