চাষাঢ়ায় লার্জ ফার্মাকে জরিমানা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ০১ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার
চাষাঢ়ায় লার্জ ফার্মাকে জরিমানা

বেশী দামে ওষুধ বিক্রি এবং অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অপরাধে শহরের চাষাঢ়ায় লার্জ ফার্মাসহ তিন ফার্মেসীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসাম্মৎ রহিমা আক্তারের নেতৃত্বে চাষাঢ়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এসময় নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অধিক মূল্যে ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইনে লার্জা ফার্মাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই কারণে রাদি ফার্মাকে ১০ হাজার টাকা এবং রনি ফার্মাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার বলেন, আমরা তিনটি ফার্মেসীতে অভিযান পরিচালনা করে দেখতে পাই এখানে ওষুধের মূল্য কাঁটছাট করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। একই সাথে বেশ কিছু অনুমোদনহীন ওষুধ ও তারা বিক্রি করে আসছে। এসকল অপরাধে তাদের মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করি। আমাদের এরকম অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ড্রাগ সুপার ইকবাল হোসেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার, জেলা পুলিশ ও আনসার সদস্যগণ।

জানা গেছে, ২৯ জুলাই রাতে চাষাঢ়ার লার্জ ফার্মা থেকে মশা থেকে রক্ষার জন্য ‘ওডোমস’ নামে ক্রিম কিনতে যান জনৈক ক্রেতা। ওই সময় ৫০গ্রাম ওজনের ক্রিমের প্যাকেটে লেখা রয়েছে আরএস ৪৮ (ভারতীয় রুপি-৪৮) যা বাংলাদেশী টাকায় ২০ শতকরা বেশি দাম ধরলে দাঁড়ায় ৫৭ টাকা ৬০ পয়সা। কিংবা তারও প্যাকেটের দ্বিগুণ হলেও দাম হয় ৯৬ টাকা। কিন্তু ৫০ গ্রামের ওডোমসের দাম রাখা হয় ৩৫০ টাকা। কিন্তু এতো বেশি দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন, চাহিদা বেশি। কোথাও পাবেন না। প্রয়োজন হলে নেন না হলে কথা বলার সময় নাই। বেশি দামই নিতে হবে। না হলে চলে যান।’ বাধ্য হয়ে সন্তানদের কথা চিন্তা করে জাবেদ আহমেদ ওই ওষুধ কিনে নেন।

ওই ক্রেতা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এক সপ্তাহ আগে ১০০ গ্রাম ওজনের একটি ওডোমস নিয়েছি তাও লার্জ ফার্মা থেকেই। সেটা দাম নিয়েছিল ১৩৫ টাকা। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ গ্রাম ওজনের ওডোমস দাম বাড়িয়ে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। যখন বলেছি এক সপ্তাহ আগে বড়টাই নিয়েছি ১৩৫ টাকা দিয়ে তখন বিক্রেতা বলে ওইটার দাম এখন ৪৮০ টাকা। এরপর কথা বলতে চাইলে দুর্ব্যবহার করতে শুরু করে। পরে সন্তানদের কথা চিন্তা করে ছোট ওডোমস নিলেও সেটার বিল চাইলে তাও দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, এ অভিযোগ শুধু আমার নয়। সাধারণ মানুষ সকলই ভুক্তভোগী। এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার জন্য নিজের ইচ্ছা মতো মানুষের কাছ থেকে বেশি টাকা নিচ্ছে। মানুষ যখন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে আতঙ্কিত, যখন সরকার ও উচ্চ আদালত থেকেও চিকিৎসার খরচ নির্ধারণ করে দিয়েছে যাতে বেশি না নিতে পারে। তখন এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা ঠিকই মানুষের সঙ্গে জুলম করে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে যেন ভোক্তা অধিকারে কোন অভিযোগ না দিতে পারে সেজন্যও তারা বিক্রয়ের রশিদও দেয়নি। রশিদ চাইলে বিক্রি করবে না বলেও তাড়িয়ে দেয়। প্রশাসনের কাছে আহবান যাতে দ্রুত এসব দোকান সিলগালা করে দিয়ে বিক্রেতা ও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, লার্জ ফামা নামে ফার্মেসিতে অনেক বিদেশী ওষুধ পাওয়া যায়। তবে ওইসব ওষুধের প্যাকেটে আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা সিল থাকে না। এছাড়াও ওইসব ওষুধগুলো বিক্রি করার পর ক্রেতাদের কোন প্রকার রশিদ দেয়া হয় না। যারাই বিল দাবি করেন তাদের কাছে ওষুধ বিক্রি না করে ফেরত দিয়ে দেন। এজন্য অনেকেই বিল দাবি করেন না। ফলে এ সুযোগে ওষুধে সঠিক মূল্যের চেয়ে কয়েকগুন বেশি দামে বিক্রি করে দোকান কর্তৃপক্ষ। কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে হয়রানির শিকার হতে হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর