পরিবার পরিজন ছেড়ে করোনা মোকাবেলার এক সম্মুখযোদ্ধা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫৫ পিএম, ২৪ মে ২০২০, রবিবার
পরিবার পরিজন ছেড়ে করোনা মোকাবেলার এক সম্মুখযোদ্ধা

করোনার এই দুঃসময়ে প্রায় তিনমাস ধরে পরিবার থেকে দূরে থেকে আক্রান্তদের সেবায় দায়িত্ব পালন করছেন নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। পরিবার-পরিজন ছেড়ে এখন আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে দেশকে সুস্থ রাখার যুদ্ধে তারা সম্মুখ যোদ্ধা। এর মধ্যেই চলে এসেছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।

প্রতি বছর ঈদের সময়টা পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে কাটালেও এবার ব্যতিক্রম। পরিবার ছাড়া কেমন যাচ্ছে ঈদ তা নিয়ে আলাপকালে দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকার কথাই জানালেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ। তবে পরিবার ও সন্তানদের দূরত্ব কাঁদায় বলেও জানালেন তিনি।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ঈদে পরিবারের সদস্যদের শূন্যতা খুব বেশি অনুভব করবেন বলে জানান তিনি। এবারই প্রথম তার ঈদ কাটবে পরিবার ছাড়া দূরে কোথাও। তবে তিনি নিজে এজন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে ঠিকমতো সময় দেয়ার ফুরসতও হচ্ছে না তার। দেশের রাজধানীর পর সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্তের এ জেলার দায়িত্বে থেকে মানুষের সেবা দেয়ার মাঝেই তিনি এবার ঈদের আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন।

ডা. ইমতিয়াজ জানান, প্রতি বছর পরিবারের সকলের সঙ্গে ঈদ করি। আমার মা, স্ত্রী, উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে অধ্যয়নতরত মেয়ে ও নবম শ্রেণির ছেলে রয়েছে পরিবারে। তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছি, ঈদের দিনও এভাবেই কথা হবে। তিন মাস তাদের থেকে দূরে, তারপর আবার ঈদের এই সময়ে তাদের কণ্ঠ শুনতেই ভেতরটা কেমন ভারী হয়ে আসে। এ অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। এমন যে শুধু আমার ক্ষেত্রে তা নয়, পুরো জেলার সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের, যারা করোনা আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত।

তিনি জানান, পরিবারের সঙ্গে কথা হলে তাদের কণ্ঠও ভারী হয়ে আসে, তবুও তারা আমাকে সাহস দেয়। আমিও বলি এটাই তো আমার পেশা, এটাই তো আমাদের দেশসেবার দায়িত্ববোধ। ঈদের শপিং কিংবা ঘুরাফেরা এসব নিয়ে আক্ষেপ না থাকলেও সন্তানদের বাবাকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপটা যেন একটু বেশি। এতটুকু বড় হয়েছে ওরা বাবাকে ছাড়া কখনো ঈদ করেনি, এবার সব আছে, বাবা কাছে নেই। তবে তারাও আমাকে সাহস যোগায়। ভরসা দেয় মানুষের সেবা করার।

কথাগুলো বলতে বলতেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ডা. ইমতিয়াজ। অশ্রুসিক্ত নয়নে বলে উঠেন, দেশের স্বার্থে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একা একাই এবার ঈদ পালন করছি। কষ্ট হলেও মন তো মানে না, তবে দায়িত্ব ও কর্তব্যের খাতিরে মনকে আটকে রেখে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রয়োজনে আমি বাড়ি যাইনি। সবাই যদি তাদের নিজ নিজ যায়গা থেকে এরকম একটু সেক্রিফাইস করতো তাহলে আমরা আমাদের দেশ থেকে করোনাকে দূর করতে পারতাম।

এর মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ডা. ইমতিয়াজ। আক্রান্ত হলেও মুঠোফোনে তিনি দায়িত্ব পালন করে গেছেন। পরে সুস্থ হয়ে আবারো দায়িত্ব পালন করছেন। এরমধ্যে একবারের জন্যও পরিবারের সংস্পর্শে যাননি এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর