rabbhaban

৩০০ শয্যায় বাড়ছে রোগী, পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৯, বুধবার
৩০০ শয্যায় বাড়ছে রোগী, পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যখন কমে আসছে তখনই আবার নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে শিশু রোগীর সংখ্যা। তবে সেটা ডেঙ্গু নয় ঠান্ডা, জ্বর, নিমোনিয়া সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত। আর হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে ৩০০ শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা সহ অনেক শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি নতুন ভবন নির্মাণাধীন থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। যা ভবন না হওয়া পর্যন্ত শেষ হবে না। তাছাড়া চিকিৎসায় কোন প্রকার ত্রুটি রাখছেন না।

২৮ আগস্ট বুধবার দুপুরে শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক শিশুকে ফ্লোরে বিছানা করে শুইয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও অনেক শিশুকে ভর্তি না নিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। অনেকেই আবার অপেক্ষায় আছেন কোন রোগী চলে গেলে বিছানাটা ব্যবহার করবেন। আবার কিছু রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

ফতুল্লা লাল খা এলাকার মোসলেম মিয়ার স্ত্রী জানান, নিউমোনিয়ার কারণে ৫দিন আগে আমার ৫ বছরের শিশু হাফসাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেড খালি পাইনি। ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। আর সন্তানের সঙ্গে আমাকেও ফ্লোরে থাকতে হয়। এজন্য শিশুর সঙ্গে আমিও অসুস্থ হয়ে পড়ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিশু ওয়ার্ডের এক নার্স বলেন, কয়েকদিনের আবহওয়ায় শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বৃষ্টি নেই গরমে শিশুদের ঠান্ডা, জ্বর ও নিমোনিয়ায় আক্রান্ত বেশি হচ্ছে। ফলে হঠাৎ করে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ওয়ার্ডে বেড আছে মাত্র ২৬টি। কিন্তু রোগী আসছে অর্ধশতাধিক। এতো শিশুর জন্য বিছানা কোথায় থেকে ব্যবস্থা করবো। তাই অনেক শিশুর অভিভাবকেরাই চিকিৎসার জন্য ফ্লোরে নিজেরা বিছানা করে শুয়ে পড়ছেন। আর শিশু এমন অবস্থা তাই আমরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। বিছানা না থাকলেও চিকিৎসায় কোন ত্রুটি হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, যাদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে তাদের বেশি ভাগই গুরুতর রোগী। এখানে এ পরিবেশে রেখে চিকিৎসা দেওয়াটা শিশুরজন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

শিশু ওয়ার্ডের ডাক্তার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এখন রোগী আছে ২৯টি যার মধ্যে একজন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। আসন কম থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চাইনা রোগীদের আসন ছাড়া ভর্তি নিয়ে চিকিৎসা দিতে। কিন্তু রোগীরাই চায় যেকোন মূল্যে চিকিৎসা দেয়া হোক। তাছাড়া শিশু সময় মতো চিকিৎসা না দিলে আরো অসুস্থ হয়ে যাবে। তাই কষ্ট হলেও এভাবেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে আমরা উর্ধ্বতনদের এ বিষয়ে জানিয়েছি তারা ব্যবস্থা  গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।

৩০০ শয্যা হাসপাতালের সুপার ডাঃ আবু জাহের জানান, ৩০০ শয্যা হাসপাতাল হলেও এখানে আসন সংখ্যা কম আছে। তাছাড়া এখন আবার ৫০০ শয্যায় উন্নয়নের জন্য নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। যার জন্য কয়েকটি রুম ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওইসব রুমের রোগীদের অন্য রুমে শিফট করা হয়েছে। এসব কারণে পর্যাপ্ত আসন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে চিকিৎসায় কোন ত্রুটি নেই।

তিনি আরো বলেন, হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে সব সময় এমন পরিস্থি থাকে না। অনেক বেড খালিও পরে থাকে। তবে নতুন ভবন তৈরি ও আসন সংখ্যা না বাড়ানো পর্যন্ত এ পরিস্থিতি শেষ হবে না। এ অল্প আসন সংখ্যার মধ্যেও আমরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর