করোনার থাবায় নারায়ণগঞ্জে পহেলা বৈশাখে ঘরবন্দী বর্ষবরণ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২০, মঙ্গলবার
করোনার থাবায় নারায়ণগঞ্জে পহেলা বৈশাখে ঘরবন্দী বর্ষবরণ ছবিটি ফটোগ্রাফার তন্ময় দাসের সৌজন্যে

বাঙালী জাতির সব থেকে বড় ও প্রধান উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর এ উৎসবে নতুন করে মেলাবন্ধনে আবদ্ধ হয় পুরো জাতি। ধর্ম বর্ণ গোত্র জাত ভুলে সবাই মেতে উঠে উৎসবের আনন্দে। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে এ আনন্দের ধারবাহিকতা থাকলেও নারায়ণগঞ্জে বাংলা নববর্ষ এবার একটু অন্যভাবেই এলো। ঢাকের ঢোল বাজছে না, বসছে না মেলা হাটে ঘাটে, ইলিশ খাওয়ার ধুম আর ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতাও নেই। যা আছে সকলের মনে সেটা হল ভয় আর আতঙ্ক। ফলে নববর্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লকডাউন। প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সহ সকল শ্রেনির পেশার মানুষই আজ ঘরবন্দী। ভয়াবহ করোন ভাইরাস থেকে সকলেই মুক্তি কামনা করেছেন নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময়ে।

১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এবার আর বের হয়নি কোন শোভাযাত্রা। যে শহীদ মিনারে সূর্যোদ্বয়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’’ গানে নতুন বছরকে বরণ করা হতো সেখানে সকাল থেকেই শূন্য পড়ে ছিল।

লোক সমাগম নেই, ছিল না বাঁশির শব্দ। এক প্রাণহীন অচেনা নগরীতে বৈশাখ কাটছে নগরবাসীর।

বাংলা পঞ্জিকা ও ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসেবে একই দিনে পালন করা হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। যদিও পহেলা পক্ষে বিভিন্ন দোকানে হালখাতা উদযাপনের আয়োজন থাকলেও এবার সব দোকানই বন্ধ। অনেকেই দোকান খুললেও সেটা দ্রুতই বন্ধ করে চলে গেছে। নেই ক্রেতা বিক্রেতার মিষ্টিমুখের দৃশ্য। এজন্য শহরের মিষ্টির দোকানগুলোও ছিল বন্ধ। মিষ্টি বেচাকেনারও নেই তেমন ভীড়। সবত্রই এক করোনার শূন্যতা ছেঁয়ে গেছে।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার গত ২৫ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। যার জন্য সরকারি অফিস আদালত, বেসরকারি অফিস, বীমা ও ব্যাংক সহ দোকান, শিল্পকারখানা সবই বন্ধ করে দেয়া হয়। এমন কি সব শেষ গণপরিবহনও বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘোষণা করা হয় লকডাউন। ফলে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারেছেন না। এতে করে কর্মহীন হয়ে ঘর বন্দি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কর্মব্যস্ত শহর, রাস্তা, ঘাট সবাই হয়েছে ফাঁকা।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও এবার সব কিছুই স্থগিত করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা ও সংক্রামণ ঠেকাতে সারা বিশ্বের সঙ্গে এক হয়েছে। নিজ নিজ ঘরে বসে উদযাপন করছেন পহেলা বৈশাখ মোবাইল ফোনে বার্তা আদান প্রদানের মধ্যে। পরিস্থিতি ভালো হলে পরবর্তীতে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।

এছাড়াও পহেলা বৈশাখে মসজিদ মন্দিরগুলোও ফাঁকা। নেই ভক্ত দর্শনার্থীদের কোন ভীড়। জমায়াত হতেও নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়াও বেশি কিছু মন্দির ও মসজিদের প্রধান ফটকে ছিল তালা দেওয়া।

পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার কারুকাজ করা নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘চারুকলায় বৈশাখের যে একটা জাকজমক অনুষ্ঠান হতো সেটাই বন্ধ। শূন্য নেই কোন কোলাহল। জনমানবহীন পরিবেশে শুধু গাছগুলোই স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এক ভুতুড়ে পরিবেশ হয়ে গেছে। প্রতিবছর সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তন চাইলেও এবার করোনা পরিস্থিতির পরিবর্তন চেয়েছে সবাই।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ সরকারি দপ্তর গুলো খোলা থাকলে কোন উৎসব পালন করতে দেখা যায়নি। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকলেই ছিলেন ব্যস্ত।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর