rabbhaban

নারায়ণঞ্জবাসীর স্বপ্নের ডাবল রেল লাইন প্রকল্প কাজ দ্রুতগতিতে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫০ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার
নারায়ণঞ্জবাসীর স্বপ্নের ডাবল রেল লাইন প্রকল্প কাজ দ্রুতগতিতে

নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বপ্নের প্রকল্প হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে ডাবল রেল লাইন। এই দাবিতে অনেকবার সভা সমাবেশ সহ রাজপথে নামতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসীকে। বহু আন্দোলনের পর ২০১৫ সালে এই প্রকল্পের একনেকের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। বহু বাধা বিপত্তির পার করে নারায়ণগঞ্জবাসীর বহুল প্রত্যাশিত এই প্রকল্পের কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইতোমধ্যে ডাবল রেল লাইনের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ৫টি স্টেশন ভবন ও প্লাটফর্ম শেড এর মধ্যে পাগলা ও শ্যামপুরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ জায়গায় মাটি ফেলে ভরাট করার কাজ শেষ হয়েছে। শেষের দিকে আছে এই পথের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ। রেল লাইন স্থাপনের জন্য স্লিপার এনে রাখা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় স্টেশনে। এছাড়া চাষাঢ়া স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় রেল লইন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর রেল লাইনের দুই পাশে রাখা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করতে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনের সমান্তরালে ডুয়েলগেজ দ্বিতীয় লাইন নির্মাণ করা হবে। এজন্য ২০১৭ সালের ২০ জুন চায়না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কন্সট্রাকশন করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে রেলওয়ে। প্রকল্পটির আওতায় ১২ দশমিক ১০ কিলোমিটার মেইন লাইন ও পাঁচ দশমিক ১০ কিলোমিটার লুপ লাইন নির্মাণ করা হবে। রেলপথটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩’৭৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

রেললাইন ছাড়াও এ রেলপথে ১১টি সেতু ও কালভার্ট, দুটি ওয়াশপিট, একটি অফিস কাম স্টেশন বিল্ডিং, ৫টি স্টেশন ভবন ও প্লাটফর্ম শেড, চারটি ফুট ওভারব্রিজ, ১৮ হাজার ৯৫০ মিটার বাউন্ডারি ওয়াল, ১২টি লেভেল ক্রসিং গেট, তিন হাজার ৩শ’ মিটার ফ্যান্সিং, ৯ হাজার ৫০৭ বর্গমিটার সংযোগ সড়ক এবং তিন হাজার মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ২০১৭ সালের জুনে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার ছিল। পরে তা বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুনে নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ডাবল রেল লাইলানের সব থেকে বড় বাধা ছিল রেলের দুই পাশের জায়গা দখলমুক্ত করা। ইতোমধ্যে সেই কাজেরও সিংহ ভাগ শেষ করেছে রেলওয়ে।

সর্বশেষ গত ১৬ অক্টোবর ঢাকা রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক আনসার ও পুলিশের উপস্থিতিতে রেল স্টেশনের পাশ্চিমপাশে রেলওয়ের প্রায় ৩ একর জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা একটি টিনসেড মার্কেট, ফলের দোকান, জুতার দোকান, রেডিমেট জামাকাপড়ের দোকান, স্কুল ব্যাগের দোকান, বস্তি ঘর সহ প্রায় কাচাপাকা কয়েখ শতাধিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেয় হয়।

পরের দিন ১৭ অক্টোবর শহরের ২নং রেলগেইট এলাকায় গত দেড় দশক আগে গড়ে উঠে কাটা কাপড় বা থান কাপড়ের মার্কেট গুঁড়িয়ে দেয় রেলওয়ে। রেল লাইনের দুই পাশে ৪৫ফুট করে জায়গা দখল মুক্ত করা হয়। এতে ভাঙ্গা পড়ে অন্তত কয়েক হাজার স্থাপনা। এসময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নেতাকর্মী নিয়ে উপস্থিত হয়ে মনির হোটেল সহ বেশ কয়েকটি স্থাপনার জন্য সময় চেয়ে নেন। অন্য কোনো বাধা না আসলে অতি শীঘ্রই দখলকৃত অবশিষ্ট জায়গাও দখল মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্মকর্তারা।

রেলওয়ের এক কর্মকর্তা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ডাবল রেল লাইন প্রকল্পে এখন একটি গতি চলে এসেছে। নতুন করে কোনো বাধা আমরা দেখেতে পাচ্ছি না। যদি এই গতিতে কাজ চলতে থাকে তাহলে খুব শিঘ্রই কাজ শেষ হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর