rabbhaban

ক্ষমতার দাপটে দূষণের সঙ্গে নষ্ট করছে ডিসির বাংলোর সড়ক, বন্ধ ড্রেন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৪ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার
ক্ষমতার দাপটে দূষণের সঙ্গে নষ্ট করছে ডিসির বাংলোর সড়ক, বন্ধ ড্রেন

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাসভবনের (বাংলো) সামনের সড়কের পাশে ড্রেন সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই টাইলস ও সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ও ধুলোবালি পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সাথে রাস্তায়ও ভাঙ্গন শুরু হয়ে গেছে।

৩০ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনের গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। তবে এর পিছনে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের পরিবেশ দূষণকারী ব্যবসা বাণিজ্য।

এর আগে স্থানীয় লোকজনের বাধাসহ বিভিন্ন ঝামেলার মুখোমুখি থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার পর গত কয়েক মাস আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এই ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ করে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর মোড় থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় (চিটাগাং রোড) পর্যন্ত সড়কটি প্রায় ৮ কিলোমিটার। ওই সড়কের শহরের খানপুর মেট্রো হল থেকে কিল্লারপুল মোড় পর্যন্ত হাসপাতালসহ বেশ কিছু সরকারী সেবামূলক দফতর রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। যেখানে প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে কয়েক হাজার রোগীর আগমন ঘটে। এর বিপরীতে কুমুদিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যেখানে অসংখ্য শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। হাসপাতালের ঠিক পরেই রয়েছে জেলা প্রশাসকের বাসভবন। এরপর রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি’র স্টাফদের কোয়ার্টার। বরফকল মাঠ সংলগ্ন স্থানে রয়েছে চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসী পার্ক। বরফকল মাঠ থেকে কিল্লারপুল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশেই রয়েছে অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কিল্লারপুল মোড়ে রয়েছে ডিপিডিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়। এছাড়া বরফকল খেয়াঘাট ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরবাসীর যাপিত জীবনে এই সড়কটির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু কয়েকজন প্রভাবশালীর কারণে অল্পদিনের মধ্যে সড়কের পাশে নির্মিত ড্রেন ও সড়কে ভাঙ্গন শুরু হয়ে গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, খানপুর বরফকল ঘাট এলাকাতে নদীর তীরের জায়গা লিজ নিয়েছেন পিংকি ট্রেডার্সের মনির হোসেন নামের একজন। তিনি তিন বছর ধরে এই জায়গা লিজ নিয়ে সেখানে টাইলস, সিমেন্টের কাঁচামাল বিভিন্ন জাহাজ থেকে আনলোড করে গন্তব্যস্থলে পৌছে দেয়। বরফকলের সামনে সিরাজউদ্দৌলা সড়ক দিয়ে ট্রাকে করে এসব মালামাল বিভিন্ন স্থানে পৌছানোর সময়ে সড়কে যেমন পড়ে যায় তেমনি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে না রাখায় বাতাসে উড়ে রাস্তায় পড়ে ড্রেন ভরাট ও রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ সড়কেই ডিসির বাংলো ও ৩০০ শয্যা হাসপাতাল।

এভাবে প্রতিনিয়ত ট্রাক যাতায়াত করার কারণে ডিসির বাংলোর দ্বিতীয় গেইটের ঠিক বিপরীত পাশে রাস্তার ভাঙ্গনও শুরু হয়ে গেছে। সেই সাথে চারপাশের পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। ট্রাক দিয়ে বহন করে নিয়ে যাওয়ার রাস্তায় পড়ে থাকা কাঁচামাল ও ধুলোর কারণে নাকে হাত চেপে অথবা রুমাল চেপে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। ধুলোর কারলে অনেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভোগার পাশাপাশি নানাবিধ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

গত ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানে ধরা পড়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের এ ভয়াবহ চিত্র। ওই সময়ে তাঁরা এসব মালামাল আনলোডের জন্য নদীর তীরের জায়গা লিজ দেওয়ার কারণে বিআইডব্লিউটিএ’র কড়া সমালোচনাও করেন। ম্যাজিস্ট্রেট বিআইডব্লিউটিএ’র উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে পরিবেশের বিপর্যয় হচ্ছে জেনেও তারা কিভাবে আবারো সময় বৃদ্ধি করলো সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। আশা করি তারা এদিকে দৃষ্টি দেবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কাঁচামাল পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। পাশাপাশি এই কাঁচামাল সড়কে পড়লে ওই সড়কটি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এই কাঁচামাল লোড আনলোড এবং আনা নেয়ার ক্ষেত্রে ট্রাকের উপর বেশি লোড না দিয়ে সেটি আবার ত্রিপল দিয়ে ঢেকে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার বললেও সেদিকে কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এই ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও সেটি আরো ১ মাস বর্ধিত করে ইজারাদার মনির।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরে খানপুর বরফকল ঘাট এলাকাতে নদীর তীরের জায়গা লিজ নেন পিংকি ট্রেডার্সের মনির হোসেন নামের একজন। তিন বছর ধরে ওই জায়গা লিজ নিয়ে সেখানে তিনি টাইলস, সিমেন্টের কাঁচামাল বিভিন্ন জাহাজ থেকে আনলোড করে গন্তব্যস্থলে পৌছে দেয়। বরফকলের সামনে সিরাজউদ্দৌলা সড়ক দিয়ে ট্রাকে করে এসব মালামাল বিভিন্ন স্থানে পৌছানোর সময়ে সড়কে যেমন পড়ে যায় তেমনি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে না রাখায় বাতাসে উড়ে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটায়।

ওই ইজারাদার নিজেকে পিংকি ট্রেডার্সের মালিক পরিচয় দেন। তবে স্থানীয়রা জানান, এ মনির হোসেন মূলত তল্লা এলাকাতে অবস্থিত মডেল গ্রুপের গার্মেন্ট সেক্টর দেখভাল করে থাকেন। মনিরকে স্থানীয়রা মডেল মনির হিসেবেই চিনেন।

তবে নিজেকে মডেল গার্মেন্টের কেউ নন বলে দাবি করেন মনির। তিনি বলেন, ‘আমি গত তিন বছর ধরেই এখানে ইজারাদার হিসেবে আছি। আমার এখানে শুধু মালামাল লোড আনলোড হয়। ত্রিপল দিয়ে আনা নেয়ার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ পরিবহণের লোকেরা দেখে তবুও আমরা তাদেরকে বারংবার বলে দেই যেন ত্রিপল অবশ্যই ব্যবহার করে।’

পরিবহনের দায়িত্বে থাকা লতিফ মহাজন জানান, ‘‘আমি ছাড়াও আরো পরিবহনের লোকেরা এখানে পরিবহন করে থাকে। আমরা ড্রাইভারদের বলার জন্য আলাদা লোকও রেখে দিয়েছি তবুও অনেক সময় তারা আমাদের কথা না শুনেই ত্রিপল ছাড়া পন্য আনা নেয়া করে। আসলে এ পন্যতো আর কেউ ধরেনা নেয়ও না। পরিবেশের ক্ষতি হয় বলেই তো আমরা লোক রেখে দিয়েছি যেন তারা ড্রাইভারদের বলে দেয়। এ মনির হোসেনকে আমরা মডেল গার্মেন্টের মনির হিসেবেই চিনি।’’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সম্প্রতি এক সভায় স্পষ্ট বলেছিলেন, বরফকল ঘাট থেকে খোলা ট্রাকে করে অনেক মালামাল বিভিন্নস্থানে পাঠানোর কারণে সেগুলো সড়কে পড়ে সড়ককে নষ্ট করে দেয়। জেলা প্রশাসকের বাড়ির সামনে দিয়েই এসব ট্রাক চলাচল করলেও কেউ কোন প্রতিবাদ করে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর