করোনায় কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষ পৌঁছে দিবে ‘আপনার বাড়ির বাজার’


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:১৩ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০২০, বুধবার
করোনায় কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষ পৌঁছে দিবে ‘আপনার বাড়ির বাজার’

করোনাভাইরাসের কারণে শ্রমজীবী মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছে। আবার হোম কোয়ারেন্টাইনে থাবা ব্যক্তিটিও জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হতে পারছেন না। অনেকে বাজার ও ওষুধের মত জরুরি জিনিস কিনতে বাইরে আসছেন সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া। এতে বাজারে আসা ব্যক্তিটি আক্রান্ত হলে তাঁর পরিবারেও ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনাভাইরাস।

এসবদিক বিবেচনা করে শ্রমজীবী মানুষদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এবং পার্সনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) এর ব্যবহার নিশ্চিৎ করে তাঁদের আয়ের ব্যবস্থা করে এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তি কিংবা সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিয়ে বাজারে আসা ব্যক্তিটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ এক উদ্যোগ নিয়েছে ‘করোনা রেস্পন্স টিম’। তাঁদের হট লাইনে ফোন করে জানালেই প্রয়োজনীয় পন্য পৌঁছে যাবে আপনার দরজায়। আর এর জন্য গুনতে হবে নামমাত্র খরচ।

১ এপ্রিল বুধবার সন্ধায় গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন ‘করোনা রেস্পন্স টিম’ এর উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব সুমন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ‘করোনা রেস্পন্স টিমের উদ্যোক্তা ফারহানা মানিক মুনা ও ইলিয়াস জামান।

সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব সুমন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে শ্রমজীবী মানুষগুলো এখন বেকার। অপর দিকে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে বাজারে যাচ্ছেন। দুটি দিক বিবেচনা করেই আমরা একটি সেবা চালু করেছি। যেটার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইমার্জেন্সি’। আমাদের হটলাইনে ফোন করে জানলে প্রয়োজনীয় পন্য বাসায় গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, বাজারকর্মী হিসেবে যেসব শ্রমজীবী মানুষ কাজ করবে তাঁদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া সম্পূর্ণ পিপিই ব্যবহার নিশ্চিত করে বাজারকর্মী এবং যারা পন্যের অর্ডার করবে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, পন্য হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা শুধু মুদিপন্য, কাঁচাবাজার ও ওষুধ সর্বরাহ করব। এছাড়া স্যানিটাইজার, হ্যান্ডগ্লাভস কিংবা এধরণের পন্য যদি বাজারে পাওয়া যায় সেগুলোও সর্বরাহ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক ভাবে আমরা নারায়ণগঞ্জ শহর এবং শহরের আশপাশের এলাকা যেমন ফতুল্লা, বন্দর, সাইনবোর্ড ইত্যাদি এলাকা নির্ধারণ করেছি। পরবর্তিতে যদি মানুষের সারা পাই তাহলে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায় এই সেবা চালু করা হবে।

খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে যারা ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করবেন তাঁরা সাবাই শ্রমজীবী মানুষ। যারা করোনাভাইরাসের কারণে এখন কর্মহীন। মাস শেষে তাঁদের সংসার চালানোর জন্য ন্যূনতম কিছু টাকা তুলে দেওয়ার জন্য যে টাকা প্রয়োজন হবে সেই টাকাটাই শুধু গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হবে। একজন বাজারে গেলে রিকশা ভাড়া আছে, এছাড়া বাজার করে নিয়ে আসার জন্য পারিশ্রমিক যেটা আসে ঠিক সেই পরিমাণ খরচই আমরা নিবো। এখানে প্রফিট বলতে আমরা কিছুই নিব না।

তিনি বলেন, আমাদের দুইটি হটলাইন নাম্বার ০১৮৩৫৮১১৫৫২ এবং ০১৬৮৪৩৭৫৭২০ এ ফোন দিলে আগামীকাল থেকেই প্রয়োজনীয় পন্য সরবরাহ করা হবে। এবং করোনাভাইরাসের প্রভাব না কাটা পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর