rabbhaban

হকারমুক্ত ফুটপাত দখলে রেস্টুরেন্ট


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
হকারমুক্ত ফুটপাত দখলে রেস্টুরেন্ট

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে ফুটপাত দখল মুক্ত করা হলেও আবারও দখল করে নিয়েছে ‘সুগন্ধা প্লাস’ নামে একটি খাবার হোটেল কর্তৃপক্ষ। ফুটপাতের উপর রান্নার চুলা, আসবাবপত্র রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে প্রতিনিয়ত। আর এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের তেমন কোন সুদৃষ্টি নেই। অবিলম্বে এ বিষয়ে ব্যবস্থ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পথচারী ও নগরবাসী।

১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের সাধু পৌলের গীর্জার পাশে ‘সুগন্ধা প্লাস’ নামে রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য। সুগন্ধা নামে শহরের চাষাঢ়া গোল চত্ত্বরের উত্তর পাশে, সাধু পৌলের গীর্জার পাশে, ২নং রেল গেট এলাকায় সহ বিভিন্ন মোড়ে বেশ কয়েকটি খাবার দোকান, বেকারী, ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে। আর প্রায় প্রত্যাকটি দোকানের সামনেই আসবাবপত্র সহ মালামাল রেখে ফুটপাত দখল করতে দেখা যায়। ফলে প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। তবে শুধু সুগন্ধ নয় শহরের আরো অনেক কাপড়ের দোকান, খাবারের দোকান, ইলেকট্রনিক দোকানগুলোও একই অবস্থায় দেখা যায়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের তেমন কোন বিশেষ অভিযান দেখা যায় না।

জানা গেছে, ২৫ জুন সকালে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে হকার উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়। ওইদিনের অভিযানে নগরীর ফুটপাত ফাঁকা সহ অবৈধ পাকিং, অবৈধ দখলদার, দোকানদের মালামাল পর্যন্ত সরিয়ে নিতে হয়। আর এ অভিযানের প্রভাব দেখা যায় টানা দুই সপ্তাহ। কিন্তু এর মধ্যেই আবারও ফুটপাত দখলের মরিয়া হয়ে উঠেছে হকাররা। একই সঙ্গে ফুটপাতের পাশে থাকা দোকান মালিকেরা। তারা তাদের দোকানের আসবাবপত্র ফুটপাতে রেখে মালামাল বিক্রি করছে। আর সাধারণ মানুষের যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

পথচারী জমির উদ্দিন বলেন, পুলিশের অভিযান সব সময় একদিনই দেখা যায়। নিয়মিত টহল দিলে শহরের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। কিন্তু পুলিশ তা করবে না। বলবে পুলিশের আরো অনেক কাজ আছে। কিন্তু মানুষের সেবা দেয়া তো পুলিশের কাজ।

তিনি আরো বলেন, এটা সত্য পুলিশের পাশাপাশি আমাদের নগরবাসীরও দায়িত্ব যে এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। কিংবা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা। কিন্তু সাধারণ মানুষ এগুলোর প্রতিবাদ করতে গেলে প্রভাবশালী দোকান মালিকদের সঙ্গে ঝগড়া হয়। অনেক সময় এসব দোকান মালিকেরা পথচারীদের লাঞ্ছিত করে। সুগন্ধার মালিকপক্ষের সঙ্গেই একাধিকবার বাকবিতন্ডা হয়েছে। কিন্তু কোন সুফল পাওয়া যায়নি। তাদের দোকানের সামনে যাতে হকার না বসতে পারে সেজন্য ফুলের টব দিয়েছে। কিন্তু তারাই আসবাবপত্র রেখে ফুটপাত দখল করে রেখেছে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না।

ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু সড়কে যখন হকার থাকে তখন দোকান মালিকেরা ফুটপাত দখলের সুযোগও পায় না। হকার যাতে না বসে সেজন্য তারাও প্রতিবাদ করে। কিন্তু আজ যখন ফুটপাতে হকার নাই তখন নিজেরাই ফুটপাত দখরে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর জন্য কখনো কারো পক্ষে ফুটপাত ফাঁকা রাখা সম্ভব হবে না। এজন্য আমাদের মধ্যেও পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে অভিযান করতে হবে। যারা ফুটপাত এভাবে দখল করে তাদের শুধুমাত্র জরিমানা করলে ক্ষ্যান্ত হবে না। তাদের জেল দিতে হবে। তবেই তারা একই অপরাধ বার বার করবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর