পানিবন্দী হরিহরপাড়ার মানুষ


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ১৯ জুন ২০২০, শুক্রবার
পানিবন্দী হরিহরপাড়ার মানুষ

টানা ৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে পানিবন্দী অবস্থার মধ্য দিয়ে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছে ফতুল্লার হরিহরপাড়া আমতলা এলাকার লোকজন। বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত হওয়া শিল্প-প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য থেকে শুরু করে বাসা-বাড়ীর পয় নিষ্কাশনের ব্যবহৃত পানি সরাসরি এসে এ এলাকায় আটকে যাচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেনেজ ব্যবস্থা পানি নিষ্কাশনের পথটি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদীন ধরে বন্ধ রাখলেও সামান্যতম প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না জলাবদ্ধতার মধ্যে দুর্বিসহ জীবন অতিবাহিত করা মানুষ।

এদিকে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়েছে নতনি মাত্রা। বৃষ্টির পানি এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পানি একত্রিত হয় চলাচলের রাস্তাঘাটে হাঁটু অবধি পানিসহ এবং বসত বাড়ীর ভিতরে ডুকে পড়েছে ময়লাযুক্ত পানি। নি¤œাঞ্চল এলাকা এবং অপরদিকে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় জমে থাকা পানিও অর্ন্যত্র সরতে পারছে না।

দীর্ঘদীন ধরে একই স্থানে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক বিভিন্ন ধরনের এই ভাইরাস এবং ছড়াচ্ছে বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই। রোগে আক্রান্ত হওয়ার শংকার মধ্য দিয়েই অনেকটা বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের চলাচল করতে হচ্ছে। একদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাব অপরদিকে অনিদিষ্টকালের জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে মানবেতর জীবন-যাপন পার করছে নি¤œবিত্ত সাধারন মানুষ।

অপরিকল্পিত জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় জন-প্রতিনিধিদের পিছন পিছন ঘুরলেও সাধারন মানুষের দুর্ভোগ লাগবে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না স্থানীয় জন-প্রতিনিধিরা। এমনকি মহামারির কবলে অনাহারে দিন-যাপন অতিবাহিত করে আসলেও সামান্যতম খোঁজ-খবর নেয়ারও প্রযোজন মনে করেনি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

সাধারন মানুষদের অভিযোগ অস্বীকার করে এনায়েতনগর ইউপি সদস্য আক্তারুজ্জামান বলেন, সৃষ্ট হওয়া জলাবদ্ধতা নিরসন করার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু নিষ্কাশনের একমাত্র স্থানটি ব্যাক্তি মালিকানা হওয়ার কারণে নিষ্কাশনের স্থানটি ভরাট করা ফেলা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথটি ভরাট করার কারনে, বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রবাহিত হওয়া পানি এ এলাকা থেকে সরতে পারছে না। পানি জমে থাকার ফলে এখানে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।

হরিহর পাড়া আমতলা এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় মহিলালীগ নেত্রী হেলেনা আক্তার জানান, করোনা সংক্রমন শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই জলাবদ্ধতায় করুণ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে আসছে। জমাট হওয়া থাকা নোংরা পানিতে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবানু। অনিচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও অনেকটা বাধ্য হয়েই বাসস্থলে যাওয়ার জন্য নোংরা পানির উপর দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে করে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি এ এলাকার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছে। এর মধ্যে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ঘরের ভিতরে পানি চলে এসেছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় জন-প্রতিনিধিদের দ্বারপ্রান্তে ঘুরতে ঘুরতে সাধারন মানুষ নার্ভিশ্বাস হয়ে গেলেও সংকট নিরসনের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি সাংসদ শামীম ওসমানের হন্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একই এলাকায় বসবাসরত নীল কমল মন্ডল জানান, তার একমাত্র আয়ের উৎস দুগ্ধ ব্যবসা। প্রতিদিন দুটো গরুর দুধ বিক্রি করার মাধ্যমেই নিদারুন কষ্টের মধ্য তিনি জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দেশে লক ডাউর শুরুর আগ থেকেই বিভিন্ন এলাকার পানি এসে এ এলাকার ভিতর ঢুকে পড়ে। নি¤œাঞ্চল এলাকা হওয়ায় পানি কোথাও সরতে পারে না। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথটিও বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালীরা। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে একমাত্র আয়ের উৎস গুরুর ঘরটির ভিতরেও পানি উঠে গেছে। এমন অবস্থায় তিনি আতংকিত হয়ে পড়ছেন। গরু রাখার ঘরটির মধ্যে পানি প্রবেশ করায় দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে তার প্রতিটা মুহূর্ত। দ্রুত এ এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশন না করা হলে নিধারুন কষ্টে প্রতিটি মানুষ মারা যাবে বলেও তিনি শংকা করেছেন। কারন, এ এলাকার প্রতিটি পরিবার হচ্ছে নি¤œ আয়ের মানুষ। দৈনন্দিন আয়ের অর্থ দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। একই অভিযোগ করেন, পানি বন্দী দশার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে আসা শহীদুল ইসলাম, মন্জীবনী, পেয়ারা বেগম, আব্দুস সালাম, কাদির এবং হাবিবুর রহমানসহ শত শত নারী পুরুষ।

এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান জানান, বর্তমানে করোনা সংক্রমনের সংখ্যা মহামারি আকার ধারন করেছে। করোনার প্রভাব আমার পরিবারের মধ্যেও হানা দিয়েছে। আমার আপন বড় ভাই করোনা পজিটিভে আক্রান্ত। আমার বড় ভাই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একদিকে পারিবারিক দুশ্চিন্তা অণ্যদিকে আমার ইউনিয়নবাসীর এমন দুঃসময়ে পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সরকারী ত্রান বরাদ্দসহ সাধারন মানুষকে নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তবে হরিহরপাড়া আমতলা এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কথা আমি জানতে পেরেছি, করোনার এ মহামারি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় একটু বেগ পেতে হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রচেষ্টা। তবে অচিরেই স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে। এমন একটা সময় ইচ্ছে করলেও সবকিছু আমরা করতে পারিনা। এর জন্য আমাদের সময় দিতে হবে। সে সাথে জলাবদ্ধতায় আটকে থাকা সাধারন মানুষকে ধৈর্য্যধারন করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর