করোনায় মজবুত হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০২০, সোমবার
করোনায় মজবুত হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় অনেকেই হিমশিম খেতে শুরু করে দিয়েছেন। সংসার জীবনে তাদেরকে অনেক চাপ সামলাতে হচ্ছে। তবে এই করোনা ভাইরাসের কারণে এসকল সকল খারাপ দিকের মাঝে কিছু ভাল দিকও দেখা দিয়েছে। কারণ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সকলকে ঘরে থাকার সরকারি নির্দেশনা জারি থাকায় তাদের পারিবারিক বন্ধন মজবুত হচ্ছে। আগে বিভিন্ন ঝামেলায় পরিবারকে সময় দিতে না পারলেও করোনার কারণে এখন তাদের পরিবারকে পুরোপুরিভাবে সময় দিতে পারছেন। এতে করে পরিবারের সকলের মাঝেই সন্তুষ্টি বিরাজ করছে।

সূত্র বলছে, প্রাণঘাতি এক ভাইরাসের নাম হচ্ছে করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি। ইতোমধ্যে বিশে^র বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এতদিন এই ভাইরাস বাংলাদেশের বাইরে থাকলেও এবার বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে এই করোনা ভাইরাস। আর এই ভাইরাস থেকে মুক্তির অন্যতম উপায় হচ্ছে জনসচেতনতা। সেই সাথে সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।

যার ধারাবাহিকতায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের লক্ষ্যে সকল প্রকার গণজমায়েত বন্ধ ও ঘরের বাহিরে বের না হওয়ার নির্দেশনা জারি করেছেন সরকার। সেই সাথে ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ সহ যত প্রকার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে সকলকেই নামিয়ে দেয়া হয়েছে সরকারি নির্দেশনাকে ভালভাবে পালন করার জন্য। ফলে সাধারণ জনগণ বাধ্য হয়েই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজ ঘরেই পরিবারের সাথে সময় ব্যয় করছেন। আর এই সুযোগে তাদের পারিবারিক বন্ধন আরও মজবুত হচ্ছে।

শহরের কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মোঃ জসিম উদ্দিন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সকাল থেকে শুরু করে রাত অবধি তাকে অফিসেই সময় দিতে হয়। কিন্তু এই করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে এখন তাকে অফিসে যেতে হচ্ছে না। সারাদিন বাসাই বসে পরিবারের সদস্যদের নিয়েই তার এখন দিন কাটছে।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সচেতনতাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই কয়েকদিন ধরে স্বেচ্ছায় বাসায় আছি। স্ত্রী, সন্তারদের নিয়ে কাটছে সময়। গৃহকর্মী না আসায় বাসার কাজ স্ত্রী আর আমি দুজনে মিলেই সামলাচ্ছি। টিভি দেখছি, বই পড়ছি, সন্তানদের নিয়ে খেলা করছি। এতে আমার পরিবারের সবাই খুশি।

ঠিক একই কথা বলছিলেন শহরের জামতলা এলাকার বাসিন্দা মনি আক্তার। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাকে আর অফিসে যেতে হচ্ছে না। অন্যসময় সকাল সকাল উঠে বাসার কাজ করতে হলেও এখন ঘুম থেকে উঠছেন দেরিতে। কারণ এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সন্তানদের সকালে স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস আমার ব্যস্ত জীবনে সুখ এনে দিয়েছে। অন্যসময় রুটিন মাফিক ব্যস্ততায় জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছিল। এখন সন্তান, স্বামীকে নিয়ে বেশ ভালোই আছি। তবে দীর্ঘদিন এ অবস্থা অবশ্যই ভালো লাগবে না
এ বিষয়ে এক বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ভিসির মত হচ্ছে, নানা কর্মব্যস্ততায় এতোদিন মানুষজন পরিবারে সময় দিতে পারতো না। করোনা ভাইরাসের কারণে এখন সবাই গৃহবন্দি। যাদের সময় কাটছে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে। এতে পারিবারিক যে সম্পর্ক তা মজবুত হচ্ছে। এখন বাবা-মা দুজনই সন্তানদের সময় দিচ্ছেন। এতে তাদের মায়া মমতা দৃঢ় হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর