করোনা যুদ্ধে রূপগঞ্জে এক ঝাঁক তরুণের মানবিকতা


রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:০৪ পিএম, ০৯ মে ২০২০, শনিবার
করোনা যুদ্ধে রূপগঞ্জে এক ঝাঁক তরুণের মানবিকতা

দেশে করোনা যুদ্ধ মোকাবেলার সাথে সাথে অসহায় ও দরিদ্র মানুষ গুলোকে পেটের ক্ষুধার জ্বালা মেটানোর জন্য আরেকটি যুদ্ধ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে দরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে একতা ব্লাড ফাউন্ডেশন নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একঝাক তরুণ।

এ সংগঠনের সদস্যরা লকডাউনের মাঝেও অসহায় মানুষ সঙ্গে কষ্ট ভাগাভাগি করে নিতে তাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন। এছাড়া লকডাউন থাকাকালীন সময়েও এ সংগঠনের সদস্যরা ব্যক্তিগত খরচে হাসপাতালে গিয়ে অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় রক্তদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, ‘সেবায় সর্বদা প্রস্তুত’ এই প্রতিপাদ্যকে মনে ধারণ করে ২০১৮ সালে মাত্র কয়েকজন সদস্য নিয়ে শুরু হয় একতা ব্লাড ফাউন্ডেশন সংগঠনের কার্যক্রম। বছর না পেরুতেই সংগঠনটির সদস্য কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানের তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। তাদের ৯০ শতাংশ সদস্যই শিক্ষার্থী। তারা মানবিক কাজে অংশগ্রহণ করতেই এখানে যোগ দেন। যেখানে রক্তের প্রয়োজন হয় সেখানেই সংগঠনের সদস্যরা নিজ খরচের পৌছে যান।

এমনকি তারা মধ্যরাতে ফোন পেয়ে রোগীকে রক্ত দিতে ছুটে যান হাসপাতালে। রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও রাজবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের সদস্য রয়েছে।

সংগঠনের সদস্যরা এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার জনকে বিনামূল্যে রক্তদান করেছেন। এমনকি বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনেও থেমে নেই তাদেও কার্যক্রম। করোনা পরিস্থিতিতেও হাসপাতালগুলোতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক রোগীকে রক্তদান করেছেন তারা।

এছাড়া একতা ব্লাড ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমেও তারা বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে চলেছেন। এছাড়া বাড়ি থেকে নেওয়া নিজেদের হাত খরটের টাকা দিয়ে লোক চক্ষুর আড়ালে রাতের আধারে প্রায় ৬ শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়েছেন। তাদের এ মানবিক কার্যক্রম এরই মাঝে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মহসীন ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংগঠনটি গড়ে তুলি। যাতে করে কেউ রক্তের অভাবে অকালে ঝড়ে না পড়ে। সংগঠনের প্রতিটি সদস্য নিজের ব্যক্তিগত খরচে রোগীকে রক্ত হাসাপাতালে চলে যান। এছাড়া করোনা যুদ্ধে একতা ফ্লাড ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মাঠে কাজ করে চলেছেন।

সংগঠনের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব কাজী বলেন, আমরা রাতের আধারে অসহায় মানুষগুলোর ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। করোনা পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের খাদ্য কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। দেশের এ পরিস্থিতিতে যদি কারো রক্ত লাগে এই নাম্বারে কল দিলে আমাদের সদস্যরা নিজ খরচে রক্ত দিতে গন্তব্যে পৌঁছে যায়।

রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি লায়ন মীর আব্দুল আলীম বলেন, এ সংগঠনের সদস্যরা জরুরী প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের রক্ত দিচ্ছেন। করোনাকালেও থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। তাদের মানবিক কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, একতা ব্লাড ফাউন্ডেশনের সদস্যরা রক্তদানের মাধ্যমে মানবিক কার্যক্রম করছে। এছাড়া তারা করেনা পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সেচ্ছাসেবী হিসেবেও কাজ করছেন। তরুণরাই পারে দেশকে এগিয়ে নিতে তাদের কার্যক্রম তারই প্রমাণ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর