ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে জ্বর সর্দির রোগীদের ভয়ে চিকিৎসক শূন্য


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:২৪ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার
ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে জ্বর সর্দির রোগীদের ভয়ে চিকিৎসক শূন্য

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জে জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতলে দেখা দিয়েছে চরম অনিয়ম। করোনাভাইরাস সহ সধারণ জ্বর, সর্দি ও কাশিতে চিকিৎসা ব্যবস্থার টালমাটাল অবস্থা দেখা দিয়েছে। জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা। এ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। তবে হাসপাতালের আরএমও বলছেন ভিন্ন কথা।

২৪ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের বর্হিবিভাগের বাইরের অংশে যেখানে প্যান্ডেল দিয়ে জ্বর, সর্দি ও কাশির চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয় তা একেবারে ফাঁকা ছিল। এসময় জ্বর, সর্দিতে আক্রান্ত কয়েকজন রোগী চিকিৎসক খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এর এক পর্যায়ে তাদের সাথে দেখা হলে নানা অভিযোগ তোলেন।

এসময় একজন রোগীর অভিভাবক জানান, তার মেয়ে গত তিন দিন যাবত জ্বর, সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে ভুগছেন। এতে করে বেশ ভীত হয়ে পড়েছেন। যেকারণে তিনি হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। তবে হাসপাতালে এসে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। কারণ কোন চিকিৎসক খুঁজে পাচ্ছেননা। এসময় জরুরী বিভাগে যোগাযোগ করলেও সবাই বর্হিবিভাগের অজুহাত দেখায়। কিন্তু বর্হিবিভাগের প্যান্ডেলে কোন চিকিৎসক নেই। তাই এখন পর্যন্ত ঘুরছি।

ছাত্তার মিয়া নামে আরেক রোগীর বাবা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, দীর্ঘ আধা ঘণ্টা যাবত রোগী নিয়ে ঘুরছি। কোন চিকিৎসক পাচ্ছিনা। কেউ বলছে এদিকে যেতে কেউ বলছে ওদিকে যেতে। বর্হিবিভাগের প্যান্ডেলে কোন চিকিৎসক নেই যেখানে জ্বর, সর্দি ও কাশির চিকিৎসার দেয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে ভীষণ বিপাকে পড়েছি।

রোগীরা অভিযোগ করে বলেন, করোনা আতঙ্কে চিকিৎসরা সেবা দিচ্ছেনা। জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগে এলেই চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো টালবাহানা করে বিদায় করে দেয়া হচ্ছে। এই রোগটা ছোয়াচে হওয়ার কারণে চিকিৎসরা সেবা দিতে ভয় পাচ্ছে। আর তাতে করে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছে।

এই অবস্থায় হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে চিকিৎসার অনিয়মের ব্যাপারে সদুত্তর দিতে পারেননি। এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দরজার সামনে একটি সাটানো ছিল, সাধারণ জ্বর, সর্দি ও কাশি হলে বাসায় চিকিৎসা নিন।’

ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, জ্বর সর্দি কাশির জন্য হাসপাতালের বাইরে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশে বাইরে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং হাসপাতাল থেকে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এটা খোলা আছে। দুপুরের পর জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, রোগীদের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ জ্বর, কাশি ও সর্দিতে বাসায় চিকিৎসা নিতে বলা হচ্ছে। এটা মূলত রোগীদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে বলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যে কোন ধরনের রোগী হোকনা কেন তাকে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। তবে রোগীদের চিকিৎসা সেবা না দেয়ার বিষয়টি তিনি বেশ কৌশলে এড়িয়ে যান। এসময় একজন চিকিৎসা সেবা না পাওয়া একজন রোগীকে অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেন এই কর্মকর্তা।

করোনা রোগী সম্পর্কে বলেন, করোনা রোগীর জন্য ৬টা বেড আলাদা করে রাখা হয়েছে। আর নতুন যে কোর্ট বিল্ডিং সেখানে ৫০ শয্যা আলাদা করে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। তাছাড়া চিকিৎসা সেবা নিতে আশেপাশের রোগীরাও করোনা রোগী থেকে আক্রান্ত হতে পারে। কিন্তু এই ঝুঁকি এড়ানোর কোন সুযোগ নেই। তাই সাধারণ জ্বর, সর্দি ও কাশিতে বাড়িতে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর