rabbhaban

৩০০ শয্যায় আবারো দালালদের উৎপাত


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৯, বুধবার
৩০০ শয্যায় আবারো দালালদের উৎপাত

নারায়ণগঞ্জ ৩০০শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালের দুর্নীতি বন্ধ ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন সময় সভা-সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে যান প্রভাবশালীরা। অথচ হাসপাতালে তাঁদের চেম্বারেই তৈরী হয়েছে দালালদের স্বর্গরাজ্য।

২৮ আগস্ট বুধবার সরেজমিনে দেখা যায় এমন চিত্র। সকালে হাসপাতালে একজন প্রভাবশালী ডাক্তারের কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে ওই ডাক্তার একবার তাঁর রুমে ঢুকে অল্প সময় পরেই আবার বাইরে চলে যান। তাঁর জায়গায় রোগী দেখতে থাকে সজিব নামের একজন।

এরপর ৬ থেকে ৭জন লোক ঢুকে যায় তাঁর রুমে। সবাই দাবি করে তারা হাসপাতালের কর্মী। কিন্তু তাদের গলায় হাসপাতালের কোনো কার্ড নেই। একটু পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায় অন্য দৃশ্য। যখন কোনো রোগীকে পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে তখন সবাই সেই রোগীকে টার্গেট করে বাইরে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে। এসময় রোগীদের হাতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্ড ধরিয়ে দিচ্ছে এই দালালেরা।

এই দালালদের একজনের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অন্তত ৭-৮ জন দালাল একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের রুমে থাকে। পরীক্ষা অনুযায়ী কে কোন রোগীকে তাদের ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিবে তা আগে থেকে ঠিক করা থাকে। যখন রোগীর পরীক্ষা দেওয়া হয় তখন বাইরে গিয়ে একটু নির্জন জায়গায় নিয়ে আমাদের ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেই।

তিনি আরো বলেন, শিশু রোগী যারা নিয়ে আসে তারা কখনো টাকার চিন্তা করে না। আমরা একটু ভয় দেখাই যে এখানে মেশিন ভালো না। এখানে পরীক্ষা করালে ফলাফল ভালো আসবে না। এইসব বলে তাদেরকে বাইরে পাঠিয়ে দেই। ভয়ে অনেকেই আর দ্বিতীয়বার কিছু ভাবেন না।

এসব দালালদের খপ্পরে পরে ভুক্তভোগী শিশু রোগী তানিয়ার মা তানজিলা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমরা আর্থিকভাবে অতটা স্বচ্ছল না। যে কারণে এই হাসপাতালে আসি। যদি টাকা থাকতো তাহলে আগেই প্রাইভেটে যেতাম। কিন্তু এখানে এসে কখনো পরীক্ষা করাই না। সবাই বলছে এখানে নাকি ভালো পরীক্ষা করা যায় না। মেশিন নাকি নষ্ট। তাই বাইরে যেতে বলে। সন্তানের জন্য কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। কারণ টাকা এক সময় আসবে কিন্তু মেয়ের কিছু হলে আমরা কিভাবে থাকবো। তাই টাকা ধার নিয়ে অন্য যায়গায় পরীক্ষার জন্য যাই।

শুধু তানজিলা নয়। প্রতিনিয়ত হাসপাতালে যখন রোগী নিয়ে আসা হয় এই ভাবেই ভয়ভীতি দেখিয়ে রোগীদেরকে বাইরে পাঠায় দালালরা। দালালাদের খপ্পরে পরে প্রতিনিয়ত ঠকছে নিরীহ রোগীরা। এমন অবস্থাতেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একেবারে নিশ্চুপ।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু জাহেরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা করা হলে কেউ ফোন ধরেননি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর