rabbhaban

ভুয়া ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য : ধরা পড়ছে র‌্যাবে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
ভুয়া ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য : ধরা পড়ছে র‌্যাবে

কেউ কেউ এসএসসি পাশ। আবার কেউ কেউ এইচএসসি। শিক্ষার গন্ডি বলতে এতটুকুই। তবে তারা তাদেরকে পরিচয় দিতো এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে। এমনকি অনেকে নিজেকে পরিচয় দিত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবেও। মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে ডাক্তার পরিচয়ের এ সকল প্রতারক বছরের পর বছর এভাবেই চিকিৎসা দিয়ে আসছিল সিদ্ধিরগঞ্জে। তবে তাদের প্রতারণা ফাঁস হতে শুরু করেছে। র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা একের পর এক অভিযান চালিয়ে এসকল স্বঘোষিত ডাক্তারকে গ্রেফতার করছে। তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১১ এর মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব।

৬ আগষ্ট সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার সেবা মেডিকেল সেন্টার থেকে এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয়দানকারী সবুজ ইসলাম সরকার (৩৮) নামে ভুয়া ডাক্তারকে আটক করে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, সবুজ ইসলাম সরকার ১৯৯৮ সালে এসএসসি ও ২০০১ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০৯ সালে কোলকাতার বারাসাতের বিসিবি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন বলে র‌্যাবের কাছে দাবি করলেও এর স্বপক্ষে কোন কাগজ র‌্যাবকে দেখাতে পারেননি।

২৯ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ হক সুপার মার্কেট থেকে ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ করিমকে আটক করে র‌্যাব-১১। এইচএসসি পাস করে একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন মোস্তাক আহমেদ করিম। তার নামের সাথে মিল থাকা সরকারি নিবন্ধনকৃত (২৬৬৩৩ নং) ডাঃ মোঃ মোস্তাক আহমেদ এর কোড ব্যবহার করে নিজেকে এমবিবিএস (ডি-অর্থো) ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দিয়ে গত ১৫ বছর যাবৎ রোগী দেখে আসছিলেন।

৮ জুলাই হিরাঝিলস্থ হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেটস্থ ‘পপুলার হসপিটাল’ থেকে মোঃ কামাল হোসেন (৪৩) এবং মায়া বেগম (৩৬) নামে দুই ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১। মোঃ কামাল হোসেন পপুলার হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মায়া বেগম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাক্তার হিসেবে রোগী দেখার প্রেসক্রিপশন, বিভিন্ন প্যাথোলজিক্যাল রিপোর্ট, এক্স-রে রিপোর্ট ও আল্ট্রাসনো রিপোর্ট উদ্ধার করা হয়। কামাল হোসেন ইতিপূর্বে হিরাঝিল এলাকায় একটি ফার্মেসী দোকানের কর্মচারী ছিল বলে জানায় এলাকাবাসী। ২ বছর যাবৎ কোন সরকারি অনুমোদন না নিয়েই পপুলার হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ল্যাব পরিচালনা করে আসছিলো তারা।

৮ মে রাতে সানারপাড় রহিম মার্কেট এলাকায় হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে মোঃ তানভীর আহমেদ সরকার (৩৫) নামে এক ভূয়া ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গ্রেপ্তারকৃত ভূয়া ডাক্তারকে ২ বছরের কারাদন্ড এবং হাসপাতালটির ম্যানেজার আবুল বাশারকে (৩৮) ১ বছরের কারাদন্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

৪ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় মোঃ নজরুল ইসলাম শেখ (২৭) নামে এক ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তারকে এক বছরের সাজা প্রদান করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ‘ফ্যামিলী ল্যাব হসপিটাল’ নামে একটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে তাকে সাজা প্রদান করা হয়। মোঃ নজরুল ইসলাম শেখ নামের পাশে ‘এমবিবিএস, সনোলজিষ্ট’ ডিগ্রী লিখে নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ২ বছর যাবত প্রতারণা করে আসছিলেন রোগীদের সাথে।

৫ ফেব্রুয়ারী সিদ্ধিরগঞ্জে এম হোসেন জেনারেল হাসপাতালে রোগী দেখার সময় ফাহামিদা আলম (২৫) নামে এক ভূয়া নারী ডাক্তারকে আটক করে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। আটক ফাহমিদা প্রেসক্রিপশন ফরমে তার নামের পাশে এমবিবিএস, পিজিটি (গাইনী এন্ড অবস), এমসিএইচ (ডিএসএইচ) সিএমইউ, ডিএমইউ মেডিসিন গাইনী ও শিশু রোগ বিষয়ে অভিজ্ঞ ও সনোলজিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হিরাঝিল রজ্জব আলী সুপার মার্কেটের পূর্বে ক্যানেল পাড়ে রিমা মেডিকেল হল নামে ফার্মেসি দোকানের মালিক নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে আসছে ফিরোজ নামে এক ব্যক্তি। ৮-৯ মাস পূর্বে তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলকাবাসী। পরবর্তীতে রোগীর স্বজনদেরকে ২ লাখ টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্বঘোষিত ডাক্তার ফিরোজ সাধারণ মানুষের চিকিৎসা দিয়ে অর্জিত অর্থদ্বারা ধনুহাজীরোড ঈদগাহের পিছনে একটি তিনতলা বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন বলে উল্লেখ করে এলাকাবাসী। র‌্যাব-১১ এর মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানায়, মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে কিছু কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া সাইনবোর্ড এলাকাস্থ প্রো-একটিভ প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর অভিযোগে এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন নিহত নারীর পরিবার। এ ঘটনায় নিহত ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ভাঙচুরও করে। পরবর্তীতে অবশ্য ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় বসে ভুল চিকিৎসা না দেয়ার মুসলেকা দেয় পুলিশ ও রোগীর স্বজনদের কাছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর