শীতের আগমনে আলকাতরায় পরিণত হচ্ছে শীতলক্ষ্যার পানি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
শীতের আগমনে আলকাতরায় পরিণত হচ্ছে শীতলক্ষ্যার পানি

শীতের আগমনে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি কমতে শুরু করায় বদলাতে শুরু করেছে এর পরিবেশ। পানি কমতে থাকায় পানিতে ময়লা আবর্জনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পাড়ে গেলেই পানি থেকে ভেসে আসে বিভিন্ন কলকারখানার ক্যামিকেলের দুর্গন্ধ। পানি কমতে থাকায় বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্যে শীতলক্ষ্যার পানি যেন দিনদিন আলকাতরায় পরিণত হচ্ছে।

জানা গেছে, কিছুদিন আগেও বর্ষার মৌসুমে শীতলক্ষ্যায় ছিল টলমলে পরিষ্কার পানি। নদীতে জাল ফেলে মাছও ধরতো জেলেরা। নদীতে চলাচল করেছে পালতোলা নৌকা। শীতলক্ষ্যার পানিতে শিশুদের দূরন্তপনায় মেতে থাকতো। দেখে মনে হয়েছিল যেন শীতলক্ষ্যা তার যৌবন ফিরে পেয়েছে। মাত্র এক মাস আগেও শীতলক্ষ্যায় ছিল সেই পরিবেশ। তবে এক মাসের ব্যবধানেই বদলে যাচ্ছে শীতলক্ষ্যার পরিবেশ। পানির রং বদলে যেমন দিনদিন কালো হয়ে যাচ্ছে। তেমনি পানি থেকে ছড়াচ্ছে ভয়াবহ দুর্গন্ধ। এতে করে শীতলক্ষ্যার দুই তীরের মানুষের দুর্ভোগ আবারো বেড়ে যাচ্ছে।

৭ ডিসেম্বর সরেজমিনে দেখা যায় শীতলক্ষ্যা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আলকাতরার মত কালো পানি বয়ে যাচ্ছে দক্ষিণের দিকে। ৫নং ঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জের সব থেকে বড় পাইকারী বাজার নিতাইগঞ্জ বাজার পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশে একটু একটু করে আবারো ময়লা-আবর্জনা জমতে শুরু করেছে। নদীর পাড় ঘেঁষে বিভিন্ন অংশে পানির নিচ থেকে বিষাক্ত গ্যাসের বুদবুদ উঠছে। বুদবুদের সাথে ভেষে উঠছে পঁচা ময়লা আর দুর্গন্ধ। ফলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের সাথে নদীর উপর নির্ভর মানুষের উপর নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

সেন্ট্রাল খেয়া ঘাটের মাঝি আব্দুল হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘এক দেড় মাস আগেও নদীতে অনেক পানি ছিল। তখন নদীতে প্রচুর ¯্রােতও ছিল। প্রতিদিন অনেক মানুষ নদীর পাড়ে ঘুরতে আইতো। নৌকা ভাড়া নিয়া অনেক মানুষ নদীতেও ঘুরতো। পানি কত সুন্দর পরিষ্কার ছিল কোনো গন্ধ আইতো না। শীতের কারণে পানি কমতে শুরু করছে তাই পানি আস্তে আস্তে ড্রেনের পানির মত হইতাছে। বাঁশ দিয়া নদীর গভিরে খোঁচা দিলেই পঁচা ময়লা আর গ্যাস ভাইসা উঠে। মনে হয় নিচে যা ছিল সব পইচা গেছে। শীতের মৌসুমে পানি আরো কমতে পারে। তখনতো মনে হয় আরো খারাপ অবস্থা হইবো।’’

বন্দরের বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘দাদির মুখে শুনতাম তাঁরা নাকি এই নদীর পানি দিয়া রান্না করতো, খাইতো। কিন্তু এখন নদীর পানির যে অবস্থা তাতে অবাস্তব মনে হয়। কারণ পানি থেকে যে দুর্গন্ধ আসে এই পানি খাওয়া অসম্ভব।’’

তাঁর সহকর্মী গবিন্দা সাহা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘মাসে মাসে নদীর পানির কালার বদলায়। পানি যখন বেশি থাকে তখন একটু পরিষ্কার মনে হয়। কিন্তু পানি কমলেই কালো হয়ে যায়। এর কারণ হইলো নদীর ধারে থাকা কারখানাগুলার বর্জ্য সরাসরি পানিতে নদীতে এসে পরে। তবে সম্প্রতি প্রশাসনকে অনেক কঠোর হয়েছে। অনেক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। যদি এই ভাবে চরতে থাকে তাহলে হয়তো আমাদের ঐতিহ্যের নদীটি রক্ষা পাবে।’’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর