‘পরীক্ষা না দিলে বাবার আত্মা কষ্ট পেত’


রূপগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার
‘পরীক্ষা না দিলে বাবার আত্মা কষ্ট পেত’

সন্তানের জীবনের শ্রেষ্ঠতে যিনি সে পিতা অকালে মারা গেছেন। বাড়ি ভর্তি হাজারো স্বজন আর গ্রামবাসী। শোক আর কান্নায় মাতোয়ারা বাড়ির আঙ্গিনা। চলছে শেষ গোসলের প্রস্ততি। সে অবস্থায় বাবার একমাত্র মেয়েটির প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার চূড়ান্তক্ষণ। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে পরিজনদের হ্যাঁ না দোটানা সিদ্ধান্তকালে জ্যোতির কানে বেজে উঠে বাবার অতিতের কিছু কথা। তার বাবা তাকে বলেছিলেন ‘লেখাপড়া করে অনেক বড় হতে হবে’। এ কারনে বাবাকে শেষ বিদায় দেয়ায় কালে উপস্থিত না থেকে পরিক্ষা কেন্দ্রে ছুটে আসে জ্যোতি। কান্নারত অবস্থায় শেষ করে পুরো পরিক্ষা। ততক্ষনে জানাজা আর দাফন হয়ে গেছে তার বাবার। উপজেলার হাটাব মধ্যেপাড়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, হাটাব মধ্যেপাড়া এলাকার হারেজ মিয়ার ছেলে জামান মিয়ার (৪১) হঠাৎ শ^াসনালীতে ছিদ্র ধরা পড়ে। গত কয়েকদিন যাবত তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ১৭ নভেম্বর রবিবার রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জামান সোমবার সকাল ১১টায় তার জানাযার নামাজের সময় নির্ধারন করা হয়।

এদিকে দুই ছেলে ও একমাত্র মেয়ের মধ্যে জামান মিয়ার সবচেয়ে আদরের সন্তান ছিল তার মেয়ে জ্যোতি আক্তার। তিনি বলতেন আমার ঘরে বেহেশত এসেছে। মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত বানানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

জ্যোতিকে বলতেন, ‘মা তোমাকে পড়ালেখা করে অনেক বড় হতে হবে’।

হাটাব দক্ষিন বাড়ৈ শিশু নিকেতন ব্র্যাক স্কুলের এবার পিসএসসি পরীক্ষার্থী জ্যোতি সোমবার বাংলা বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়। বাড়িতে বাবার লাশ ফেলে শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া শিশু জ্যোতি পরীক্ষা চলাকালীন অবস্থায় সারাক্ষন কান্নারত অবস্থায় পরিক্ষা সমাপ্ত করেন।

পরিক্ষা শেষে পরীক্ষা কেন্দ্র কাঞ্চন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হল সুপার ও শিক্ষকগণ তার এ সাহসী সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে জ্যোতি জানায়, তার বাবা তাকে অনেক ভালবাসতো। তার বাবা চাইতো সে যেনো পড়ালেখা করে অনেক বড় হয়। এখন চূড়ান্ত এ পরিক্ষা না দিলে তার বাবার আত্মা হয়তো কষ্ট পেতো। এ কারনে নিজেকে কষ্ট দিয়ে বাবাকে বিদায় না দিয়ে পরিক্ষা সম্পন্ন করেছে সে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, শিশুটির বাবা এমন সময় মারা গেছেন সেটা খুবই কষ্টদায়ক। তারপরও শিশুটি বাবা হারানোর কষ্ট নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছেন। আমরা তার পরীক্ষার সময় যতোটা সহযোগীতা দরকার করেছি। হল সুপার পুরো সময় শিশুটির পাশে দাড়িয়ে থেকে তাকে শান্তনা দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর