রিজেন্ট শাহেদের কুরিয়ার সার্ভিসে প্রতারিত নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৩৯ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২০, সোমবার
রিজেন্ট শাহেদের কুরিয়ার সার্ভিসে প্রতারিত নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী

আলোচিত প্রতারক রিজেন্ট গ্রুপের মালিক সাহেদের প্রতারণার শিকার হয়ে দেড় লাখ টাকা খুইয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের আরো একজন ব্যবসায়ী। এক দশক পূর্বে নিজের নাম পাল্টে ইফতেখার চৌধুরী পরিচয়ে বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিস নামে একটি কুরিয়ার সার্ভিস খুলেছিলেন সাহেদ। সাহেদের মালিকানাধীন বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিসের শাখা নিতে গিয়ে ওই ব্যবসায়ী দেড় লাখ টাকা অগ্রীম দিলেও সেই শাখার কার্যক্রম আর চালু হয়নি। তৎকালে সাহেদ একটি প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার হলে বিডিএস কুরিয়ারের এক কর্মীর পাঠানো চিঠি পেয়ে আর বাকী টাকা দেননি ওই ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে জামানতের পাওনা দেড় লাখ টাকা চাইতে গেলে অস্ত্রবাজ সাহেদ তাঁকে শর্টগান দেখিয়ে ভয় দেখাতো এবং প্রাণনাশের হুমকী দিতো।

জানা গেছে, ২০১০ সালে রিজেন্টের মালিক সাহেদ নিজের নাম পাল্টে মো: ইফতেখার চৌধুরী নাম ব্যবহার করেন বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিস চালু করেছিলেন। ওই বছরের আগষ্টে বিডিএস কুরিয়ারের নারায়ণগঞ্জ শাখা নেয়ার জন্য ওই কুরিয়ারের এমডি পরিচয়দানকারী সাহেদের কাছে অগ্রীম বাবদ দেড় লাখ টাকা প্রদান করেন নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন। ওইসময় ব্যবসায়ী মোক্তারকে দেড় লাখ টাকার এক চেকও প্রদান করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী শাখার কার্যক্রম চালু হলে ৩ লাখ টাকা প্রদান করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও শাখার কার্যক্রম চালু হয়নি। তৎকালে সাহেদ ট্রান্সকম গ্রুপের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক্সের প্রায় ১৯ লাখ টাকা মালামাল ক্রয় করে চেক প্রদান করেন। কিন্তু তার সেই চেক প্রত্যাখাত হয়। পরে ওই ঘটনায় সাহেদ গ্রেফতার হলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে সাহেদ চেক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রতারণা করে আসছেন। এরপর বিডিএস কুরিয়ারে কর্মরত একজন কর্মী ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেনকে বেনামে একটি চিঠি প্রদান করেন।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয় সাহেদ একজন প্রতারক এবং কুরিয়ারের নামে সে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। নিজের নাম সাহেদ করিম পাল্টে ইফতেখার চৌধুরী রেখেছে। শাহেদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে তার শাশুড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা প্রতারণার মামলাও দায়ের করেছিলেন। ওই চিঠিতে বিডিএস এর কর্মী উল্লেখ করেন, ইফতেখার চৌধুরী পরিচয়ে বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিস খোলা হলেও তার আসল নাম ছিল সাহেদ করিম। সে সাতক্ষীরা করিম সুপার মার্কেটের মালিকের আত্মীয়। সাহেদ করিম নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েও প্রতারণা করতো। বিডিএস এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ঠিকমতো বেতন দিতনা সাহেদ। বেতন চাইতে গেলেই তাদেরকে বেধড়ক মারধর করতো। ওই চিঠি পাওয়ার পরে ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন আর বাকী দেড় লাখ টাকা প্রদান করেননি। তখন তিনি সাহেদের কাছে পাওনা দেড় লাখ টাকা চাইতে গেলে তাকে শর্টগান দেখিয়ে ভয় দেখাতো সাহেদ। বেশ কিছুদিন সাহেদের কাছে পাওনা টাকার জন্য গেলেও শেষে প্রাণভয়ে আর সাহেদের কাছে যাননি ব্যবসায়ী মোক্তার।

উল্লেখ্য সম্প্রতি করোনাকালীন সময়ে ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট দেয়াসহ নানা ঘটনায় আলোচিত সাহেদ। একের পর এক বেরিয়ে আসছে তার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য। কয়েকদিন আগে সাহেদকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ২০টির অধিক মামলা ও অসংখ্য অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর