‘ওরে ওয়াজিদ তুই আমার কাছে আয় আমার মানিক’ (ভিডিও)


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
‘ওরে ওয়াজিদ তুই আমার কাছে আয় আমার মানিক’ (ভিডিও)

ওয়াজিদের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর মা কাকলী বেগম ধসে পড়া ভবনের সামনে যান না। কারণে সেখানে গেলেই ছেলের নির্মম মৃত্যুর দৃশ্য তাঁর চোখে ভেসে ওঠে। তবু ১৬ নভেম্বর ওয়াজিদের জন্মদিনে ছোট মেয়েকে নিয়ে একবার সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। একমাত্র ছেলের মাত্র ১২তম জন্মদিনে অঝোরে বেদনার অশ্রু ঝরিয়েছেন।

১৮ নভেম্বর সোমবার দুপুরে ওয়াজিদের জন্মদিন সম্পর্কে জানতে ওয়াজিদের বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায় ছোট বোন সাইফা খাতুন অহনা (১০) বড় ভাইয়ের ব্যাডমিন্টন ব্যাট দিয়ে খেলছিল। ঘরের ভিতরে তখনো দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে কাকলী বেগমের। থেমে থেমে বিলাপ করছিলেন। পাশেই বসে থাকা দাদি গুলশানআরা স্তব্ধ। এ সময় ওয়াজিদের বাবা রুবেল বাসায় ছিলেন না।

প্রতিবেদককে দেখেই মা কাকলী বেগমের আর্তনাদ যেন আরো বেড়ে যায়। বুকফাটা আহাজারিতে তিনি বলেন, ‘‘ছোটবেলায় ওয় অনেক অসুস্থ থাকতো। কিছু হইলে সহ্য করতে পারতাম না। বড় বড় ডাক্তার দেখাইতাম। হেই কান্দন আমারে সারা জীবনের কান্দন দিয়া গেলো। আমার ময়না পাখিটা আর আইতো না। এই দিকে চাই ওয়াজিদ ওই দিকে চাই ওয়াজিদরে দেখি না।’’

ওয়াজিদের জন্মদিনের কথা বলতেই হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে মা কাকলী বেগম বলেন, ‘‘আজকে ১৭দিন আমার ওয়াজিদে নাই। আল্লাহ তুমি এইটা আমার কি করলা? ওরে ছাড়া আমি বাঁচমু কি ভাবে? শনিবারে জন্মদিন গেছে। মনে মনে ওরে অনেক ডাকি ওয়াজিদ তুই আমার কাছে আয় আমার মানিক। আজকে সকালেও ডাকছি। আমি ওরে কেমনে ভুলমু। আমার দিন কেমনে যাইতাছে আমি জানি। আমার ওয়াজিদরে একটু কেউ আইনা দিতো।

ওয়াজিদের শেষ স্মৃতি হিসেবে ওর খেলনা কয়েকটি লাটিম, একটি ক্রিকেট ব্যাট ও একটি বড় চুম্বক বের করে সেগুলো ছুঁয়ে দিতে থাকেন মা। নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘এই লাটিমগুলা দিয়া আমার মানিক খেলতো। এইগুলা দিয়া ফুল বানাইতো। কিন্তু ওই কার্টুন দেখতে খুব পছন্দ করতো। ওর দাদা আবার টিভি দেখা পছন্দ করতো না। বাইরে যাওয়ার সময় ওর দাদায় বইলা যাইতো যে টিভি দেইখো না। কিন্তু এখন আর টিভি দেখা নিয়া উনি কিছু বলে না।’’

তিনি আরো বলেন, ওর দাদায় নামাজ পড়ে তাই জন্মদিন করতে দেয় না। ওর দাদার ডরে নাতিয়ে কইতো দাদু ছোট্ট একটা কেক আইনা আমাগো দুই ভাই বইনেরে দেও আমরা দুই ভাই বইনে খাই। ওর দাদায় তাও করতে দিতো না। ওর মায় ছোট্ট একটা কেক আইনা দুই জনেরে খাওয়াইতো। শনিবারে জন্মদিন গেছে। ওর দাদায় নামাজ পড়ে তাই জন্মদিন করতে দেয় না। ওর দাদার ডরে নাতিয়ে কইতো দাদু ছোট্ট একটা কেক আইনা আমাগো দুই ভাই বইনেরে দেও আমরা দুই ভাই বইনে খাই। ওর দাদায় তাও করতে দিতো না। ওর মায় ছোট্ট একটা কেক আইনা দুই জনেরে খাওয়াইতো।

ভাইকে হারিয়ে ছোট্ট অহনাও এখন পড়তে বসে না। কারণ আগে সব সময় ভাইয়ের সাথে পড়তে বসতো। টলমলে চোখে অহনা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলে, ভাইয়ের সাথে পড়তাম খেলতাম একসাথে খাইতাম। গতবার জন্মদিনে অনেক মজা করছিলাম। কিন্তু এইবার ভাইয়া নাই। তাই এইবার কিছু করতে পারি নাই। ভাইয়ার কথা খুব মনে পড়ে।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইলে মুন্সিবাড়ি এলাকায় একটি চারতলা ভবন ধসে পড়ে। সেই ভবনে আটকে পড়ে ইফতেখার আহমেদ ওয়াজিদ (১২)। প্রায় ৪৮ ঘন্টা পর ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে ওয়াজিদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় মারা যায় ওয়াজিদের খালাতো ভাই মো. সোহায়ের (১২)। এছাড়া আহত হয় আরো ৫জন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর