rabbhaban

তিন দশকের সর্বেসর্বা ডাক্তার শাহনেওয়াজ জামানার পতন


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
তিন দশকের সর্বেসর্বা ডাক্তার শাহনেওয়াজ জামানার পতন

প্রায় তিন দশক ধরেই নারায়ণগঞ্জ বিএমএ (বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন) বলতে মানুষ চিনতো ডা. শাহনেওয়াজকেই। অনেকটা ওয়ান ম্যান আর্মির মতোই ডা. শাহনেওয়াজই ছিলেন সর্বেসর্বা। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টালেও পাল্টাতোনা বিএমএ’র সভাপতির পদটি। ডাক্তারদের অন্যতম প্রধান সংগঠন হিসেবে নারায়ণগঞ্জ বিএমএ চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও গেল প্রায় তিন দশক ধরে বিএমএ নারায়ণগঞ্জ শাখার অন্য কোন নেতা ছিল সেটা খুব কম সংখ্যক লোকই জানতো। প্রায় তিন দশক ধরে নারায়ণগঞ্জের ডাক্তারদের উপরে কর্তৃত্ব ফলানো সেই ডা. শাহনেওয়াজ চৌধুরী নিজের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে অনেক নাটকীয়তার আশ্রয় নিলেও অবশেষে পতন ঘটেছে শাহনেওয়াজ জামানার। বৃহস্পতিবার ডাক্তারদের রায় গেছে তার বিপক্ষেই।

জানা গেছে, বিএমএ নারায়ণগঞ্জ শাখায় এর আগে সর্বশেষ ভোট হয়েছিলো ১৯৯৩ সালে। দুই যুগে বহুবার নির্বাচন হলেও ভোট প্রদানের কোন সুযোগ ছিল না। প্রার্থীরা সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সেক্রেটারীসহ অন্যান্য পদগুলোতে আসা যাওয়ার মিছিল থাকলেও সভাপতি পদে ঠিকই আসীন ছিলেন ডা. শাহনেওয়াজ। ক্ষমতার পালাবদলেও কেউ নড়াতে পারেনি তার গদি। ডাক্তারদের মতে নারায়ণগঞ্জ বিএমএতে সভাপতি পদে ডা. শাহনেওয়াজ আসীন ছিলেন প্রায় তিন দশক ধরে। ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ভোটে তিনি যখন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন ছিল বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি বনে যান আওয়ামীলীগার। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে তিনি বনে যান বিএনপির এক এমপির নিকটাত্মীয়। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি আবার ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাকে ম্যানেজের মাধ্যমে পদ আকড়ে থেকেছিলেন। এভাবে যখনই যেই সরকার ক্ষমতায় আসুক না কেন ম্যানেজে পটু ডা. শাহনেওয়াজ প্রায় তিন দশক ধরেই তার পদ আকড়ে রয়েছিলেন। আর ডা. শাহনেওয়াজের একনায়কতন্ত্রের কারণে বিএমএ নারায়ণগঞ্জ শাখা পরিণত হয়েছিল ব্যক্তিকেন্দ্রীক সংগঠনে। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে তিনি বিএমএ নারায়ণগঞ্জ শাখার শীর্ষ পদ আকড়ে ধরে থাকলেও চিকিৎসকদের কিংবা সংগঠনটির উন্নয়নে তাকে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ রাখতে দেখা যায়নি। বরং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ডাক্তাররা বিপদে পড়লে তাদেরকে হয়রানি করার এবং তাদের থেকে বাণিজ্য করার। তিনি সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় অভিভাবক হলেও নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির অন্তরায় হিসেবেই কাজ করেছেন বলেও মনে করেন অনেক চিকিৎসক।

এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ২৫ বছর পর ডাক্তাররা ভোট দেয়ার সুযোগ পান। আর সুযোগ পেয়েই পতন ঘটিয়ে দেন শাহনেওয়াজ জমানার। নির্বাচনে ৩৮৭ ভোটের মধ্যে ৩১৫টি ভোট কাস্ট হয়। এর মধ্যে সভাপতি পদে ডা. চৌধুরী মোঃ ইকবাল বাহার পেয়েছেন ১৮৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ১২৬ ভোট। অর্থাৎ ডা. শাহনেওয়াজ ৫৯ ভোটে পরাজিত হন। অথচ প্রায় তিন দশক ধরে সভাপতি পদে আসীন থাকা ডা. শাহনেওয়াজের তুলনায় ডা. চৌধুরী মোঃ ইকবাল বাহার একেবারেই নবীন প্রার্থী।

প্রায় তিন দশক ধরে পদ আকড়ে থাকা ডা. শাহনেওয়াজ ওই নির্বাচনে জয়ী হতে চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখেননি। সভাপতি পদে জয় ছিনিয়ে আনতে একটি প্যানেলের সঙ্গে তিনি বিশ্বাসঘাতকতাও করেছেন। সোহেল নিজাম প্যানেল থেকে তিনি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই প্যানেলের ভোটারদের ভোট টানার জন্য তিনি এহেন কৌশল নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় তার বিপক্ষেই গেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর