পলিথিনে পানি জমে শহরে


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৮ পিএম, ২২ জুলাই ২০২০, বুধবার
পলিথিনে পানি জমে শহরে

সারাদিন মানুষের সমাগমে ব্যস্ত থাকে নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া। যে কারণে চাষাঢ়ার একটি রূপ সব সময় অদেখা রয়ে যায় অনেকের। রাতে যখন বিপনী বিতান, মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়, ফুটপাতের হকাররা বাড়ি ফিরে যায়, তখন সেই রূপটি ফুটে উঠে। মূলত বাড়ি ফেরার আগে মার্কেট কর্তৃপক্ষ এবং হকাররা শহরকে সেই রূপটি দিয়ে যায়। আর সেই রূপটি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব হওয়া নগরী। ফিরে যাওয়ার আগে হকার এবং মার্কেট কর্মীরা অব্যবহৃত পলিথিনগুলো ফেলে যায় বঙ্গবন্ধু সড়কের উপরে এবং ড্রেনের মুখে। যে পলিথিনের কারণে ড্রেন বন্ধ হয়ে যায়। আর অল্প বৃষ্টিতেই শহরে তৈরী হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। ভোগান্তিতে পড়েন কয়েক লাখ নগরবাসী।

২০ জুলাই দুপুরে নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় সোনালী ব্যাংকের মোড়ে ডেনের উপর পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল নিষিদ্ধ পলিথিনের ভাগাড়। রাতে বাড়ি ফেরার সময়েও বঙ্গবন্ধু সড়কের যত্রতত্র পলিথিন ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। আর ২১ জুলাই মঙ্গলবার সকাল থেকে যখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল তখন মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু সড়কে তৈরী হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। দুপুরের বঙ্গবন্ধু সড়কে তৈরী হওয়া জলাবদ্ধতার সেই পানির মধ্যেও ভাসতে দেখা যায় নিষিদ্ধ পলিথিন।

বঙ্গবন্ধু সড়ক ও এর পাশে অবস্থিত ড্রেনের পরিচ্ছন্নর দায়িত্বে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। কয়েক দিন আগেই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছিল। তবে ড্রেন পরিষ্কার করা হলেও বৃষ্টি হলেই পানি জমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু সড়কে ফেলে যাওয়া পানিকে দায়ি করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বিভিন্ন সভা সমাবেশে যখনি তিনি শহরে জলাবদ্ধতা সম্পর্কিত কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হন তখনি তিনি পলিথিনের বিষয়কে উল্লেখ করেন।

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় চাষাঢ়া থেকে আদমজী পর্যন্ত গঞ্জে আলী শাহ খাল পুণরুদ্ধার ও পুণ:খনন কাজ পরিদর্শণে গিয়ে সাংবাদিকের একই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই বছর আমরা দুইবার ড্রেন পরিষ্কার করেছি। প্রতি বছরই আমরা যথা সময়ে পানি নিষ্কাশন করি। এইবার করোনার কারণে কিছুটা পিছিয়ে গেছি। আমি যদি বলি বঙ্গবন্ধু সড়কের এত পলিথিন কোত্থেকে আসে? হকার ভাইয়েরা যে বসে বঙ্গবন্ধু সড়ককে নিজেদের সম্পত্তি মনে করে সেখানে পলিথিন ফেলছে। পলিথিন ডাবের খোসা এমন কিছু নাই যা ড্রেনের মধ্যে পাওয়া যায় না। বছরে দুইবার না প্রয়োজনে চারবার পরিষ্কার করব। কিন্তু পরিষ্কার করার পরে সচেতনতাটাও প্রয়োজন। এই টাকা তো আমি আমার বাড়ি থেকে নিয়ে আসি না। আপনাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়েই করি। আমি মনে করি আমাদের আরো সচেতন হতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরণ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘হকাররা যখন বসে না অথবা রাতে যখন বৃষ্টি হয় তখন কিন্তু আমরা রাস্তায় পানি দেখতে পাই না। আমরা দেখার আগেই নেমে যায়। কিন্তু দুপুরে যখন বৃষ্টি হয় তখন পানি নামতে চায় না। কারণ ফুটপাত থেকে ড্রেনের মুখগুলোতে পলিথিন ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়। যে কারণে পানি নামতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ শহরের নবাব সলিমুল্লাহ সড়কে এবং বঙ্গবন্ধু সড়কের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের ২২২টি মুখ রয়েছে। প্রতিদিন ড্রেনের মুখগুলোতে পলিথিন পাই। আজকে বৃষ্টির পরে যখন সলিমুল্লাহ সড়কের মুখ খালি করতে যাই তখন তিন টনের গাড়ির অর্ধেক শুধু পলিথিন পেয়েছি। জলাবদ্ধা নিরসণে ড্রেনের প্রতিটি মুখ পরিষ্কার করে দিয়েছি।’

এসময় তিনি আরো বলেন, ‘ড্রেনের মুখ পরিষ্কার করে দিয়েছি। কিন্তু এর পরেও পানি যাচ্ছে না। কারণ, শীতলক্ষ্যার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যে আউটলেট দিয়ে শহরের পানি নদীতে যায় সেই আউটলেট এবং নদীর পানি একবারে ছুঁইছুঁই। একেবারে সমান বলতে পারেন। যে কারণে পানি যেতে দেরি হচ্ছে। ড্রেনগুলো পরিষ্কার আছে। মুখগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নদীর পানি সমান বিধায় পানি যেতে দেরি হচ্ছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর