rabbhaban

সন্তানকে শিকল বেঁধে কাজে যান মা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০১:৫৬ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
সন্তানকে শিকল বেঁধে কাজে যান মা

নারায়ণগঞ্জে প্রায় সময়ই নদীপথে মুন্সিগঞ্জ ও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষরা দেখতে পান একটি হৃদয় নাড়া দেয়া চিত্র। এর সেটি হচ্ছে টার্মিনাল ঘাটে নিজের সন্তানকে টার্মিনালে চলাচলের রাস্তার পাশে হাতলে শিকল দিয়ে বেধে রেখে কাজে যান মা। ক্লান্ত শরীরে বা বৈরী আবহাওয়া সবকিছুকেই সহ্য করে মানিয়ে নিতে হয় এ বাচ্চাটিকে। প্রায় সময় এমন ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল করেন অনেকে।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) এমন একটি ছবি পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ছবির সত্যতাও পাওয়া যায় টার্মিনাল ঘাটে গিয়ে। সেখানে দেখা যায় একটি ছেলেকে তার মা শিকল দিয়ে বেধে কাজে চলে গেছেন। সেখানে অস্থায়ী কয়েক দোকানি জানান, মূলত ছেলে যেন হারিয়ে না যায় বা কোথাও না যায় সেজন্যই মা এ কাজ করেন। আবার অনেকে ভীক্ষা করতে বিভিন্ন স্থান থেকে শহরে আসেন তখন তাদের সন্তানকেও এখানে বেধে রেখে যান।

টার্মিনাল ঘাটের অস্থায়ী আচার বিক্রেতা রবিউল জানান, এরকম দৃশ্য তিনি মাঝে মাঝেই দেখেন। অনেক সময় রাত অবধি এভাবেই বাধা থাকে শিশুটি। মূলত মা সাথে করে বাচ্চাকে এনে এখানে বেধে তারপর কাজ করে আবার যাবার সময় নিয়ে যায়। তবে কখন বাধেন আর কখন খোলেন সেটি অনেক সময় দেখেন না তারা। হুটহাট বেধে চলে যান।

রবিউলের কথার প্রমাণও পাওয়া যায়। কথা বলার জন্য দুপুরের পর থেকে সেখানে থাকলেও বিকেলে হঠাৎ করেই দেখা যায় শিশুটি সেখানে নেই। পরে সেখানে অবস্থান করা জয়নাল নামে একজন জানান তিনি একটু আগেই দেখেছেন এখন অর্ধ বয়স্ক মহিলা তালা খুলে নিয়ে যাচ্ছেন বাচ্চাটিকে। তার বাচ্চাই হবে এমনটাই জানান তিনি।

এমন মানবিক ছবি, দৃশ্য দেখে অনেকেই শিশুটিকে খাবার কিনে দেন আবার অনেকেই রোদ বৃষ্টিতে তাকে ছাতা কিংবা পানি কিনে দেন। তবে শিশুটিকে এমন বন্দি অবস্থায় দেখে মায়া হলেও কর্মব্যস্ত এ জীবনে কেউ বেশি সময় নিয়ে দেখার সময়ও পান না।

এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় অনেকেই। তাদের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি এই সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা করা হতো তাহলে হয়তো তাদের সড়কে এভাবে বন্দি থাকতে হতোনা অথবা যদি সকলের কাজের স্থানেই শিশুদের রাখার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকতো তাহলে আর সমস্যা হতোনা কিংবা কোন মা হয়তো আর তার সন্তানকে এভাবে বেধে কাজে যেতেন না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর