rabbhaban

নারায়ণগঞ্জ এসেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০১৯, সোমবার
নারায়ণগঞ্জ এসেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অতুলনীয় কীর্তিমান এই লেখক ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ১৮৬১ সালের ৮ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি চির নতুনের কবি, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কবি। মৃত্যুহীন অনন্ত জীবনের স্বাক্ষর বয়ে যাবেন যুগ থেকে যুগান্তরে। ২২ শ্রাবণ তাঁর প্রয়ান দিবস।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন - ১৯২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা নাগাদ তিনি নারায়ণগঞ্জ এসে পৌঁছান। স্থানীয় ছাত্র সংস্থা স্টীমার ঘাটে কবিকে এবং তাঁর দলের সকলকে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন। ছাত্ররা সেখান থেকে শোভাযাত্রাসহ কবিকে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে নিয়ে আসেন। নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল প্রাঙ্গণে এক সভায় কবিকে সংবর্ধনা জ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রবীন্দ্র-জীবনীকার প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায় ‘রবীন্দ্র বর্ষপঞ্জী’তে তা সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন।

বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত ভূইয়া ইকবাল-এর ‘বাংলাদেশে রবীন্দ্র সংবর্ধনা’ গ্রন্থে কবিকে নারায়ণগঞ্জের সংবর্ধনাতে প্রদানকৃত মানপত্র ও কবির পূর্ণাঙ্গ ভাষনটি তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্রদের পক্ষ থেকে কামাক্ষ্যা চরণ সংবর্ধনা পত্রটি পাঠ করেন।

সংবর্ধনাপত্র : ‘বিশ্ববরেণ্য কবিসম্রাট শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রাথ ঠাকুর মহাশয়ের শ্রীশ্রীচরণকমলেষু। দেব, পূর্ব্ববঙ্গের তোরণ-দ্বারে-পুণ্যসলিলা শীতলক্ষ্যার পবিত্র তীরে- হে কবি! তোমাকে তোমার প্রত্যাবর্ত্তন-পথে স্বাগতম অভিনন্দনের সুযোগ পাইয়া- আমরা আপনাদিগকে কৃতার্থ মনে করিতেছি। ছাত্র আমরা- তোমার শিষ্যানুশিষ্যের যোগ্য নহি! তোমার চরণ-রেণু স্পর্শ করিবার অধিকার লাভের স্পর্দ্ধাও আমাদের নাই- কিন্তু সর্ব্বজনপ্রিয় তুমি- দয়া করিয়া আমাদের ছাত্রসঙ্ঘের ন্যায় দীনতম-ক্ষুদ্রতম প্রতিষ্ঠানের কথাও বিস্মৃত হও নাই- সে আনন্দে সে-গর্ব্বে আমরা স্নেহ-পুলকিত-হৃদয়ে আমাদের দীন আয়োজন- আমাদের বন-ফুলমালা তোমার শ্রীচরণসরোজে অর্পণ করিতে সাহসী হইয়াছি। হে কবি! তুমি তাহা গ্রহণ করিয়া সার্থক কর- কৃতার্থ কর- আমাদিগকে ধন্য কর। আমাদের এ বাংলাদেশ- দেশে দেশে শুধু অন্নই বিতরণ করে না- দেশকে সুজলা সুফলা ও শস্যশ্যামলা করিয়াই শুধু নদীর শুভ্র-রজতধারা তাহার গতিপথে অগ্রসর হয় না- তাহার কল প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানের পবিত্র আলোকধারাও লহরে লহরে দ্বিগন্তে ব্যাপ্ত করিয়া দিয়া আপনাকে মহিমান্বিত করিয়াছে- সে লুপ্তধারা- ধূর্জ্জটির জটানিষ্যন্দী পবিত্রধারার ন্যায় তুমিই আবার বিশ্বভারতীর শান্তিনিকেতন হইতে প্রবাহিত করিয়া সমস্ত বিশ্ববাসীকে ভারতের বাণী নূতন করিয়া প্রচার করিতেছ। নালন্দা নাই- তক্ষশীলা নাই- বিক্রম শীলা নাই! তাহাতে দুঃখ কি? তোমার বিশ্ব-ভারতী- অতীত ও বর্ত্তমানকে জাগ্রত করিয়াছে। আমরা তোমার সেই আদর্শ হৃদয়ে গ্রহণ করিয়া- লক্ষ্য পথে চলিতে পারি- আমাদিগকে সে আশীর্ব্বাদ কর। পল্লীর লুপ্তগৌরব প্রতিষ্ঠা- দেশকে অন্তরের সহিত ভালোবাসার- শিক্ষার প্রদীপ হাতে করিয়া কেমন করিয়া আমরা মানুষ হইব? কেমন করিয়া প্রকৃত জ্ঞানের সন্ধান পাইব? কথায় নহে কাজে- শুধু নয় দীক্ষায়- প্রকৃত কর্ম্মীরূপে দীনভাবে ও দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করিতে পারি- তোমার চরণে উপদেশ-ভিক্ষু আমরা সে আবেদন নিবেদন করিতেছি। আমাদের এই নারায়ণগঞ্জ-বন্দর অতি প্রাচীন বন্দর- অতি প্রাচীন ইতিহাসেও ইহার নাম আছে। দুর্ভাগ্য আমাদের এখানে বাণীর সেবক নাই বলিলেও চলে। এখানকার নীরস শুষ্ক মরুভূমির বুকে কোনদিন বর্ষণ নামে নাই- এই ঊষর মরুভূমিকে সরস করে নাই, সৌভাগ্য আমাদের আজ এই মরুভূমির বুকে সুধাধারা সিঞ্চিত হইবে- নব বসন্তের আবির্ভাব হইবে নব রূপে- নব ভাবে- নব পিককুহরণে- এই বসন্তোদয় চির বসন্তের উজ্জ্বল শ্যামল শ্রীতে মণ্ডিত হউক- এই আশীর্ব্বাদ ভিক্ষা করিয়া তোমাকে অর্ঘ্যডালা সমর্পণ করিতেছি। এই দীর্ঘ নগরের পৌরগণের গর্ব্ব করিবার অতীত ইতিহাস আছে,- ঐ দূরে- লক্ষ্যার তীরে- সোনাকান্দার দুর্গ এখনও বাঁচিয়া আছে। সুবর্ণগ্রামের শত প্রাচীন কীর্ত্তি- সেন পাল ও পাঠান-মোগলের রণ-ভেরী শব্দিত কানন-প্রান্তর ও মগ-বাঙ্গাীর রণ কোলাহল- এখনও এই ভূমির আকাশে বাতাসে শব্দায়মান- সে কাহিনী আমাদিগকে অতীত গর্ব্বে গৌরবান্বিত করে- সেই অতীত কীর্ত্তিগরিমামণ্ডিত- শত শত পান্ডিতের পাণ্ডিত্যে-ভূষিত দেশ আজ শুরু স্মৃতির কঙ্কাল লইয়া বাঁচিয়া আছে- তোমার পাদস্পর্শে আবার তাহা নবজীবন লাভ করিয়াছে। কবি তুমি! ঋষি তুমি! বাঙ্গালীর হৃদয়াসনে সুপ্রতিষ্ঠিত উজ্জ্বল রবি তুমি কবির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলাইয়া তোমাকে বলিতেছি- ‘জগৎ কবি-সভার মাঝে তোমার করি গর্ব্ব / বাঙ্গালী আজি গানের রাজা বাঙ্গালী নহে খর্ব্ব।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর