নিজের চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ ৩০০ শয্যার তত্ত্বাবধায়কের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫১ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
নিজের চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ ৩০০ শয্যার তত্ত্বাবধায়কের

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান দুইটি সরকারি হাসপাতাল ৩০০শয্যা ও ১০০ শয্যা জেনারেল তথা ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের মেডিকেল বর্জ্য এখনো ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গায়।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় থাকা হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালকদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও প্রিজম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনারে উঠে আসে এ তথ্য।

এর প্রেক্ষিতে ৩০০শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল জাহের বলেন, আমার হাসপাতালে কিছুই নাই। হাসপাতালটি শুধু কাগজে ৩০০শয্যা। ২০০শয্যার লোক দিয়ে পরিচালনা করতে হয়। ৩০০শয্যা হাসপাতাল চালানোর জন্য ১৫০জন চিকিৎসক প্রয়োজন। আমার আছে মাত্র ৫৩জন। এই জনবল নিয়ে কিভাবে সেবা দিবো?

তিনি আরো বলেন, আমার হাসপাতালে ওটিপি নাই। ময়লা ফেলার জন্য বিন নাই। মেডিকেল বর্জ্য ধ্বংস করার জন্য যে যন্ত্র লাগে সেগুলোও নাই। মেডিকেল বর্জ্য ফেলার জন্য আমাদের আলাদা কোনো বাজেট নাই। হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন কর্মী যারা সবাই বৃদ্ধ। এরা নিজেরাই অসুস্থ। এই অবস্থা নিয়ে আমি কিভাবে চালাচ্ছি আমি জানি। ১মিনিট সময় পাওয়া যায় না কারো সাথে কতা বলার জন্য। এগুলো সব অব্যবস্থাপনার ফল। ৫০ বছর আগে যারা ছিল তাঁরা যদি আজকের অবস্থান চিন্তা করে সব করতো তাহলে এই অবস্থা হতো না।

অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের ভেতরে বখাটে ছেলেরা নেশা করে। কিন্তু সিকিউরিটির জন্য আমি কিছু বলতে পারি না। কিছু বলতে গেলে আমাকে উল্টো জিজ্ঞেস করে আপনি কে? হাসপাতালের বাইরে দোকান থাকার নিয়ম নাই। কিন্তু এখানে রয়েছে। গেইটের সামনে অটো স্ট্যান্ড। কেই শান্তিতে হাসপাতালে আসতে পারে না। আমি আসার সময় সরিয়ে দিয়ে আসি। কিছু সময় পরেই আবার আগের মতই হয়ে যায়। আমার যদি বডিগার্ড থাকতো তাহলে আমি কিছু করতে পারতাম। কিন্তু এখন কিছুই করার নেই।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর