রূপগঞ্জে করোনায় বিপাকে বেদে পরিবার


সাইদুর রহমান, রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:০৭ পিএম, ৩০ মে ২০২০, শনিবার
রূপগঞ্জে করোনায় বিপাকে বেদে পরিবার

করোনা ভাইরাস (কভিট-১৯) মহামারী দূর্যোগের কারণে বিপাকে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গোলাকন্দাইল এলাকায় আশ্রয় নেয়া প্রায় একশ বেদে সম্প্রদায় পরিবার। করোনা ভাইরাসের কারনে সারাদেশের মত নারায়ণগঞ্জে ও লকডাউন থাকায় জীবন-জীবিকার সন্ধানে ভাসমান এই বেদে পরিবার আজ আশ্রয়স্থল থেকে বের হতে পারছেননা।

আশ্রয়স্থল থেকে বেড় হতে না পাড়ায় তাদের পড়তে হচ্ছে খাবার সংকটে। চরম দুর্ভোগে বেদে পরিবারগুলো তাদের শেষ সম্বল কারো নাকের নাক ফুল, কারো কোমরের বিছা, কারো হাতের আংটি বিক্রি করে কোন রকমে দিন পাড় করছে এখানে আশ্রয় নেয়া বেদে পরিবারগুলো। তাদের যেন দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে বেদে সম্প্রদায় পরিবারের আশ্রয়স্থলে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের জীবনযাপনের করুন চিত্র এখানে আশ্রয় নেয়া প্রায় একশ পরিবার রয়েছে করুন পরিস্থিতিতে। এই মহামারী পরিস্থিতিতে দু`চোখে অন্ধকার দেখছে এখানে আশ্রয় নেয়া বেদে পরিবার গুলো। রোজগারের সকল পথ বন্ধ থাকায় এখন খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে নারী ও শিশুসহ বেদে পরিবার গুলো।

বেদে সম্প্রদায়ের সরদার রোমান মিয়া বলেন, আমরা ভাসমান মানুষ। আমরা অন্য বেদেদের মতো কিছুদিন পর পর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করিনা। আমরা প্রায় ১৬ বছর ধরে এ এলাকায় ভাসমান অবস্থায় রয়েছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের থেকেও ভয়াবহ করোনাভাইরাস আমাদের তাবু বন্দি করে রেখেছে। করোনার ভাইরাসের কারণে আমরা আজ নিশ^ হয়ে গেছি। কর্মহীন হয়ে তাবুতে থাকতে হচ্ছে আমাদের। করোনার কারনে আমরা আমাদের শেষ সম্বল টুকু বিক্রি করে সংসার চালিয়েছি। বেশ কিছুদিন আগে ইউএনও মেডামের সহায়তায় চাল, ডাল, তেল, লবন, শিশু খাদ্য সহ কিছু খাদ্য সামগ্রী পেয়েছিলাম। অন্যন্যা সময়ের তুলনায় কম খেয়েও ১০/১২ দিনের বেশি নিতে পারিনি। এখন কি খাব আমরা, সেটা নিয়েই চিন্তায় রয়েছি। এখন আমরা এক শতাধিক পরিবার খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। এ অবস্থায় সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি আমাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন।

বেদে জেরিনা বলেন, জীবিকার তাগিদে বাপ-দাদার এ পেশায় যুক্ত আমরা দেশের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াই খাবারের সন্ধানে। এক সময় জীবন ছিল জলপথে নৌকায় নৌকায়। তাবিজ, ওষুধি গাছ-গাছড়া বিক্রি,সাপের খেলা, শিঙ্গালাগা, পরিমালা করে চলে আমাদের সংসার। স্থল পথে গ্রামে গ্রামে ঘুরে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় আমাদের। ওইসব গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় আমাদের আহার যোগে। করোনা ভাইরাসের কারনে আমরা কোন গ্রামে ঢুকতে পারিনা। গ্রামে ঢুকলে মানুষ আমাদের তারিয়ে দেয়। ঘরে একমুঠো খাবার নেই। এখন আমরা কি করব বুঝতে পারছিনা।

বেদে সৃষ্টি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সরকার যেভাবে বলছে আমরা সব নিয়ম মেনেই চলার চেষ্টা করছি। লুডু খেলে অবসর সময় কাটাচ্ছি আমরা। কিছুদিন পূর্বে ইউএনও মেডাম বাচ্চাদের জন্য দুধসহ কিছু খাবার দিয়েছিল। কয়েকদিন যাবৎ আমাদের কোন খাবার নেই। কি করব জানিনা। একদিকে পেটে তো খিদা আছেই। তারপরে ছোট বাচ্চারা যখন খাবারের জন্য কাঁদে তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম বলেন, বেদে পল্লীতে শিশু খাদ্যসহ তিনবার খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখব যদি পুনরায় তাদের খাবার প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর