rabbhaban

এগিয়ে চলছে শীতলক্ষ্যা সেতুর কাজ (ভিডিও)


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার
এগিয়ে চলছে শীতলক্ষ্যা সেতুর কাজ (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। তবে এখনো এ কাজ চলে বেশ দ্রুত গতিতে। আবার কখনো চলে ঢিলেঢালা। ইতোমধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে পিলার স্থাপনের কাজ শেষ দিকে পিলার হলেই শুরু হবে স্প্যান বসানোর কাজ।

জানা গেছে, এর আগে ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর পর থেকে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে সেতুটির। সৌদি ফান্ড পল ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) ও বাংলাদেশ সরকার যৌথ অর্থায়নে ১ হাজার ৩০৯ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটির ব্যায় ধরা হয়েছে ৪ শত ৪৮ দশমিক ৮৩ কোটি টাকা। চারটি লেনে ১৫ মিটার চওড়ায় ৩৫ স্প্যানবিশিষ্ট সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১ হাজার ২৯০ মিটার। সেতুটির নির্মাণ চুক্তি হয় ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি যা শেষ হবে ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি। আর সেতুটি নির্মাণ কাজের ঠিকাদার সাইনিড্রো করপোরেশন লিমিটেড চায়না।

কয়লাঘাট এলাকার বাসিন্দা জানান, দ্রুত কাজ শেষ হলেই আমাদের সুবিধে হবে। সেতুটা হলে গেলে এখানকার মানুষের জন্য ভালো হবে। সহজে বন্দর যাতায়াত করতে পারবে।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা প্রশাসনের ওয়েব পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উপজেলাটির মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ১২ হাজার ৮৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪১ জন ও নারী ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫০ জন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বন্দর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের মোট ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ২৮৩ জন। যার মধ্যে পুরুষ ৫৬ হাজার ৬০২ জন ও নারী ৫৬ হাজার ৬৮১ জন।

১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বন্দরবাসীকে শীতলক্ষ্যা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হন বিএনপির সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তবে তিনি প্রতিশ্রুতির কোনও বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হন এস এম আকরাম। তবে তিনিও কিছুই করতে পারেননি।

বিগত বিএনপি সরকারের শেষের দিকে সেতু নির্মাণের কোনও সম্ভাব্যতা যাচাই ও ফান্ড জোগাড় না করেই ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শহরের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকায় সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও সেটা ছিল নিছক নির্বাচনী প্রচারণা। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও সেতুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচনের ২০১১ সালের ২০ মার্চ নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন তিনি মদনগঞ্জে সমাবেশ করে দ্রুত সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। বর্তমানে মদনগঞ্জ পয়েন্টে সেতু নির্মাণের কাজ চলছে।

সম্প্রতি এমপি সেলিম ওসমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ইতোমধ্যে সৈয়দপুর-মদনগঞ্জ দিয়ে একটি সেতু নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। শহরের অভ্যন্তরে আরো একটি সেতু অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। আমি বিষয়টি বহুবার আমার বক্তব্যে গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেছি। যার মধ্যে ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী ব্যক্তিগত উদ্যোগে নবীগঞ্জ খেয়াঘাট টোল ফ্রি করার দিন আমার বক্তব্যে জোরালো ভাবে উল্লেখ করে ছিলাম এমপি করলো না মেয়র করলো সেটি বড় কথা নয়। শহর-বন্দরবাসীর জন্য আরো একটি সেতু হওয়া প্রয়োজন। এর আগে ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই পরিকল্পনামন্ত্রী আ.ফ.ম মোস্তফা কামালকে সাথে নিয়ে সরেজমিনে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হওয়া যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে ছিলাম। পরে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল ফেরীঘাট দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর একটি ফুটওভার ব্রিজ এবং নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র প্রেরণ করি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিনই পরিকল্পনা মন্ত্রনালয় থেকে মন্ত্রীর একান্ত সচিব ফরিদ আজিজ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি (স্মারক নং- ২০.০০.০০০০.১০০.১৪.০১৪.১৫.৫৩৬) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর প্রেরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়।

সেলিম ওসমান আরো বলেন, ‘পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ৫ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ব্রিজ চেয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বরাবর আমি আরো একটি চাহিদা পত্র প্রেরন করি। সেতুমন্ত্রীকে প্রেরিত ওই চাহিদা পত্রে শহর-বন্দর মধ্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করনের গুরুত্ব তুলে ধরে গুরুত্ব পূর্ণ পয়েন্ট নবীগঞ্জ খেয়াঘাট, বরফকল খেয়াঘাট, ৫নং খেয়াঘাট ও সেন্ট্রাল ফেরীঘাট দিয়ে সেতু নির্মাণের জন্য চাহিদা পত্র প্রেরণ করি। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয় এবং শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বন্দর আসলে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নবীগঞ্জ অথবা ৫নং ঘাট দিয়ে আরো একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণের দাবী তুলেন। সাধারণ মানুষের দাবীর সাথে আমিও একমত পোষন করে যোগ করেছি যেহেতু সেতু নির্মাণ করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তাই সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে ফেরী সার্ভিস চালু করতে হবে। সকলের দাবীর প্রেক্ষিতে মন্ত্রী আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফেরী চালুর ঘোষণা দিয়ে ছিলেন। যদিও নানা জটিলতায় ফেরী চালু হতে একটু কালক্ষেপন হয়েছে তারপরেও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এবং ৫নং খেয়াঘাট-সেন্ট্রাল খেয়াঘাট দিয়ে পৃথক দুটি ফেরী সার্ভিস চালু রয়েছে

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর