rabbhaban

২০০ জুয়ার স্পট


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
২০০ জুয়ার স্পট

রাজধানী ঢাকার বড় বড় জুয়ার আসর বন্ধে সরকার ও প্রশাসন যখন তৎপর ঠিক তখনও রাজধানীর লগোয়া রূপগঞ্জে চলছে দেদার জুয়ার আসর। তবে রূপগঞ্জের জুয়ার স্পটগুলো রাজধানী ঢাকার মতো কোন ক্লাবে নয়, চলছে ভিন্ন পন্থায়। সম্প্রতি কাঞ্চন পৌরসভার কুশাব এলাকা থেকে শুল্ক গোয়েন্দা পুলিশ জুয়া খেলার সামগ্রী উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে অনলাইন ক্যাসিনো হোতা সেলিম প্রধানকেও গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তার বাড়ি রূপগঞ্জের ভুলতা প্রধান বাড়ি এলাকায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২শ’ স্পটে প্রতিদিন জুয়ার আসর বসে। এসব আসরে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ টাকার খেলা চলে বলে জানা যায়। আর মাসে হাতবদল হয় প্রায় ৯ কোটি টাকা। বছরে দাড়ায় প্রায় এক’শ ৮ কোটি টাকা প্রায়। এসব জুয়ার স্পট বন্ধের ব্যাপারে এলাকাবাসী থানা পুলিশের সহযোগীতা চাইলে কোনপ্রকার সহায়তা পায়না বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার এক’শ স্পটের ব্যাপারে থানা পুলিশ অবগত রয়েছে। তাই এসব স্পটকে বলা হয় ‘পারমিটেড’। আর বাকীগুলোকে বলা হয় চোরাই বোর্ড। এসব স্পট থেকে বখরা পায় পুলিশ, কথিত সাংবাদিক, ক্ষমতাসীন দলের নামধারী নেতা ও মস্তানরা।

তবে পুলিশের ভাষ্যমতে, জুয়ার স্পটে অভিযান চালালে সমস্যা আছে। জুয়াড়ীদের ধরতে গেলে বিপদ হয়। জুয়াড়ীদের ধাওয়া করলে তারা লাফালাফি করে পানিতে পড়ে। এতে কেউ মারা গেলে বিপদ হতে পারে। তাই জুয়ার স্পটে অভিযান চালানো হয় না।

রূপগঞ্জ থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রূপগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর বসে। এদের গ্রেফতার করতে গেলেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তদবির করে। পুলিশও মাসোহারা পায়।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, জুয়ারী ও জুয়ার আসরের কয়েকজন আয়োজকের সঙ্গে কথা বলে মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য।

জানা যায়, উপজেলার কায়েতপাড়া, দাউদপুর, ভোলাবো, মুড়াপাড়া, ভুলতা, রূপগঞ্জ সদর ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে রাতে-দিনে এক’শ স্পটে জুয়ার আসর বসে। এছাড়া তারাবো ও কাঞ্চন পৌরসভা এবং চনপাড়া বস্তিতে বসে আরো এক’শ স্পট। এসব স্পটে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ টাকার খেলা চলে বলে জানান জুয়ারী ও জুয়ার আসরের কয়েকজন আয়োজক। এ হিসাবে প্রতিমাসে জুয়াড়ীদের কাছে হাতবদল হয় প্রায় ৯ কোটি টাকা। আর বছরে সে হিসেব গিয়ে দাড়ায় প্রায় এক’শ কোটি টাকার উপড়ে। জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা। মাদকের মতো রূপগঞ্জের ১২৮ গ্রামের ঘরে ঘরে বেড়ে চলছে জুয়াড়ীর সংখ্যা।

জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে ও  অভিভাবকদের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে বিভিন্ন গ্রামে গত ৩ মাসে জুয়াড়ী সন্তানের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন অর্ধশতাধিক পরিবারের মা-বাবা ও অভিভাবক। জুয়ার টাকার জন্য চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করতে গিয়ে গত দু’মাসে আটক হয়েছেন ২২ জন। জুয়ার খেলতে গিয়ে বউ বাজির ঘটনাও ঘটেছে। জুয়া খেলার সময় হেরে গেলে অনেকে বউকে বাজি ধরে জুয়া খেলেন। এসব জুয়ার আসরে একশ্রেণীর সুদি মহাজনরা জুয়াড়ীদের কাছে চড়া সুদে টাকা দেন বলেও জানা গেছে। তারপরও পুলিশ এসব জুয়ার আড্ডা বন্ধ করার কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

থানা পুলিশের ভাষ্য, জুয়াড়ীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গেই জামিনে বেরিয়ে আসে। জুয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোন আইন না থাকায় জুয়ার আসর বন্ধ করা যায় না। এছাড়া জুয়াড়ীদের ধাওয়া করলে বিপদ ঘটে। তারা লাফালাফি করে গিয়ে পানিতে পড়ে। এতে কেউ মারা গেলে বিপদ হতে পারে , তাই জুয়ার আসরে কোনো অভিযান চালানো হয় না। ফলে রূপগঞ্জে জুয়ার আসরগুলো চলছে এখন মহোৎসবে।

সরেজমিনে জানা যায়, জুয়ার আসর বসে বাড়িতে, জঙ্গলে, বড় গাছের তলায়, পুকুর পাড়ে, ঝোপের আড়ালে। আবার খোলা আকাশের নীচে, নয় তো তাবু টানিয়ে বসে জুয়ার আসর। কোথাও বসে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার কিংবা নৌকাতে। কখনো রাতে, আবার কখনো দিনে চলে ওইসব আসর। উপজেলার কামশাইর, নগরপাড়া, তালাশকুর, বরুণা, চনপাড়া বস্তি, বরাপা, মাসাবো, হাটাব, ইছাপুরা, গুতিয়াবো, উত্তরপাড়ার  বাগানবাড়িতে, গন্ধবপুর চরে, ব্রাক্ষণখালীর মাঠে, আধুরিয়া, কাঞ্চন, কালনি, গোবিন্দপুর, কান্দাপাড়া, তেতলাবো, মাহনা, মিরকুটিরছেও, নোয়াপাড়া, ভুলতা মিয়াবাড়িসহ উপজেলার ৭’শ স্পটে চলে জুয়ার আসর।

এসব জুয়ার আসরে প্রতিদিন সবশান্ত হচ্ছে শত শত লোক। নাম প্রকাশ না করার শতে গুতিয়াবো এলাকার জুয়ার আসরের এক আয়োজক বলেন, ভাই আসর বসাইলে টাকা পাই। বিনে পয়সার লাভবান। এ সুযোগ কে ছাড়ে। এ টাকার ভাগ পায় পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। শুধু আমাদের দোষ দিয়ে কি লাভ?

রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল ইসলাম বলেন, আমার জানা নেই। তবে খোঁজ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর