শেখ রাসেল পার্কের সবুজের হাতছানি গঞ্জে আলী খালে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫২ পিএম, ০৪ জুলাই ২০২০, শনিবার
শেখ রাসেল পার্কের সবুজের হাতছানি গঞ্জে আলী খালে

নারায়ণগঞ্জের অন্যতম বড় বস্তি, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত একটি জায়গা ছিল হাতিরঝিল খ্যাত বর্তমান শেখ রাসেল নগর পার্ক যা কয়েক বছর আগেও পরিচিত ছিল জিমখানা বস্তি নামে। তবে এখন সবুজে সবুজে ভরে গেছে পুরো এলাকা। যেখানে উড়ে বেড়ায় রং বেরংয়ের নানান জাতের পাখি। ময়লা-আবর্জনায় ভরা জলাশয়টিতেও এখন মাছেরা খেলা করে।

সেই জায়গার মতই নারায়ণগঞ্জে মাদকের আরেক অভয়ারণ্য ছিল চাষাঢ়া থেকে আদমজী পর্যন্ত রেল লাইনের উভয় পাশের সরকারি জায়গা ও গঞ্জেআলী শাহ খাল দখল করে গড়ে ওঠা বস্তি। এখন মাদকের জমজমাট ব্যবসা কমে আসলেও দখল আগের মতই। যে কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরী হয়। তবে এবার সেটিকেও দখলমুক্ত করে শেখ রাসেল নগর পার্কের মত সবুজের ছোঁয়ায় ভরিয়ে দেয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়ৎ আইভী।

গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় চাষাঢ়া থেকে আদমজী পর্যন্ত গঞ্জে আলী শাহ খাল পুনরুরুদ্ধার ও পুনরায় খনন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, ‘চাষাঢ়া থেকে রেল লাইনের উভয় পাশে ৭০ ফুট পর্যন্ত সরকারি জায়গা। এই জায়গা উদ্ধারে আমি কোনো নোটিশ দিব না। সরকারি জায়গা এতদিন দখল করে খেয়েছে। আমি নোটিশ দিতে রাজি না। মাপ দেওয়া হবে। সরকারি জায়গা যতটুকু পরেছে ততটুকু জায়গা পর্যন্ত দাগ দেওয়া হবে। আমি তিনদিনের সময় দিব। এই তিনদিনের মধ্যে যদি তাঁরা না সরে। আমি ভেঙ্গে দিব। চাষাঢ়া থেকে পুরাটাই ভেঙ্গে দেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেছিলেন, ‘সিটি করপোরেশন প্রথম থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রচুর পদক্ষেপ নিয়েছিল। এমন কোন ওয়ার্ড নেই যেখানে ড্রেন নাই। ড্রেন করেছি কিন্তু খালগুলোর কি অবস্থা? খালগুলোকে উদ্ধার করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি। শহরের মধ্যে এই খালটিই বাকি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি দখলে ছিল। যখন পৌরসভা ছিল তখন আমি একবার দখল মুক্ত করেছিলাম। খালের পাশেই বিশাল পাইপ ড্রেন আমি করে দিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পাইপ ড্রেনটিতে মাটি জমে কয়েকদিন পর পর বন্ধ হয়ে যায়। এখন এই খালটিকে শেখ রাসেল পার্কের মত করে দিব। গাছ লাগাবো। জায়গা থাকলে পার্কের মত করে দেওয়া হবে।’

মেয়র আইভীর সেই আশ্বাসে যে নগরবাসীর ভরসা রয়েছে এর প্রমাণ তখনই দিয়েছেন এলাকাবাসী। আইভী যখন খাল পরিদর্শনে এসেছিলেন তারও কয়েক ঘণ্টা আগেই শত শত এলাকাবাসী উপস্থিত হয়েছিলেন শুধুমাত্র মেয়রকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য।

শুরু থেকেই প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষের বিনোদন কেন্দ্র বলতে কিছুই ছিল না। সংস্কৃতমনা নারায়ণগঞ্জবাসী বিনোদনের অভাবে ভুগছিলেন। ঠিক সেই সময় মেয়র আইভী শেখ রাসেল নগর পার্কের ঘোষণা দিয়েছিলেন। জিমখানা বস্তি দখলমুক্ত করতে লম্বা সময় সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। অনুমতির জন্য ৪০টি চিঠি দিতে হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। দিনের পর দিন ঘুরতে হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রীর দ্বারে দ্বারে।

এরপর ধৈর্য হারিয়ে যখন নিজেই কাজ শুরু করণে তখন একের পর এক আসতে থাকে মামলা। নিজের দলের লোকের দ্বারা শেখ রাসেল নগর পার্কের কাজ পাওয়া ঠিকাদারকে স্লিপার ও ও গাছ চুরির মামলায় চার বছর ফেরারী আসামী হয়ে ঘুরতে হয়েছে। কিন্তু তাঁর পরেও দমে জাননি তিনি। শত বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে কাজ এগিয়ে নিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত মেয়রের বিজয় হয়েছে। কারণ শহরের পূর্বদিকে দখল দূষণে মৃত প্রায় শীতলক্ষ্যা আর অট্টালিকায় ঘেরা শহরে মাঝে একচিলতে সবুজের ছোঁয়া দেখার জন্য যে একপ্রকার হা হুতাশ করছিল, পিপাসায় ভুগছিল নগরবাসী। মেয়র আইভীর ঘোষণার পর তাঁর আসা সকল বাধায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে সেই বস্তি উচ্ছেদ ও সেখানে বর্তমান শেখ রাসেল নগর পার্ক নির্মাণে বড় ভূমিকা ছিল নগরবাসী। এবারও যদি সেরকম পরিস্থিতি তৈরী হয় তাহলে নগরবাসী তাঁর পাশেই থাকবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর