rabbhaban

৩০ ঘণ্টা পানিবিহীন দুর্ভোগে ৩০০ শয্যা হাসপাতাল


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
৩০ ঘণ্টা পানিবিহীন দুর্ভোগে ৩০০ শয্যা হাসপাতাল

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পানির পাম্প ৩০ ঘন্টা ধরে বিকল ধাকায় কারাবালার চেয়ে কোন অংশেও ছিলনা হাসপাতালের পরিস্থিতি। শুক্রবার ১ নভেম্বর সকাল হতেই পুরো হাসপাতাল জুড়েই পানির জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়। শনিবার ২ নভেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে পাম্পটি সচল করা হয়। তবে এই ৩০ ঘণ্টা রোগী ও রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের সৃষ্টি হয় অসহনীয় ভোগান্তি।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের প্রায় প্রত্যেকটি বেডই পূর্ণ রয়েছে রোগীদের দ্বারা। সেই সঙ্গে একেক জনের সঙ্গে তিন থেকে ৪ জনের মতো আত্মীয় স্বজন রয়েছে। যারা নিয়মিত যাতায়াত করছেন। কিন্তু শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকেই পানি ছিলনা। পানির ২টি পাম্পই বিকল থাকায় রোগী ও রোগীর স্বজনদের সৃষ্টি হয় সীমাহীন ভোগান্তি। তাদের প্রাকৃতিক কাজ করা থেকে শুরু করে সবকিছুই বন্ধ হয়ে যায়। কেউ কেউ বাইরে থেকে বোতল কিনে নিয়ে এসে প্রাকৃতিক কাজ সাড়ছেন। আবার কেউ কয়েক কিলোমিটার দূূরে বাসা থেকে প্রকৃতির ডাকের কাজ সেরে এসে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতালে ইমরান হোসেন নামে এক রোগী জানান, আমি বুকের ব্যাথার কারণে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছিলাম। শুক্রবার সকাল থেকেই হাসপাতালে পানি নাই। আমাদের খুবই কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে।

এক রোগীর স্বজন নূরে আলম জানান, তিনি তার বাবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। তার বাবা প্রশ্রাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তাই হাসপাতালে গত কয়েকদিন ভর্তি হয়ে রয়েছেন।

তিনি বলেন, বাবার এই অবস্থায় হাসপাতালে পানি নাই। আমাদের কি পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সেটা বলে বোঝানো মতো না। শুক্রবার সকাল থেকে হাসপাতালে পানি নাই, অথচ এ ব্যপারে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু জাহের জানান, পাম্প ২টি দেখাশোনার দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। শুক্রবার দুপুরে তিনি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গণপূর্তের প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে শুক্রবার বন্ধের দিন থাকায় মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তবে রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে তারা পার্শ্ববর্তী ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে বসানো পাম্প থেকে হাসপাতালে পানি সরবরাহ করেছেন। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে পাম্পটি সচল করা হয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী আব্দুস সামাদ জানান, একটি পাম্পের মটর আগে থেকেই নষ্ট ছিল। সেটার বদলে নতুন পাম্প বসানোর জন্য কোম্পানীতে অর্ডার করা হয়েছে। শুক্রবার বন্ধের দিন থাকায় পার্টস পাওয়া যায়নি। যেকারণে চেষ্টা করেও পাম্পটি সচল করা যায়নি। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে পানির পাম্প চালু হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর