কবরগুলো অযত্ম অবহেলায়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ১৮ জুন ২০২০, বৃহস্পতিবার
কবরগুলো অযত্ম অবহেলায়

চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে ২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলায় যে ২০ জন মারা যান তাদের মধ্যে আক্তার, মোশারফ হোসেন মশু ও নজরুল ইসলাম বাচ্চুর লাশ দাফন করা হয় কেন্দ্রীয় মাসদাইর কবরস্থানে। কিন্তু সেগুলো রয়েছে চরম অযত্ম অবহেলায়। গজিয়ে উঠছে গাছ। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয় না বছরের পর বছর ধরে।

২০০১ সালের ১৬ জুন বিকেলে স্ত্রী আর ভাই বোনদের সাথে একসাথে চা খেয়েছিল সহোদার দুই ভাই সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্রছাত্রী সংসদের তৎকালীন জিএস আকতার হোসেন ও তার ভাই সংগীত শিল্পী মোশারফ হোসেন মশু। সন্ধ্যায় যাওয়ার আগে আকতার হোসেন ছেলে অশিন সাফকাত হোসেনকে বসিয়ে রেখে গিয়েছিলেন ক্রিকেট খেলা দেখতে। বাসায় এসে খেলার বিস্তারিত শুনবেন-এই ছিল বাপ-ছেলের প্রতিশ্রুতি। মশু তার এক বোনকে বলে গিয়েছিলেন তিনি আওয়ামী লীগের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে দারুণ একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছেন। এসব নিয়েই শামীম ওসমানের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাতে বাড়ি ফিরে সে সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।

পরিবারের সকলকে কাঁদিয়ে তারা ফিরেছিল ঠিকই কিন্তু লাশ হয়ে। শহরের ৩৪ নম্বর উত্তর চাষাঢ়ার আক্তার-মশুর বাড়িটিতে এখনো যেন কান্না থামেনি।

আকতার হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার জানান, ১৬ জুন রাতে হঠাৎ করে এলাকাতে হৈ চৈ এর শব্দ শুনতে পাই। এক পর্যায়ে খবর পাই চাষাঢ়ায় আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ কথা শুনে এ পরিবারের সবাই কান্নায় ভেঙে পড়ে। কিন্তু তখনো তাঁরা জানতেন না তাঁদের পরিবারেরই দুই ছেলে নেই। আকতার হোসেনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় রাতেই। সবাই ভেবেছিল মশু হয়তো কোথাও আছে। মশুর মৃত্যুর খবর তাঁরা পান পরদিন টিভি দেখে।

শাহনাজ আরো বলেন, ‘বোমা হামলার ঘটনার পরে নারায়ণগঞ্জে এসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বোমা হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর সরকার পরিবর্তন ঘটে। এখন তিনি আবরো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আমরা তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর