rabbhaban

ডাক্তারদের হুমকি বাধা!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০২:৪৫ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
ডাক্তারদের হুমকি বাধা!

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নারায়ণগঞ্জ জেলার একাংশের কর্মসূচিতে ডাক্তাদের বদলি সহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে অংশগ্রহণে বাধা প্রদান করা হয়েছে। এজন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সহ প্রতিনিধিরা।

সোমবার বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ সেলের নেতৃত্বাধীন বিএমএর সভাপতি সহ প্রতিনিধিরা। তারা রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে কথা বলেন। তবে ওইসময় ওয়ার্ডে নার্স ছাড়া ডাক্তারদের দেখা যায়নি। রোগীদের কিভাবে কি কি সেবা দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে ডাক্তাদের ডাকা হলেও কেউ কাছে আসেনি। দীর্ঘক্ষন ডাকার পর মেডিসিন বিভাগের কয়েকজন কাছে আসলেও ভালো ভাবে বিএমএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথাও বলেনি।

বিএমএর সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সহ প্রতিনিধিরা এ কারণ জানতে চাইলে ডাক্তাররা জানান, স্বাচিপের আরেক অংশের শীর্ষ নেতা হাসপাতালের সকল ডাক্তারদের নিষেধ করেছে। যারা দেখা করবে তাদের বদলি করা সহ বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখানো হয়। তাই সাধারণ ডাক্তাররা হাসপাতালে উপস্থিত থাকলেও কেউ আসেনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগে ৫৬ জন ডাক্তার রয়েছেন। কিন্তু বিএমএর প্রতিনিধিদের পরিদর্শনের সময় মাত্র ৬জন ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন। যারা আসতে চেয়েছে তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।

স্বাচিপের নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে আওয়ামীলীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নারায়ণগঞ্জ জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ডাক্তার ইকবাল বাহার সভাপতি ও বিধান চন্দ্র পোদ্দারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হয়। তবে এ কমিটি নিয়ে শুরু থেকে বিরোধ করে আসছিল চিকিসক পরিষদের একাংশ। এর বিপরীতে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়। যেখানে ডা. আতিকুজ্জামান সোহেল সভাপতি ও ডা. আলোক কুমার সাহা সাধারণ সম্পাদক করে ১৭ সদস্য করা হয়। আর সোমবার সকালে ডা. আতিকুজ্জামান সোহেল ও আলোক সাহা পরিষদের কমিটির আমন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জে আসেন বিএমএর সভাপতি সহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

স্বাচিপের (একাংশের) জেলার সাধারণ সম্পাদক আলোক কুমার সাহা বলেন, আজকের কর্মসূচি ছিল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ সেলের নেতৃত্বাধীন বিএমএর সভাপতি ও প্রতিনিধি দলের। তারা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের বিষয়ে দেখেছেন খোঁজখবর নিয়েছেন। এ বিষয়ে ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন। কিন্তু স্বঘোষিত স্বাচিপ কমিটির বিধান চন্দ্র পোদ্দার ডাক্তারদের বদলি সহ বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসতে দেয়নি। যা ডাক্তারা বিএমএর সভাপতির কাছে অভিযোগ করেছেন। এতে ডাক্তারদের কিছুটা ক্ষতি হলেও সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে রোগীদের। তাদের মধ্যে রোগীরা ভালো সেবা পেতো সেটা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

বিএমএ’র সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, বিধানরা বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় আছে। এসব বিধানদের মধ্যে দিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এবিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর