rabbhaban

তাস খেলা বন্ধ ক্লাবগুলোতে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৩৩ পিএম, ০৭ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
তাস খেলা বন্ধ ক্লাবগুলোতে

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ইউনাইটেড ক্লাবে অভিযানের পর সবগুলো ক্লাবে কার্ড তথা তাস খেলাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্লাবে সাধারণত সময় পার করতেও কার্ড খেলা হতো সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর রাতে ফতুল্লায় দ্যা ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন (ইউনাইটেড ক্লাব হিসেবে পরিচিত) ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ৭ জুয়ারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আসামিদের কাছ থেকে ৩ বান্ডেল কার্ড, নগদ ২০ হাজার ৫শ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, পঞ্চবটির ধনাঢ্যদের ক্লাব হিসেবে পরিচিত ইউনাইটেড ক্লাব। প্রতিরাতেই এখানে বসে জুয়ার আসর। বিশেস করে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হয় আসরটি। চলে শুক্রবার। চাউর আছে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া জুয়ার আসর পরদিন রাতও গড়ায়।

নির্দিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাবেও বসে জুয়া ও মদের আসর বসার কথা চাউর আছে। নির্দিষ্ট রুমে রাত হতেই বসে জুয়ার আসর এর সাথে চলে মদের প্যাক। পাশাপাশি অন্যান্য মাদকও সেবন করা হয়। আর ক্লাবের কোন কোন কক্ষে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। রাতভর চলা এই আসর থেকে মাঝ রাতে অনেক সদস্যকে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। এ চিত্র প্রতিদিনের।

রূপগঞ্জের ৫০ স্পটে প্রকাশ্য ও গোপন ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাবগুলোতে ডিজে পার্টির নামে চলে নগ্ন নৃত্য ও অসমাজিক কার্যকলাপ। ডিজের নৃত্যের সাথে চলে মদের প্যাক। এর সাথে বসে জুয়ার আসর। শীত মৌসুম ডিজে মৌসুম। তবে বর্ষাকালে অভিনব কায়দায় চলে ডিজে পার্টির অনুষ্ঠান। ডিজে পার্টির কারণে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা, যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের মতো ঘটনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব ক্লাবে ২০ থেকে ৩০ জন করে রয়েছে ডিজে তরুণ-তরুণী। ক্লাবগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিংবা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। গ্লামার গার্ল, লাবণ্যময়ী, লাস্যময়ী, অস্পরী তরুনীরা এসব ক্লাবের নাচনেওয়ালী। লোক দেখানো থাকে কয়েকজন তরুণ। এসব তরুণ-তরুণীরা ক্লাবের হয়ে ভাড়ায় খাটে।

আরো জানা যায়, রূপগঞ্জের ভুলতা, গোলাকান্দাইল, তারাবো, দাউদপুর, রূপগঞ্জ সদর, কায়েতপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় এসব ডিজে ক্লাব গড়ে উঠেছে। বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এসব ডিজে ক্লাব।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নামে বেনামে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ক্লাব। এসব ক্লাবগুলো সামাজিক সেবা ও ক্রীড়া সংগঠনের আড়ালে নানা অবৈধ কার্যকলাপ করে যাচ্ছে। প্রভাবশালী ও ধর্ণাঢ্যদের ছত্রছায়ায় এরা বার বার পর পেয়ে যাচ্ছে। তবে এবার শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে দিয়ে ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। এতে করে বাকি ক্লাবগুলোও রেড লাইনে রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

চলতি বছরের ১০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের জিমখানা এলাকায় একটি জুয়ার আসরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে সেই জমজমাট জুয়ার আসর থেকে কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি।

এর আগে ৮ মার্চ সন্ধ্যায় সুতা ব্যবসায়ীদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের টানবাজারস্থ কার্যালয়ে অবস্থিত ইয়ার্ন মার্চেন্ট ক্লাব থেকে ১২ জুয়ারিকে আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ। এসময় কার্যালয়ের ৫ম তলায় অবস্থিত হোটেলের ৩ কর্মচারীকেও আটক করা হয়।

২০১৮ সালের ১০ মার্চ সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের (বিবি রোড) কালিরবাজার এলাকায় অবস্থিত আমান ভবনে সিটি ক্লাবের জুয়ার স্পটে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় জুয়াড়িরা পালিয়ে গেলেও তাদের ফেলে যাওয়া তাস জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই স্পটটি নিয়ন্ত্রন করে ডিস ব্যবসায়ী শামীম ওরফে পিজা শামীম। তার বাড়ি চাষাঢ়া এলাকাতে। ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর রাতে কালিরবাজার সিটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ২১ জুয়ারীকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর শহরের কালিরবাজার স্বর্নপট্টিতে জুয়া খেলাসহ অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দেন স্বর্ণপট্টি এলাকার ব্যবসায়ীরা। স্মারকলিপিতে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন, স্বর্ণপট্টি এলাকায় কতিপয় ব্যাক্তি একাধিক বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে জুয়ার আসর বসিয়েছে। ওইসকল জুয়ার আসরে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ নানা ধরনের অপরাধীরা প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর