rabbhaban

ময়লার ভাগাড়ে নীল জল সবুজ পাড়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার
ময়লার ভাগাড়ে নীল জল সবুজ পাড়

ময়লা ও আবর্জনায় ভরা খাল। ছিল না পানি প্রবাহ। আবর্জনায় জন্ম নিত বিভিন্ন ভয়ংকর মশা। এখানেই শেষ না। এর সঙ্গে দুর্গন্ধ বের হয়ে এলাকাবাসী মধ্যে দেখা দিতো বিভিন্ন রোগ। নগরীর সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। খালের পাশে পথ দিয়ে হাঁটতেও মানুষের মধ্যে অস্বস্তিবোধ করতো। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সব কিছুই বদলে যাচ্ছে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর কল্যাণে। তার সুদৃষ্টি ও মহৎ উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে এলাকর দৃশ্যপট। প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি ও সমাজ। আর সেখানের বাসিন্দারাও উচ্ছাসিত।

যে খাল নিয়ে এতো কথা সেটা হলো শহরের মিনাবাজার এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে কাশিপুর ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত বাবুরাইল খাল। ২০০১ সালেও যে খালের উপর দিয়ে নৌকা চলাচল করতো, খালের পানিতে মানুষ গোসল সহ নিত্যদিনের কাজ করতো, খালের পানি বাসা বাড়ির কাজে ব্যবহার করতো, খাল ছিল এলাকার সঙ্গে যোগসূত্র। সেখানে সেই খাল হয়ে যায় ময়লা আবর্জনার ভাগাড়। আর সেই ভাগাড়ের উপর দিয়ে এপার ওপার যাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা হয়েছে ছোট বড় ব্রীজ। হয়েছে রাস্তাও। আর তাতে বন্ধ হয়ে গেছে খালে পানির প্রবাহ। তবে প্রবাহ ও রূপ বৈচিত্র ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে শহরের বাবুরাইল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ময়লা আবর্জনার খাল এখন অনেকটাই পরিষ্কার। খালের অস্তিত ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। আর সেই জন্য দ্রুত গতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে খালের উপর ও আশপাশ থেকে। খালের ময়লা আবর্জনা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এছাড়াও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিজ উদ্যোগে যারা অযথা খালের উপর ব্রীজ করেছে সেইসব কিছুও ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আর খালের পাড়ে দেওয়া হচ্ছে দেয়াল। যখন এসব কাজ চলছে বাবুরাইল অংশে তখন দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ ছিল মিনাবাজার অংশে। দুই পার বাধানো সবুজ দুর্বা ঘাস। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন খালের জলে আকাশের প্রতিফলনে যেন নীল জল। অপূর্ব দেখতে মনোরম পরিবেশ। এর পাশ দিয়ে হাঁটাচলা করছে সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, গত ২০১৬ সালের ২৯ ও ৩০ অক্টোবর ইউএন হ্যাবিটেটের অধিনে চীনের নিংসিয়া প্রদেশের রাজধানী ইনচুয়ান নগরীতে এশিয়ান টাউনস্কাপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৬ পুরস্কার অর্জন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। যা গ্রহণ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র-১ হাজী ওবায়েদ উল্লাহ এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম। এশিয়ান টাউনওক্যাপ এওয়ার্ড এর জন্য এশিয়ার বিভিন্ন নগরীর ৪১টি প্রকল্প আবেদন করে। এর মধ্যে ১২টি প্রকল্প ২০১৬ এর জন্য মনোনীত হয় এবং ৩টি প্রকল্প জুরি পুরস্কার অর্জন করে। পুরস্কার প্রাপ্ত অধিকাংশ প্রকল্প চীন, জাপান ও কোরিয়ার বিভিন্ন নগরীতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বাবুরাইল খাল উন্নয়ন প্রকল্পটি জুরি পুরস্কার অর্জন করে।

এর পর ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাস্তবায়নাধীন বাবুরাইল খাল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ মঈনুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর টেকসই পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে, দৃষ্টিনন্দন গণপরিসর এর ব্যবস্থার পাশাপাশি নগরবাসীর দীর্ঘদিনের বিনোদনের চাহিদা পূরণ করতে সমর্থ হবে। এছাড়াও পয়:নিস্কাশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। উক্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়িত সামগ্রিক ব্যয় বিশ্বব্যাংক বহন করবে এবং কয়েকটি ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে জিমখানা খাল উন্নয়ন প্রকল্পটি চলমান রয়েছে যা ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সমাপ্ত হয়। এছাড়া বাবুরাইল খাল উন্নয়ন প্রকল্পটির জন্য বিশ্বব্যাংক প্রথম ধাপে প্রায় ৯০ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। যার মধ্যে প্রায় ১৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাবুরাইল খাল উন্নয়নের চার ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মন্ডলপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপে কাজ শুরু হয়েছে। যা বর্তমানে চলামান রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘এলজিইডি এর প্রকল্পের কাজ করছেন। তবে ২০১৮ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ না হলেও আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে কাজ শেষ হবে। যার পর থেকে নগরবাসী এর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।’

এদিকে খালের কাজ শেষ না হতেই সুফল পেতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী জানান, মেয়র আমাদের জন্য যে কাজ করছেন তা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। এ বাবুরাইল খান উন্নয়ন মানে এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে। পরিবেশ সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ময়লা আবর্জন দূর হচ্ছে। এখন মাশর উৎপাতও কমে এসেছে। দেখতে সুন্দর লাগছে। যার জন্য স্থানীয়দের বাড়িঘর বা স্থাপনা ভেঙে ফেলা হলেও কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না। এ কাজ দ্রুত সুন্দর ভাবে শেষ হোক আমরা প্রত্যাশা করি। একই সঙ্গে যে কোন সহযোগিতায় আমরা মেয়র আইভীর পাশে আছি ও থাকবো।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর