rabbhaban

মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নাসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১৩ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নাসিকের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ফাইল ফটো

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আমাদের প্রত্যাশা থাকে যাতে শহর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্য সম্মত নগরী পাই। কারণ নগরবাসীর সুস্থ্য সুন্দর জীবনের জন্য পরিচ্ছন্ন নগরীর জুড়ি নেই। কিন্তু যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত নগরী পাই সেসব পরিচ্ছন্ন কর্মীদের স্বাস্থ্যের কথা ভাবছে না কেউ। স্বাস্থ্য সম্মত নগরী উপহার দিতে গিয়ে তাঁরা নিজেরাই ভুগছেন মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া তথ্যমতে, নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় কাজ করছে ৯১২জন পরিচ্ছন্ন কর্মী। এছাড়া ১২টি এনজিও মাধ্যমে বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা অপসারণ করছে আরো প্রায় শতাধিক পরিচ্ছন্ন কর্মী। এছাড়া ঈদের সময় কিংবানগরীর ড্রেন পরিষ্কারের জন্য বা বিভিন্ন সময়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে আরো কয়েক শতাধিক কর্মী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এসব কর্মী ভোর থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে রাখা ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে ফেলে। তবে এক্ষেত্রে কেউ কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। হাতের গ্লাফ্স, গাম বুট, মুখোস ও নির্দিষ্ট পোষাক পরিধান না করেই এসব পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সংগ্রহ করছে ময়লা-আবর্জনা। আর এসব ময়লা আবর্জনার মধ্যে রয়েছে পঁচা শাক-সবজি থেকে শুরু করে মৃত প্রানী ও বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হওয়া ব্রয়রার মুরগি, গরু, খাসির উচ্ছিষ্ট। অথচ এসব ময়লা আবর্জনার মধ্যেই রয়েছে মারাত্মক সব রোগের জীবানু।

এসবকেও ছাপিয়ে গেছে শহরের সরকারি দুই হাসপাতলের চিত্র। হাসপাতাল দুইটিতে থাকা মানব স্বাস্থ্যের জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ন মেডিক্যাল বর্জ্য গ্লাফ্স, মুখোস না পরে একেবারে খোলামেলা ভাবে পরিষ্কার করছে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। এবং এসব মেডিক্যাল বর্জ্য খোলামেরা ভাবেই নাসিকের ডাম্পিং এরিয়ায় ফেলছে। মেডিক্যাল বের্জ্যর ভেতর রয়েছে, সিরিঞ্জ, সূচ, রক্ত, পূঁজযুক্ত তুলা, টিউমার, ব্যান্ডেজ-গজ, হ্যান্ডগ¬াভস, ওষুধ ও ওষুধের বোতল-শিশি, ব্ল্যাড ব্যাগ, স্যালাইন ব্যাগসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। আর এভাবে খোলা জায়গায় এসব বর্জ্য অপসারণ করায় যক্ষা, চর্মরোগসহ নানা সংক্রামক রোগে ঝুঁকি তৈরী হচ্ছে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের। পাশাপাশি ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইসিস সি এবং এইডসের ঝুঁকিতেও পড়ছে।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেডিক্যাল অফিসার শেখ মোস্তফা আলী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বর্জ্য মানেই ঝুঁকিপূর্ণ। যদি কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিয়ে বর্জ্য অপসারণ করা হয় তাহলে ঝুঁকির ১০০ভাগ সম্ভাবনা আছে। খোলামেলা ভাবে আবর্জনা অপসারণ করলে যত ধরণের রোগ আছে এর যেকোনো রোগী তাঁরা আক্রান্ত হতে পারে।

এত মারাত্মক ঝুঁকিতে থেকেও একেবারেই অজ্ঞ পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনের হরিজন সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এ বিষয়টিকে একেবারেই খাটো করে দেখছে। তবে সিটি কর্পোরেশন থেকে কেমন সুযোগড় সুবিধা পাচ্ছে এ প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে চাননি হরিজন সম্প্রদায়ের কোনো পরিচ্ছন্ন কর্মী।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে একজন বলেন, “এ কাজ বহু বছর ধরে করি। শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত খালি হাতে, পা, আর মুখোশ না পরেই কাজ করি। আমাদের কিছু হয় না। আমাদের এসব পরার প্রয়োজন নাই।”

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরণ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমরা তাদেরকে গ্লাফ্স, মুখোশ, জুতা এমনকি রেইক কোট দিয়ে দেই। কিন্তু তাঁরা এসব ব্যবহার না করে বাইরে বিক্রি করে দেয়।’

তিনি আরো বলেন, তাঁদের মধ্যে যাতে সচেতনতা তৈরী হয় এ জন্য বারবার তাদেরকে বলি। এমনকি তাঁদের বেতন আটকে দেই। তার পেরও এগুলো ব্যবহার করে না। তবে আগের থেকে অসচেতনতা অনেকটা কমেছে। এখন অনেকেই ব্যবহার করা শুরু করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর