rabbhaban

পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানি তেল তৈরি


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানি তেল তৈরি

নারায়ণগঞ্জ সৈয়দপুর এলাকার নতুন এক প্রতিভার নাম কাজী কামরুল ইসলাম। যিনি নিজের উদ্ভাদিত মেশিন দিয়ে দৈনিক ১৩’শ কেজি পলিথিন পুড়িয়ে এক হাজার লিটার অকটেন, ডিজেল, পেট্রোল উৎপাদন করে যাচ্ছেন।

কামরুল ইসলাম জানান, অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ দিয়ে স্বল্প খরচে মেশিন তৈরী করে অধিক পরিমানে লাভবান হওয়া যায় সে বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা নিতে বেশ কয়েকটি দেশে গিয়েছেন। দেশে ফিরে নিজ উদ্যোগে প্রথমে একটি রি-এক্টোর মেশিন তৈরী করেন। তারপর কুড অয়েল মেশিন।

তেল উৎপাদন প্রক্রিয়া বর্ণনা করে বলেন। প্রথমে রি-এক্টোর মেশিনে কুড়িয়ে আনা পলিথিন ভর্তি করে নিচের অংশে আগুনের তাপ দিতে হয়। সেখান থেকে পাইপ সংযোগ দিয়ে কুড অয়েল মিশিনে এসে অকটেন,ডিজেল, পেট্রোল জমা হয়। এভাবে অটোমেটিক সিস্টেমে সম্পূর্ন বিপদমুক্ত একটার পর একটা নল দিয়ে অকটেন বের হতে থাকে। এরপর ড্রামে ভরে প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করা হয়।

তিনি আরো জানায় যে দুটি মেশিন তৈরী করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। যেখানে অনায়াসে দৈনিক তেরশ কেজী পলিথিন পুড়িয়ে একহাজার লিটার অকটেন তৈরী করে চল্লিশ হাজার টাকা আয় করা যায়। এভাবে একদিকে যেমন শ্রমিক খাটিয়ে দেশের বেকারত্ব দূর করা যায় অন্যদিকে দূষন মুক্ত পরিবেশ তৈরী করা সম্ভব।

পরিবেশ বান্ধব মেশিন তৈরী করলেও লেখাপড়ায় তেমন একটা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেননি কামরুল। ১৯৯৭ইং সালে ভোকেশনাল থেকে এস এস সি এবং বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এইচ এস সি পাশ করেন। তারপর থেকেই কিভাবে নিজের পায়ে দাড়িয়ে সাবলম্বী হওয়া যায় সে বিষয়ে গবেষনা চালিয়েছেন।। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুশেদপুর উপজেলার পূর্ব নওখন্ডা এলাকার।

দেশের ৫৬০টি থানায় এভাবে যদি একটি করে পলিথিন পুড়িয়ে অকটেন ডিজেল ও পেট্রোল তৈরীর কারখানা গড়ে তোলা হয় তাহলে আনাচে কানাচে যত্রতত্র পলিথিন পড়ে থাকবেনা। একদিকে যেমন পরিবেশ দূষন মুক্ত হবে অন্যদিকে বেকাররত্ব দূর হবে। পাশাপাশি কারখানা তৈরী করতে সরকারী অনুমতি প্রদান আর্থিক সহায়তা সহ পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের ছাড়পত্র দিতে যেন কোন বাধা না ঘটে সে বিষয়ে সরকারের সহায়তা কামনা করছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর