rabbhaban

বিদ্যালয় নয় যেনো লাল-সবুজে রাঙানো একটুকরো বাংলাদেশ !


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার
বিদ্যালয় নয় যেনো লাল-সবুজে রাঙানো একটুকরো বাংলাদেশ !

সকাল তখন সবেমাত্র সাড়ে আটটা। শিক্ষার্থীদের হৈ-হুল্লোড় আর চেচামেচিতে গোটা এলাকা যেন ভেঙ্গে পড়ছে। স্কুলে প্রবেশ করেই দেখা গেলো কাঠ-টিনের তৈরি প্রতিষ্ঠানটির চারদিকে লাল-সবুজে মোড়ানো। রূপগঞ্জের অজোপাঁড়াগাঁয়ে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখে যে কেউ ভিমড়ি খেয়ে যাবে। কাঠ-টিনের তৈরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি যেনো একটা জাতীয় পতাকা। লাল সবুজের বিজয়ের রঙে রাঙানো হয়েছে রূপগঞ্জের ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুল। এ যেনো স্বাধীন বাংলাদেশের এক প্রতিচ্ছবি। লাল-সবুজে রাঙানো রূপগঞ্জে এটি একমাত্র বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের একটি ভবনের নাম দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু ভবন। আরেকটি নামকরণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে। পাশেই লেখা রয়েছে, তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা} প্রধানমন্ত্রী না হলে একজন শিক্ষক হতেন।

বাকী দু’টির একটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আরেকটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের নামে। স্কুলের শ্রেণীকক্ষে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ছবি। অফিসকক্ষের পাঠাগারে বুকে সেলফে থরে-থরে সাজানো রয়েছে হাজারো বই। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চিত্রকে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বিদ্যালয়টি লাল-সবুজের রঙে মোড়ানোর পর থেকে তারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানচিত্র ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সহজেই জানতে পারছেন। অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আফনান, লতা, কণিকা রাণী বলে, জাতীয় পতাকার রঙে আমাদের স্কুলের রঙ হওয়ায় আমরা বাংলাদেশ নিয়ে জানতে পারি। স্যারেরা দেশ প্রেমের ব্যাপারে আমাদের সবসময় উদ্ধুদ্ধ করেন। পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জিসান মোল্লা, অমি, নাদিয়া বলে, জাতীয় পতাকার রঙে স্কুল আমরা কোথাও দেখি নাই। আমাদের স্কুলটা এমন হওয়ায় আমাদের গর্ব হয়। আমরা দেশকে ভালবাসি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, লাল-সবুজ রঙে মোড়ানোর কারণে ছাত্রছাত্রীদের জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে গেছে। স্কুলের পরিচালক রায়হানা সুলতানা কনা বলেন, শিক্ষার্থীদের দেশ প্রেমের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করতেই লাল-সবুজ রঙে মোড়ানো হয়েছে। তারা যেনো বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুলের ব্যাপারে ধারণা রাখে তাই ভবনগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে তাদের নামে।

স্কুলটি পরিদর্শনে এসে কয়েকজন গুণীজন নিজেদের মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে সাংবাদিক ফরিদ হোসেন (বর্তমানে দিল্লির প্রেস মিনিষ্টার) ও হাসান শাহারিয়ার (কমনওয়েলথ জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের অ্যামিরেটাস) মন্তব্য করে লিখেছেন, অজোপাঁড়াগাঁয়ে আস্ত একটা বাংলাদেশ দেখে সত্যিই ভাল লাগলো। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে লালন-পালন করছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর